লন্ডনী কন্যা সেজে প্রতারণার শীর্ষে সিলেটের জাপা নেত্রী শিউলি

প্রকাশিত: ১০:০০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৫, ২০২০

লন্ডনী কন্যা সেজে প্রতারণার শীর্ষে সিলেটের জাপা নেত্রী শিউলি

Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার :: সিলেটে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে লন্ডনী কন্যা সেজে জাপা নেত্রী শিউলীর প্রতারণা। শক্তিশালী হচ্ছে ‘শিউলীর নারী প্রতারকদের সিন্ডিকেট’। শিউলীর সাথে অপরাধ জগতে জড়িত হচ্ছেন নিত্য নতুন তরুণীরা। সিলেটে মিডিয়া আলোচনায় নারী অপরাধীদের তালিকা বাড়ছে। কোন নারী ইয়াবায়, কেউ প্রতারণায় ও ছিনতায়ে। বেশির ভাগই দেখা গেছে মাদক নিয়ে আটক হচ্ছেন নারীরা। মিডিয়ার আলোচনায় ছিলেন আলোচিত যুব মহিলা লীগ থেকে বহিষ্কৃত শামীমা নূর পাপিয়া। ওই নারীকে নিয়ে মিডিয়া অঙ্গনে তোলপাড় চলছে। পাপিয়া মতো না হলেও তার চেয়ে কম নয় সিলেটের নারী অপরাধীরা ভয়ংকর প্রতারক জাপা নেত্রী শিউলী। সিলেটের নারী অপরাধীদের মধ্যে প্রতারণায় শীর্ষে রয়েছেন, অপরাধ সাম্রাজ্যের রাণী নারী নেত্রী শিউলী।

জাপা নেত্রী শিউলি চক্রের বিয়ে বাণিজ্য নতুন কিছু নয়। সম্প্রতি প্রতারণার ফাঁদে পরে সর্বস্ব হারিয়ে এখন দিশেহারা হারুন মিয়া। তিনি দক্ষিন সুরমার মোল্লারগাঁও ইউনিয়নের বেটুয়ার মুখ গ্রামের ময়না মিয়ার ছেলে।ভুয়া লন্ডনী কন্যার ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হারুন মিয়ার পরিবার। বিষয়টি জানাজানির কারণে হারুন মিয়ার পরিবারের লোকদের নিয়ে আড়ালে সবাই হাসাহাসি করে। জমি বন্ধক করে আনা ১ লক্ষ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ সবকিছু নিয়ে কথিত এই লন্ডনি কন্যা শিউলি আক্তার ও তার চক্র নিয়ে পালিয়ে যায়।

লন্ডনী সেজে বিয়ে করার কারণে মহিলা জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শিউলী বেগম ও তার দুই কাজের মেয়েকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার শিউলী বিশ্বনাথ উপজেলার কোনারাই গ্রামের তৌহিদ উল্লার মেয়ে।

আর দুই কাজের মেয়ের একজন হলেন সুনামগঞ্জের ছাতক থানার দোয়ালিয়া গ্রামের মৃত কাচা মিয়ার মেয়ে সুমনা আক্তার (১৯) আর অন্যজন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ঘোলডুবা গ্রামের মৃত আজাদ মিয়ার মেয়ে সিমা আক্তার (১৯)।

রোববার (৫ এপ্রিল) তাদেরকে সুনামগঞ্জ জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে আশরাফুল রহমান নামের এক মামলার প্রেক্ষিতে শনিবার রাতে জগন্নাথপুর উপজেলায় আশারকান্দি ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলার লোহারগাঁও গ্রামের আশরাফুল রহমানের সঙ্গে পরিচয় হয় সিলেটের ওসমানীনগর থানার করমসী গ্রামের রহিম উল্লাহর। পরিচয়ের সূত্রধরে গত ফেব্রুয়ারি মাসে আশরাফুলের সঙ্গে সিলেট নগরীর উপশহর এলাকায় একটি বাসায় লন্ডনী পাত্রী হিসেবে শিউলী বেগম দেখান রহিম উল্লাহ। ওই সময় শিউলী বেগম তার গ্রামের বাড়ী সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানার জিলপাইয়ে বলে জানান। পাশাপাশি শিউলী নিজেকে লন্ডনী কন্যা পরিচয় দেয়।

এরপর গত ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেটে একটি হোটেল নগদ ৫ লাখ টাকার কাবিন ও ৭ ভরি স্বর্ণালংকার দিয়ে শিউলী বিয়ে করেন আশরাফুল। বিয়ের পর তারা জগন্নাথপুরেই বসবাস করছিলেন। কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই শিউলী শশুরবাড়ীর লোকজনের সঙ্গে ঝগড়া করে তার বাবার বাড়ি চলে যায়। বাবার বাড়ি যাওয়ার কয়েকদিন পর শিউলী আশরাফুলকে মুঠোফোনে জানায় সে লন্ডন চলে যাচ্ছে। একই সাথে তাদের সম্পর্ক এখানেই শেষ বলেও জানায়।

এ ঘটনার কিছুদিন পর আশরাফুল রহমান জানতে পারেন শিউলী বেগম লন্ডন নেয়ার কথা বলে সম্প্রতি জগন্নাথপুরের আশারকান্দি ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের কামরুল ইসলামকে বিয়ে করেছেন। এ খবর পেয়েছে আশরাফুল গত ৩ এপ্রিল রাতে কামরুল ইসলাম ও তার পরিবারের লোকজনকে জানায়, শিউলী লন্ডনী পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যম বিয়ের নামে ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেয়। এরপর আশরাফুল জগন্নাথপুর খানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে কামরুল ইসলামের বাড়ি থেকে ভুয়া লন্ডনী কন্যা শিউলী বেগমসহ তার অপর দুই কাজের মেয়ে গ্রেপ্তার করে।

মামলার বাদী আশরাফুল রহমান জালান, আমাকে ফাঁসিয়ে বিয়ের কাবিনের মাধ্যমে নগদ ৫ লাখ টাকা ও সাত ভরি স্বর্ণ নিয়ে কৌশলে পালিয়ে যায় শিউলী বেগম। আমি জানতে পারি আমার মতো আরেকটা ছেলেকে প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ের নামে প্রতারিত করা হচ্ছে। বিষয়টি থানায় লিখিতভাবে জানাই।

জগন্নাথপুর খানের ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, প্রতরণাচক্রের ভুয়া লন্ডনী কন্যাসহ গ্রেপ্তারকৃত তিনজনকে সুনামগঞ্জ জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে।

কে এই শিউলি আক্তার?
দিলশানারা বেগম তার ছদ্মনাম। তার আরো অনেক নাম আছে। এই নামটি তিনি ব্যবহার করেন প্রতারণার ক্ষেত্রে। তার আসল নাম শিউলি আক্তার। তিনি জাতীয় মহিলা পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট মহানগরের সভাপতি। সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার কুনারই গ্রামের মৃত তৌহিদ উল্লাহর মেয়ে তিনি। বর্তমানে শিউলি নগরীর মেন্দিবাগস্থ গার্ডেন টাউয়ারের ৮ তলার ৪০৮৬ নং ফ্লাটে বসবাস করেন।

এখানে শামীম আলম নামের এক ব্যক্তিকে নিজের স্বামী পরিচয়ে দিয়ে বসবাস করছেন শিউলি। প্রতারণার সময় নিজের নাম শামীম নাম ব্যবহার করেন মিষ্টার ডেভিড হিসেবে। নিজেকে পরিচয় দেন শিউলির নানা, চাচা, মামা বলে।

তাছাড়া শিউলির ২০/২২ বছরের এক ছেলে রয়েছে। শিউলি বাংলাদেশী নাগরিক হলেও পরিচয় দেন ব্রিটিশ সিটিজেন আবার কোন সময় আমেরিকান নাগরিক হিসেবে। তার রয়েছে একটি ভূয়া ব্রিটিশ পাসপোর্ট।

প্রভাবশালীদের যোগসাজশে নারী নেত্রী শিউলি আক্তার প্রতারণার পাহাড় গড়েছেন। মাদক সেবন, মাদক ব্যবসা, ফ্লাটে দেহ ব্যবসা, হুমকি, লন্ডনী কনে সেজে প্রতারণার ছবি, ভিডিওসহ অসংখ্য অভিযোগের প্রমাণ রয়েছে স্ংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। বর্তমানে তিনি নগরীর উপশহরে সি ব্লকের ৩৮ নং রোডের প্যারিস ভিলার নীচ তলার একটি ফ্লাট থেকেই এসব অপকর্ম করে যাচ্ছেন। জাপা নেত্রী শিউলির এমন প্রতারণার তথ্য সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares