সিলেট জেলা পুলিশ সুপারের ব্যতিক্রমী আয়োজন

প্রকাশিত: ১২:২১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১, ২০২০

সিলেট জেলা পুলিশ সুপারের ব্যতিক্রমী আয়োজন

Sharing is caring!

সাইফুল আলম :: সাম্প্রতিক সময়ে সারা বিশ্বে মহামারি আকার ধারন করছে করোনা ভাইরাস।বাংলাদেশও এ শংকার বাইরে নয়।ইতিমধ্যে ৪৯ জন আক্রান্ত হয়েছে যার মধ্যে ৫ জন মৃত্যুবরণ করেছে।বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্থার পর্যালোচনা অনুযায়ী বাংলাদেশ করোনা ভাইরাস সংক্রমনের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।

বাংলাদেশে যেন করোনা ভাইরাসের সংক্রমন মহামারি আকার ধারন করতে না পারে সেজন্য করোনা ভাইরাস সংক্রমন প্রতিরোধে সর্বস্তরের জনসাধারণ কে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে যার যার বাড়িতে অবস্থান করতে সরকারী নির্দেশনা রয়েছে।পাশাপাশি জরুরী সেবা ব্যতিত সব সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সরকারের এরুপ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে পুলিশ সহ অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মাঠে সার্বক্ষনিক কাজ করছে।

ফলে মানুষ নিজের সচেতনতাবোধ থেকে কেউবা বাধ্য হয়ে যার যার বাড়িতে অবস্থান করতে হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বিপাকে পরেছে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। আশার বানী হল এরকম মানুষদের অনাহারে কিংবা অর্ধাহারে থাকতে না হয় সেজন্য ইতিমধ্যে সরকারী উদ্যোগ থেকে শুরু করে সামাজিক রাজনৈতিক বিভিন্ন সংঘটন এমনকি ব্যক্তি উদ্যোগেও অনেকেই তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে যা সত্যিই প্রশংসনীয় ।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমন প্রতিরোধে সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী মানুষকে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে যার যার ঘরে রাখতে কাজ করছে পুলিশ। পুলিশের জন্য এ কাজটি কখনো সুখকর নয়। কারন করোনা ভাইরাসের মহামারি ঠেকাতে বৃহত্তর স্বার্থে মানুষকে ঘরে রাখতে পুলিশ কাজ করলেও তাতে এক শ্রেনীর মানুষের আয় বন্ধ হয়ে গেছে সেটি আমরা খুব ভাল করেই উপলব্ধি করতে পেরেছি। হয়তো এরকম উপলব্ধি থেকেই বাংলাদেশ পুলিশের প্রত্যেকটি ইউনিট সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে নিজস্ব উদ্যোগে আর্ত মানবতার সেবায় এগিয়ে আসছে।

এরই ধারাবিহকতায় সিলেট জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম স্যার জেলা পুলিশের কল্যান তহবিল (যেটি পুলিশ সদস্যদের মাসিক সামন্য চাঁদা দিয়ে গঠিত) থেকে জেলার প্রত্যেকটি থানায় করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারনে যেসব নিম্ন আয়ের মানুষ অতি কষ্টে জীবন যাপন করছে তাদের জন্য কিছু নিত্যপন্য খাদ্য দ্রব্য পৌছে দেবার পরিকল্পনা করেছেন। সেই অনুযায়ী আজ (৩১ মার্চ) বিকালে জৈন্তাপুর থানা প্রাঙ্গনে ২০০ পরিবার এবং সাঁড়িঘাটস্থ বেদে পল্লীতে ৫০ পরিবারের নিকট খাদ্য দ্রব্য পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়।

অবাক করার বিষয় হল এসপি স্যারের নিজস্ব পরিকল্পনায় এসব আয়োজনে ছিল ব্যতিক্রম কিছু শিক্ষনীয় বিষয়। সাধারণত গতানুগতিক ধারা অনুযায়ী ত্রাণ বিতরন কার্যক্রমে সবসময় যেটা দৃশ্যমান হয় সেটি হল সাহায্য প্রত্যাশীরা অনেক দুর থেকে নির্দিষ্ট স্থানে এসে দীর্ঘ্য সময় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়।আয়োজক এবং অথিতিদের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা শেষে সাহায্য প্রার্থীরা তাদের প্রত্যাশিত সাহায্য পেয়ে থাকে।এটা দুষের কিছু না কারন দীর্ঘদিন থেকে আমাদের সমাজে এরকম রীতি চলে আসছে।তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এরকম রীতি যে ভাঙ্গাও যায় আজকে তা প্রত্যক্ষ করলাম।

লেখক- সহকারী মিডিয়া অফিসার, সিলেট জেলা পুলিশ ও ওসি, ডিবি (উত্তর)।

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares