জাফলংয়ে গোল চত্বর নির্মানে অনিয়ম, সওজের প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ

প্রকাশিত: ১০:৪৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৩, ২০২০

জাফলংয়ে গোল চত্বর নির্মানে অনিয়ম, সওজের প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ

Sharing is caring!

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি :: সিলেট-তামাবিল মহা সড়কের জাফলং মামার বাজার পয়েন্টে গোল চত্তর নির্মাণসহ ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমে সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে বড় অংকের ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।

এরই প্রেক্ষিতে সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগের সার্ভেয়ার মোঃ আমজাদ হোসেন,উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাসুম আহমদ,উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (রাজস্ব) আনিছুর রহমান,নির্বাহী প্রকৌশলী রিবেন বড়–য়াসহ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে ১টি স্মারক লিপি দেয়া হয়েছে। ডকেট নং- ৯৯,তারিখ: ১৮/০৩/২০২০ ইং।

স্মারক লিপিতে ক্ষতিগ্রস্থ মামার বাজারের ক্ষতিগ্রস্থ্য ব্যবসায়ী ও মার্কেট মালিকরা অভিযোগ করেন যে,বিগত ০৭/০৮/২০১৯ ইং তারিখে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের ভূমি অধিগ্রহণের ম্যাপ ও অধিগ্রহণকৃত ভূমি মালিকদের একটি তালিকা প্রস্তুত করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। অধিগ্রহণকৃত অত্র এলাকার ভূমির মালিকগণ উক্ত ম্যাপ অনুযায়ী কোন প্রকার আপত্তি কিংবা কারো কোন অসম্মতি ছিল না। ভূমি অধিগ্রহণকল্পে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব,সহকারী কমিশনার,গোয়াইনঘাট, সড়ক ও জনপথ কর্মকর্তা স্থানীয় চেয়ারম্যান ও অধিগ্রহণকৃত ভূমির মালিক ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে ম্যাপ অনুযায়ী অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন ভূমি সরেজমিন পরিদর্শন করা হয় এবং প্রথম প্রস্তুতকৃত ম্যাপ অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণ করা হইবে মর্মে তাদেরকে জানানো হয়।

পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী ও মার্কেট মালিকগণ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এল.এ.শাখায় ভূমির ক্ষতি পূরণ বাবদ টাকা প্রাপ্তিতে কাগজ পত্রাদি দাখিলারী সম্পর্কে জানার জন্য গেলে সেখান থেকে জানানো হয় সিলেট সড়ক ও জনপথ অফিস হইতে ভূমি অধিগ্রহণ ফাইল এসেছে,তবে এখনো কোন প্রকার ভুমি মূল্য নির্ধারণ হয়নি। সওজ থেকে প্রেরীত ফাইলটিতে দেখা যায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক যে ম্যাপ অনুযায়ী মামার দোকান পয়েন্টসহ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন, সেই ম্যাপটিতে বড় ধরণের পরিবর্তন করা হয়েছে এবং একই তারিখে উল্লেখিত সড়ক ও জনপথের কর্মকর্তাগণ স্বাক্ষরিত ম্যাপ প্রস্তুতক্রমে পূর্বের অধিগ্রহণকৃত ভূমি মালিকদের নাম,তালিকাসহ ফাইলটি দাখিল করা হয়।

দাখিলকৃত ম্যাপ অনুযায়ী অধিগ্রহণকৃত ভূমির মালিকগণ বিশেষ সুবিধা পেতে সড়ক ও জনপথের অসাধু কর্মকর্তা বৃন্দের যোগসাজসে নতুন নকশা তৈরি করে দাখিল করা হয়। প্রস্তুতকৃত নতুন নকশার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকদের পক্ষে শামীম পারভেজ ও ভূমি মালিক কমিটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত একাধিক দরখাস্ত সিলেট জেলা প্রশাসক বরাবরে দাখিল করা হয়।

এরই মধ্যে গত ০৩ মার্চ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসক এল.এ শাখার কর্মকর্তাবৃন্দ সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ ভূমি অধিগ্রহণকৃত ভূমি মালিকদের নামের তালিকা অনুযায়ী প্রত্যেক ৪ধারার নোটিশ প্রদান করা হয় এবং নোটিশ মোতাবেক ১৬মার্চ ২০২০ ইং তারিখে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা,জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এল,এ শাখার কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে নতুন নকশা অনুযায়ী তদন্ত কাজ শুরু হয়।

সওজের দাখিল করা নতুন উক্ত নকশায় ভূমি মালিকদের আপত্তি থাকলেও যৌথ তদন্ত কর্মকর্তাবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্থ ভূমি মালিক ও ব্যবসায়ীদের কোন দিক নির্দেশনা মূলক পরামর্শ না দিয়ে এক তরফা এবং মনগড়াভাবে তদন্ত কাজ সম্পন্ন করে গেছেন বলে অভিযোগ করেন স্মারক লিপি প্রদানকারীরা।

ক্ষতিগ্রস্থরা জানান,উভয়কুল থেকে অধিগ্রহণ স্বাপেক্ষ জনস্বার্থে মূল নকশায় উক্ত প্রকল্পের মামার বাজার পয়েন্টে গোল চত্তর নির্মাণসহ সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের কাজ বাস্তবায়িত হলে তাদের কোন সমস্যা নেই,কিন্তু নতুনভাবে সওজের দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের তৈরিকৃত নকশায় ভূমি অধিগ্রহণ হলে তারা ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। এ ঘটনায় জড়িত দুর্নীতিবাজ সওজ কর্মকর্তাদের শাস্তি দাবী করে মূল নকশায় প্রকল্পের কাজের বাস্তবায়নের দাবী জানান তারা। সরজমিনে পরিদর্শনকালে এ ব্যাপারে কথা হয় ভুক্তভোগিদের সাথে। নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট একটি সুত্র মতে সওজের সার্ভেয়ার আমজাদ,এসও মাসুমসহ সওজ কর্মকর্তারা মামার বাজার পয়েন্টসহ আশপাশের মার্কেট মালিকদের কাছ থেকে ৫০ লক্ষ টাকার মতো বখরা আদায় করেছেন। প্রভাবশালী এক স্থানীয় বিএনপিনেতা তার কতিপয় সহযোগি নিয়ে মামার বাজারের বৃহৎ একটি মার্কেট মালিক মামার বাজার পয়েন্টে সওজের নকশা পরিবর্তনের জন্য বখরা বাবদ অগণিত দোকান থেকে ৪০ হাজার টাকা হারে টাকা তুলে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা সওজের এসও মাসুম ও সার্ভেয়ার আমজাদের মাধ্যমে সিলেট সওজ অফিসের জন্য পাঠিয়েছেন।

সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী মার্কেট মালিকদের পক্ষে স্মারক লিপিতে স্বাক্ষর করেন আব্দুল হাফিজ,আনোয়ার হোসেন জুবায়ের,শামীম পারভেজসহ মার্কেট মালিকগণ। উল্লেখ্য সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের মামার বাজার অংশের ভুমি অধিগ্রহণের অনিয়মের বিষয়ে দীর্ঘদিন থেকে সওজ প্রকৌশলীদের বিরোদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই।

গত ২৯ ফেব্রুয়ারী সরকারের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের জাফলং মামার বাজার অংশ পরিদর্শন আসলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসি মামার বাজার অংশের অধিগ্রহণসহ নির্মাণ কাজে ধিরগতিসহ অনিয়ম দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরলে মন্ত্রি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে ক্ষোভ ঝাড়েন। মন্ত্রির পরিদর্শন পরবর্তী গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হলে সিলেট সওজের উচ্চপদস্থ একজন প্রকৌশলীকে অন্যত্র বদলীও করা হয়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares