ভূমি ফিরে পেতে কমিশনার ও ডিসির কাছে সংখ্যালঘু পরিবারের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৮:৪০ অপরাহ্ণ, মার্চ ২২, ২০২০

ভূমি ফিরে পেতে কমিশনার ও ডিসির কাছে সংখ্যালঘু পরিবারের অভিযোগ

Sharing is caring!

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : গোয়াইনঘাটে চা-শ্রমিক মুক্তিযুদ্ধে পাাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক নিজ বাড়ীতে নির্মমভাবে হত্যা কান্ডের শিকার এবং দেশ স্বাধীনের পর যাবতীয় স¤পদ একটি ভূমিখেকো চক্র হাতিয়ে নিয়ে সেই সুখ সইতে না পেরে পাগল হয়ে মৃত্যু বরণ করেন চা-শ্রমিক শ্রী মখর সিং। মখর সিংয়রে ছেলে শ্রী গণেষ সিং উরফে গদাধর সিং তার দাদা গণেষ সিং মুক্তিযুদ্ধা স্বীকৃতি ও তার বিশেষ সম্পদ ভূমি খেকো চক্রের হাত থেকে ফিরে পেতে রবিবার বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগ নামা দাখিল করেছেন।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গোয়ানইঘাট উপজেলার ৬ নং ফতেপুর ইউনিয়নের বড়নগর গ্রামে ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে গণেষ সিং চা-শ্রমিকদের সংগঠিত করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহনের লক্ষ্যে নিজ বাড়ীতে বৈঠক করেন। স্থানীয়রা রাজাকারদের মধ্যে খবর পেয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিজ বাড়ীতে গণেষ সিং ও পাশের বাড়ির শ্রী সিতারাম কুরমীকে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করে। গণেষ সিং ২ ছেলে ও ২ মেয়ে রেখে যান এবং গণেষ সিংয়ের প্রায় ৭ একর জায়গা ছিল। পরবর্তীতে তার ছেলে মখর সিং আরো ৭ একর জায়গা ক্ষয় করে এবং এই ১৪ একর জায়গার সাথে একটি সরকারি খাচ টিলা যার পরিমাণ ৩ একর ৪৬ শতক। মখর সিং পরিবারকে উচ্ছেদের লক্ষ্যে প্রথমে ১৪ একর জায়গা থেকে বের করে দেয় একটি ভূমিখেকো সেই সুখ সইতে না পেরে পাগল হয়ে মারা যান মখর সিং ও তার ভাই। ভাইয়ের এক ছেলেকে হুমকি দিয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেন। মখর সিংয়ের ছেলে, মেয়ে ও স্ত্রী থেকে যান সরকারি খাচ ভূমিতে। বিভিন্ন হাত বদল হয়ে জগন্নাথপুর বাড়ি লন্ডন প্রবাসী আখতারুজ্জামান নামক এক ব্যাক্তি এসে ২০১২ সালে খাচ টিলা থেকে মারধর করে বের করে দেন গদাধর সিংয়ের পরিবারকে। চা-শ্রমিক হওয়ায় প্রতিবাদ করায় কোনো সুযোগ পাননি গদাধর সিং। সম্প্রতি বড়নগর বড়গুল গ্রামে সরকারি গুপাট আখতারুজ্জামান কর্তৃক এক্সবেটার মেশিন দিয়ে ভরাট করে এবং সরকারি খাচ টিলার উপর স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করার কারণে গ্রামবাসী প্রতিবাদ করেন এবং সিলেট জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

গদাধর সিংকে তার জায়গা পেতে সার্বিক সহযোগিতা আশ্বাস প্রদান করায় তিনি জীবনের ঝুকি নিয়ে বিশেষ সম্পদ ও তার দাদা শ্রী গণেষ সিংয়ের মুক্তিযুদ্ধার স্বীকৃতি পেতে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন।

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares