সূর্যমুখীতে স্বপ্ন বুনছেন গোয়াইনঘাটের কৃষক

প্রকাশিত: ৪:১১ অপরাহ্ণ, মার্চ ২১, ২০২০

সূর্যমুখীতে স্বপ্ন বুনছেন গোয়াইনঘাটের কৃষক

Sharing is caring!

এইচ.কে শরীফ সালেহীন :: প্রথমবারের মতো সূর্যমুখী চাষ করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন প্রান্তিক কৃষক দিদারুল আলম। সূর্যমূখীর সাধারণ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন ভ্রমণ পিপাসী মানুষেরা। মৌমাছিরাও পেয়েছে মধু আহরণের অনন্য এক উপাদান।
দিদারুল আলম একজন উচ্চ শিক্ষিত কৃষি উদ্যোক্তা। যার রয়েছে কৃষি উদ্যোগে অনবদ্য অবসান। যিনি সারা বছরব্যাপী মৌসুমি সবজি উৎপাদন করে থাকেন। একটি সুন্দর পরিপাটি নার্সারি ও রয়েছে তার। ইতিমধ্যে একজন কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার  ফতেপুর ইউনিয়নের গুলনী গ্রামের কৃষক দিদারুল আলম প্রথমবারের মতো সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। সরকারি প্রদর্শনীর আওতায় ১ বিঘা জমিতে তিনি সূর্যমুখী ফুলের আবাদ করেন। এলাকার অন্য এই ক্ষেত দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। সবাই আগামী বছর ক্ষেত করবেন বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন।
ইতিমধ্যে সূর্যমুখীর গাছগুলোতে ফুল ফুটতে শুরু করেছে। ফুলে ফুলে উড়ছে মৌমাছির দল। মধু আহরণে ব্যস্ত তারা। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণ পিপাসুরা দল বেঁধে আসেন বাগানটি এক পলক দেখার জন্য। তবে এখন করোনা ভাইরাসের (কোভিড-৯৯) ভয়াবহতার কারণে পর্যটক আসা অনেকটা কমে গেছে। দূরদূরান্ত থেকে এখন আসছেন না তারা।
এ ব্যাপারে কৃষক দিদারুল আলম বলেন, আমি আমার জমিতে বছরব্যাপী বিভিন্ন ধরনের শাক সবজির চাষ করি সাধারণত। এ বছর আমি আমার ব্লকের কৃষি অফিসারের পরামর্শে প্রথমবারের মতো সূর্যমুখী ফুলের চাষ করি। কৃষি অফিস থেকে আমাদের বিনামূল্যে বীজ ও সার দেয়া হয়েছে।ইতোমধ্যেই প্রতিটি গাছেই ফুল ধরেছে। আশা করি সূর্যমুখী চাষে সফলতা আসবে। লাভবান হতে পারব।
তিনি আরো জানান, এ পর্যন্ত সূর্যমূখীর অবস্থা ভালোই দেখছেন। প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগের কবলে না পড়লে সূর্যমুখীতে লাভবান হবেন বলা আশা তার।
স্থানীয় ব্লকের কৃষি অফিসার মোক্তার হোসেন বলেন‘‘আগে কখনো দিদারুল আলম সূর্যমুখী ফুলের চাষ করতেন না। মুজিববর্ষ উপলক্ষ‌্যে প্রথমবারের মতো এ বছর সরকারের রাজস্ব খাতের অর্থায়নে গোয়াইনঘাট  উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ২০ বিঘা জমিতে ১২ জন কৃষক সূর্যমুখী চাষ করেছেন।
‘সূর্যমুখী চাষের ৯০ থেকে ১০৫ দিনের মধ্যেই কৃষকরা বীজ ঘরে তুলতে পারবেন। প্রতি বিঘা জমিতে ছয় থেকে সাড়ে ছয় মণ সূর্যমুখী ফুলের বীজ পাওয়া যাবে। বিঘা প্রতি কৃষকরা ১০/১১ হাজার টাকার বীজ বিক্রি করতে পারবেন। কৃষকদেরকে স্বাবলম্বী করতেই সূর্যমুখী ফুল চাষে উৎসাহিত করা হয়েছে। যদি সফল হওয়া যায় আগামীতে সূর্যমুখীর চাষ অনেক বাড়বে।”
স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান চৌধুরী বলেন,দিদারুল একজন আদর্শ কৃষি উদ্যোক্তা। একজন শিক্ষিত তরুণ স্রোতের প্রতিকূলে গিয়ে কৃষি ও কৃষক নিয়ে অনেকদিন ধরে নীরবে কাজ করে যাচ্ছে। সত্যিকার অর্থে সে আমাদের জন্য আইডল। তাকে দেখে অন্যরা শিখুক সেটাই প্রত্যাশা আমার।

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares