করোনা ভাইরাস আতঙ্ক: মাথা ব্যাথা নেই জৈন্তাপুরের চোরাকারবারী সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের

প্রকাশিত: ৯:০৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০২০

করোনা ভাইরাস আতঙ্ক: মাথা ব্যাথা নেই  জৈন্তাপুরের চোরাকারবারী সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের

Sharing is caring!

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি :: জৈন্তাপুর উপজেলায় করোনা ভাইরাস সন্দেহে ৫ প্রবাসী হোম-কোয়ারেন্টাইনে। সপ্তাহের দুই দিনে বাজার করতে জৈন্তাপুরে আসা-যাওয়া করে শতাধিক ভারতীয় নাগরিক, গভীর রাতে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করছে হাজার হাজার গরু মহিষ। বিজিবি-পুলিশ সহ প্রশাসনের ভূমিকা ধরি মাছ না ছুই পানি, আর করোনা ভাইরাসের মত মহামারী নিয়ে আতংকিত গোটা বিশ্ববাসী। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের কমিটি গঠন।

সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার এক তৃতীয়াংশ এলাকা ভারত সীমান্ত ঘেশা। তাই সীমান্তে কম-বেশ চোরাচালান নিত্যদিনের ঘটনা বলা চলে। চোরাই পথে মাদক ছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন রকম পণ্য অবৈধভাবে পাচার এবং ভারতীয় পণ্য প্রবেশ যেনো হর-হামেশার ঘটনা। ২০১৮ সালের শেষের দিকে জৈন্তাপুর সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করতে শুরু হয় বিচ্ছিন্নভাবে গরু-মহিষ, যা ২০১৯ সালে বিরাহীনভাবে চলে ভারত থেকে অবৈধভাবে গরু-মহিষ অনুপ্রবেশ।

উপজেলার লালাখাল, জৈন্তাপুর, শ্রীপুর, কেন্দ্রী, মিনাটিলা, ডিবিরহাওড়, গোয়াবাড়ী, টিপরাখলা সহ বিভিন্ন স্থান দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার গরু-মহিষ বাংলাদেশে প্রবেশ করছে প্রতিনিয়ত। এ সকল গরু-মহিষ নিয়ে আসার জন্য বাংলাদেশ থেকে একদল শ্রমিক ভারতে অনুপ্রবেশ করে ৩ থেকে ৪ দিন অবস্থান করে ভারতীয় নাগরিকদের সাথে উঠা-বসা করে এবং গরু-মহিষ নিয়ে ফেরত আসতে কথিপয় ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। অথচ বাংলাদেশের প্রায় সকল স্থল বন্দর দিয়ে কোন বাংলাদেশী নাগরিককে বৈধ পথে ভারতে যেতে দেওয়া হচ্ছে না, বরং যারা ইতোপূর্বে ভারতে গিয়েছিল তারা ফেরত আসার সময় পরিক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সতর্কতার সাথে করোনা ভাইরাস নির্ণয় করা হচ্ছে। কিন্তু জৈন্তাপুর উপজেলা সদরের হাটের দিন রোববার এবং বুধবার যে সকল ভারতীয় নাগরিক অবৈধভাবে আসা-যাওয়া করছে তাদের মধ্যে যদি কেউ করোনা ভাইরাসে আত্রুান্ত থাকে তা হলে সেটা নির্ণয় করবে কে, গরু-মহিষের সাথে জড়িতদের ভাইরাস শনাক্ত করবে কে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন করোনা ভাইরাসের কারনে সরকার যখন দেশের সকল স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষনা করেছে, দেশের বাহিরে সকল বিমানের ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে, সকল পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে, তাতে প্রতিদিন সরকারের নিশ্চয় কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হচ্ছে, উন্নত বিশ্বের অধিকাংশ দেশই হোম-কোয়ারেন্টাইন ঘোষিত, সেখানে জৈন্তাপুরের সীমান্তরক্ষি (বিজিবি) ও আইনশৃংখলা বাহিনী সহ স্থানীয় প্রশাসন শুধুমাতত্র সচেতনতামূলক প্রচারনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

মানুষ ভীতসন্ত্রস্থ্য, বিশ্বব্যাপি কি এমন মহামারী দেখা দিয়েছে, আমরা কেমন আছি, কি হবে আমাদের, আমরা কতটা নিরাপদে আছি। আর গরু-মহিষ চোরাচালানের সাথে জড়িত ব্যবসায়ীদের মনে বিন্দুমাত্র আতংক নেই বললেই চলে, তারা শুধু টাকা রোজগার করছেন, গরু-মহিষ এবং বহিরাগত নাগরিকদের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস সংত্রুমিত হলে কিংবা জৈন্তাপুর উপজেলার মানুষ আত্রুান্ত হলে তাদের কিছু যায় আসে না। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিব) সীমান্তের অতন্ত্র প্রহরী তার মানে এই নয় যে, প্রতিদিন তাদের চোকে ফাকি দিয়ে হাজার হাজার গরু-মহিষ বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। একটি গরুর পাল সীমান্ত থেকে বিজিবির চোকে ফাকি দিলেও সেখানে পুলিশ ভূমিকা রাখতে পারে। তাও যদি সম্ভব না হয় তা হলে এই গরু-মহিষ জৈন্তাপুর বাজারে প্রায় এক দিন এক রাত অবস্থান করলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশ্চয় ভূমিকা রাখতে পারেন। কারন উপজেলার ৪টি তপশিলী বাজার সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী সপ্তাহে দুই দিন হাট বসে, তার মধ্যে একদিন গরু-মহিষ ত্রুয়-বিত্রুয় হয়। উপজেলা সদরের হাট বসে রোববার ও বুধবার, আর তাও গরুর হাট বসবে শুধু মাত্র বুধবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। তাই সপ্তাহের নির্ধারিত এই দিন এবং সময়ের বাহিরে যে কোন সময় ইউএনও অভিযান দিয়ে গরু-মহিষ আটকের মাধ্যমে এই চোরাচালান বন্ধ করতে পারেন।

গত ৮ মার্চ উপজেলা আইনশৃংখলা কমিটির মাসিক সভায় করোনা ভাইরাস তথা গরু-মহিষ চোরাচালানের উপর বিস্তর আলোচনা হয়। এসময় উপস্থিত অনেকেই এর জন্য প্রথমত বিজিবিকে দায়ী করেছে। এক পর্যায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ উপস্থিত সকলের সিদ্ধান্ত মতে জৈন্তাপুর উপজেলার কোন সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় নাগরিক ও গরু-মহিষ প্রবেশের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। কিন্তু কার কথা কে শুনে, আর নির্দেশার উপর কি আর আমল করা হলো। আইনের প্রতি যেমন কোন শ্রদ্ধাবোধ নেই তেমনি করোনা ভাইরাসের মত মহামারীতেও কারও কোন ভয় নেই।

এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ আমিনুল হক সরকার বলেছেন এ পর্যন্ত জৈন্তাপুর উপজেলার ৪ জন বিদেশ ফেরত ও একজন পরিবার প্রধানকে আমরা হোম-কোয়ারেন্টাইনে রেখেছি। আমরা আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩য় তলায় ২টি বেডের একটি আইসোলেশন ইউনিট স্থাপন করেছি।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদা পারভীন’র সাথে আলাপকালে তিনি জানান করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ইতোপূর্বে ৯ সদস্য বিশিষ্ট্য একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাছাড়া উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জন-সচেতনতামূলক প্রচার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares