বিদায়ী বছরের সফলতা গুলো আপনাদের, ব্যার্থতার দায়টুকু আমি নিলাম: উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক

প্রকাশিত: ৮:১৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৮, ২০২০

বিদায়ী বছরের সফলতা গুলো আপনাদের, ব্যার্থতার দায়টুকু আমি নিলাম: উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক

Sharing is caring!

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি :: পঞ্চম ( ৫ম) উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের এক বছর সময় আজ ১৮ মার্চ (বুধবার) পার হলো। একই সাথে গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে মোহাম্মদ ফারুক আহমদের ৫ বছর সময় সীমা থেকে চলে গেছে একটি বৎসর। বিগত বছরটিতে গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছে ফারুক আহমদের; নানা সফলতা।

সিলেটের বিশাল আয়তনের সীমান্ত জনপদ গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের সীমিত আয় ও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বরাদ্দ দিয়ে বিশাল আয়তনের উপজেলাটির জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধান ও চার লক্ষাধিক মানুষে চাহিদা, অভাব অভিযোগ পুরনে ব্যার্থতার দায় একেবারে এড়ানো যাবেনা। তারপরও স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আন্তরিকতার ঘাটতি ছিলনা। আপনাদের মহামূল্যবান ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আমাকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করায় এক বছরে আমার মাধ্যমে যতটুকু সফলতা অর্জিত হয়েছে তার মালিক পূরো উপজেলা বাসীর। গত এক বছরের ব্যার্থতার বিষয় গুলো নতশিরে মেনে নিলাম। বঙ্গবন্ধুর তনয়া গনতন্ত্রের মানসকন্যা জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মিশন ও ভিশনকে মনে প্রানে লালন করি।

এছাড়া সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি মহোদয়ের সার্বিক দিক নির্দেশনা ও সহযোগিতা বিগত একবছরে চলার পথকে সুগম করেছে। উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান দ্বয়,বিদায়ী ও বর্তমান ইউএনও, ওসি, ৯ টি ইউনিয়ন ,পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার, সরকারি /বেসরকারি বিভাগীয় কর্মকর্তা,কর্মচারী, গণমাধ্যম ব্যাক্তিবর্গ,আওয়ামী লীগের সভাপতি /সম্পাদকসহ অঙ্গসংঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি, শিক্ষক মহল ও শিক্ষার্থীসহ সুশীল সমাজের প্রতিজন মানুষের সার্বিক সহযোগিতা ছিল গেল বছরের প্রতিটি কাজকর্মে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ গোয়াইনঘাটে কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীদের জানান,তিনি জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এডিপির ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, ইজিপিপি থেকে ৫২ লাখ টাকা, টিআর, কাবিখা/কাবিটা ও সোলার নন সোলারসহ ৪৪লাখ ৬৯হাজার,৬২৩ টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। টিডিপিয়ের আওতায় সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক ১০ লক্ষ টাকার প্রশিক্ষণ চলমান এবং অবকাঠামো উন্নয়নে ইতোমধ্যে ৩০ লক্ষ টাকার অবকাঠামো কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ১০ লক্ষ টাকার ডিজিটাল পাঠদানের উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

আরো ৪০ লক্ষ টাকার প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে এবং শিঘ্রই সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণের জন্য আরো ১০ লক্ষ টাকার প্রস্তাব প্রেরণ করা হবে।২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে মোট প্রায় ৪ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা সরকারি বিধি অনুযায়ী ০৯ টি ইউনিয়নের মধ্যে বিভাজন করা হয়েছে। যা জুন/২০২০ খ্রি. এর মধ্যে সকল প্রকল্প দৃশ্যমান হবে। ইতোমধ্যে বেকার প্রশিক্ষিত নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ ও সুপেয় পানির জন্য জনসাধারণের মধ্যে নলকূপ সরবরাহ করা হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের সাথে সাথে একটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছি যা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আওতাধীন Paid peer Volunteer নিয়োগ।

এ নিয়োগে শিক্ষিত বেকার ৮১জন নারীর কর্মসংস্থান হয়েছে যা বর এ স্বল্প সময়ের মধ্যে সাধ্যমত চেষ্টা করেছি জনগণের সেবা দেয়ার , শারীরকি অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা নিতে মাত্র এক মাসের জন্য আমেরিকা ও সিঙ্গাপুর গিয়েছিলাম।আমার নির্বাচনী ওয়াদা ছিল বছরে একবার চিকিৎসা/পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করার জন্য দেশের বাহিরে যাবো এবং কথা দিয়ে ছিলাম, আমি উপজেলা সদরে থেকে সাধ্যমত আপনাদের সেবা নিশ্চত করব, আমি আপনাদের সাথে করা ওয়াদা অনুযায়ী উপজেলা কমপ্লেক্সের মধ্যে অবস্থান করে সাধ্যমত সেবা দিয়ে যাচ্ছি এবং বছরে একবার দেশের বাইরে যাচ্ছি।

আপনারা নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন ও মান সম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিদিন বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শন অব্যাহত রাখছি এবং ২০১৯-২০২০ অর্থ বছররে বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে যাতে গোয়াইনঘাটে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পায় । ;দায়ত্বি গ্রহণের সাথে সাথে প্রকৃতি কন্যা জাফলং ও বিছনাকান্দি কে রক্ষা করা এবং পরিবেশ বিধ্বংসী বোমা মেশিন ও অবৈধ ড্রেজার মেশিন বন্ধের জন্য জেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় বার বার উত্থাপন করা হয় এবং জেলা প্রশাসক ও এসপি মহোদয় বিষয়টি আমলে নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করায় সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। ;বিশেষ করে জাফলং এবং বিছনাকান্দি পাথর কোয়ারি ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকার কারণে হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে যা জেলা আইন শৃংখলা কমিটির সভা সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বারবার উত্থাপন করি এবং সবিশেষ সরকারের প্রভাবশালী কয়েকজন মাননীয় মন্ত্রীদের সাথে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি অবহিত করি।

তিনি আশা করি আগামী চার বছরের মধ্যে মাননীয় মন্ত্রী ইমরান আহমদ মহোদয়ের সহযোগিতায় গোয়াইনঘাটের যোগাযোগ ও শিক্ষা খাতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। এছাড়াও ফারুক আহমদ আরো বলেন, গোয়াইনঘাটের সুনাগরিকেরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। পৃথিবির বিভিন্ন দেশে নানা ব্যাবসা,বানিজ্য ও কাজকর্মে নিয়োজিত থেকেও দেশের মানুষের কথা কখনো ভুলেননি। প্রবাসী ভাইয়েরা বিগত একবছরে নানা সংগঠনের ব্যানারে উপজেলা বাসীকে সহযোগিতা করেছেন। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও দোয়া করছি যেন আল্লাহ তায়ালা প্রবাসী ভাইদের শরীর স্বাস্থ্য ভাল রাখেন এবং বেশি বেশি করে হালাল রুজি বৃদ্ধি করেন।

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares