দোয়ারাবাজারে রাস্তার জন্য মানুষের ভোগান্তি, ইউপি চেয়ারম্যানের পকেটে বরাদ্দের ৫ লাখ

প্রকাশিত: ৩:৩৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৭, ২০২০

দোয়ারাবাজারে রাস্তার জন্য মানুষের ভোগান্তি, ইউপি চেয়ারম্যানের পকেটে বরাদ্দের ৫ লাখ

Sharing is caring!

ছাতক প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের একটি রাস্তার কাজ করার জন্য দুই বার বরাদ্দ দেওয়া হলেও কোন কাজ হয়নি। এই বরাদ্দের টাকা ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার মামুনুর রশীদের পকেটে। এই নিয়ে দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে প্রতিবাদের ঝড়।

জানা গেছে, উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের গিরিশ নগরগ্রামের রাস্তার কাজের জন্য প্রথমে দুই লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই টাকা দিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার মামুনুর রশীদ মাটি কাটানো শুরু করার দুই দিন পর কাজ বন্ধ করে দেন। তখনই শুরু হয় স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ও প্রতিবাদ। এর পর কিছু দিন অতিবাহিত হলে আবার বরাদ্দ হয় আরও তিন লক্ষ টাকা। এই সর্বমোট পাঁচ লক্ষ টাকা থেকে মাত্র ৯০ হাজার টাকার কাজ করানো হয়। বাকি টাকা চেয়ারম্যানের পকেটে।

এই ৯০ হাজারের কাজটি গিরিশ নগরগ্রামের মোস্তফার বাড়ির সামনের পাকা রাস্তা হতে মুক্তি যোদ্ধা সাহাব উদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত মাটি কাটানো হয়। বর্তমানে এই রাস্তার সকল ধরনের উন্নয়ন কাজ বন্ধ রয়েছে। যার ফলে স্থানীয় লোকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উত্তেজনা। এই রাস্তা দিয়ে স্কুল পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু দৈনিক শত শত মানুষের যাতায়াত হয়। বর্ষার মৌসুমে জমিতে সবসময় পানি থাকে, আর এই পানি ও কাধার মধ্যদিয়ে যাতায়াত করেন কাওয়ার ঘর গ্রামের শত শত লোকজন।

ইউপি চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান খন্দকার মামুনুর রশীদ মানুষের কষ্টের কথা না ভেবে তাহার পকেটের চিন্তা নিয়ে ব্যস্ত। তিনি বলেন, স্থানীয় লোকজন তাদের জমি থেকে মাটি দেয়নি। কিন্তু এই রাস্তার জন্য নিজ সকল মাটি দিতে প্রস্তুত মুক্তিযোদ্ধা সাহাব উদ্দিন।

স্থানীয় প্রতিবাদী মুক্তিযোদ্ধা সাহাব উদ্দিন জানান, আমাদের গ্রামের ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে এলাকার শত শত লোকজন ধানের জমির আইল দিয়ে হেঁটে যাতায়াত করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে জমিতে পানি থাকে সবসময়। আমরা খুবই কষ্ট করে হাটবাজারে যেতে হয়।

তিনি আরও বলেন, রাস্তাটি করার জন্য দীর্ঘদিন চেষ্টা করছি আমরা স্থানীয়রা। অবশেষে মামুন চেয়ারম্যান ২০১৯ সালে রাস্তার কাজ শুরু করেন। আমরা ভেবে ছিলাম এই রাস্তাটি এবার হবে। পরবর্তীতে দেখা যায় রাস্তার কিছু কাজ করে আর খবর নাই। এখন আমাদের একটাই দাবি রাস্তা চাই।

এ ব্যাপারে সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার মামুনুর রশীদ সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘এই রাস্তা কাজ হয়নি। স্থানীরা রাস্তার জন্য মাটি নিতে দেয়নি। আমার বাড়ি থেকে মাটি নিয়ে রাস্তা করা সম্ভব না। বিদায় কাজ বন্ধ রয়েছে’।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares