মুন্না হত্যাকান্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আন্দোলনে সালুটিকরবাসী

প্রকাশিত: ৭:৪২ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৫, ২০২০

মুন্না হত্যাকান্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আন্দোলনে সালুটিকরবাসী

Sharing is caring!

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি :: সিলেট মহানগরীর জিন্দাবাজার এলাকায় ফুটপাতের টোকাইদের অতর্কিত হামলায় নিহত হন গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের বিএ(অনার্স) রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী নজরুল ইসলাম মুন্না। এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির ব্যবস্থার দাবিতে আন্দোলনের সালুটিকরবাসী এক কাতারে দাড়িয়েছেন।

রবিবার দুপুরে সালুটিকর ডিগ্রি কলেজের উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী সালুটিকর বাজারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন,অবিলম্বে নজরুল ইসলাম মুন্না খুনের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। নজরুল ইসলাম মুন্না খুনের ঘটনায় বৃহত্তর সালুটিকর বাসী দলমতের উর্ধ্বে ওঠে এক কাতারে সামিল হয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবি তুলেছেন। সালুটিকর বাজারে অনুষ্ঠিত নজরুল ইসলাম মুন্নার হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নন্দীরগাওঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস কামরুল হাসান আমিরুল।

বক্তব্য রাখেন সালুটিকর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃশাকির উদ্দিন, গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ কামরুল হাসান, সালুটিকর বাজার ব্যাবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ, যুবলীগ নেতা মোঃ মিজানুর রহমান, কামরান হোসেন প্রমূখ। উল্লেখ্য যে, নিহত নজরুল ইসলাম মুন্না (২১) গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দীরগাওঁ ইউনিয়নের বহর গ্রামের মোঃ রফিকুল ইসলামের দ্বিতীয় ছেলে। এঘটনায় নিহত নজরুল ইসলাম মুন্নার পিতা মোঃ রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক ও আরো ৬/৭ জনকে অজ্ঞাত রেখে সিলেট মেট্রোপুলিশের অন্তর্ভুক্ত কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। উক্ত মামলার ১ নাম্বার আসামি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সিরাজুল হকের ছেলে দুলাল মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহত নজরুল ইসলাম মুন্নার পিতা মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, তার ছেলে নজরুল ইসলাম মুন্না, গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজে বিএ (সম্মান), বাংলা দ্বিতীয় বর্ষে পড়ালেখার পাশাপাশি সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ বিভাগে কর্মরত ছিলেন।

প্রতিদিনের ন্যায় ৫ মার্চ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে বাড়ি থেকে সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যায়। কর্মস্থল থেকে বেতন তুলে বাজার করার জন্য রাত সাড়ে ৮ টার দিকে জিন্দাবাজার পৌঁছে। জিন্দাবাজার কৃষি ব্যাংকের সামনে পৌছার পর স্থানীয় ফুটপাতের ব্যাবসায়ীরা সংঙ্গবদ্ধ হয়ে একজন ক্রেতাকে পেটাচ্ছিলো। বিষয়টি দেখে নজরুল ইসলাম মুন্না ঐ ক্রেতাকে না মারার জন্য অনুরোধ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ফুটপাতের ব্যাবসায়ীরা নজরুল ইসলাম মুন্নার উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে নজরুলকে ঘটনাস্থলে রেখে পালিয়ে যান। নজরুল ইসলাম মুন্নাকে গুরুত্ব আহত অবস্থায় পথ যাত্রীরা উদ্ধার করে সিলেট এম,এ,জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত দেখে ওসমানী মেডিকেল কতৃপক্ষ উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা জাতীয় বক্ষব্যাদি হাসপাতালে নজরুলকে পাঠানোর অনুরোধ করেন। নজরুল ইসলাম মুন্নাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলায় পৌঁছার পর নজরুল ইসলাম মুন্না মৃত্যুবরন করেন।

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares