স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই ছাতকে লাফার্জ কোম্পানীর কাজে ভারতীয় শ্রমিকরা

প্রকাশিত: ৭:৫২ অপরাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০২০

স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই ছাতকে লাফার্জ কোম্পানীর কাজে ভারতীয় শ্রমিকরা

ছাতক প্রতিনিধি :: বেসরকারী মালিকানাধীন বিদেশী প্রতিষ্টান এশিায়র বৃহত্তম ছাতকের লাফার্জ-হোলসিম সিমেন্ট কোম্পানীর আশাপাশ এলাকা ও উপজেলাজুড়েই করোনা ভাইরাস আতংক দেখা দিয়েছে। প্রতিটি ঘরে ঘরে সর্দি, কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট,ডায়রিয়া, গলাব্যথা,নাক দিয়ে রক্ত পড়াসহ নানা রোগবালাই এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।

ছাতকে ঘরে ঘরে সর্দি-জ্বর-কাশির প্রকোপ বেড়েছে। তার সাথে সর্দি জ্বর কাশির প্রকোপ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। শুধু সদি কাশি জ্বর ও রোগব্যাধি এখন সাধারন নাগরিক জীবনে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। ভিসা ছাড়াই বাংলাদেশে প্রবেশ করে কোনা প্রকার স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে আগত প্রায় ২ শতাধিক শ্রমিক বর্তমানে মেরামত কাজে সংযুক্ত রয়েছে ছাতকে সুরমা নদীর উত্তর পাড়ে নোয়ারাইস্থল এলাকায়। স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, যেহেতু ভারতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সার্বিক এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের পরীক্ষা ছাড়া লাফার্জ-হোলসিম কোম্পানীর কাজে যোগদানে পূরো ছাতক উপজেলা জুড়েই আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। মরনব্যাধী সংক্রামক করোনা ভাইরাস সনাক্ত করা জরুরী বলে দাবী করছেন।

এ ব্যাপারে ছাতক উপজেলা ঠিকাদার শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সরকারী উচ্চ পর্যায়ের বিভিনś দপ্তরে আশংকার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লাফার্জ-হোলসিম সিমেন্ট কোম্পনীতে প্রতি বছরের মতো এবারও গত কিছু দিন ধরে মেরামত কাজ (সাট-ডাউন) কাজ শুরু হয়েছে। এসব মেরামত কাজের জন্য লাফার্জ-হোলসিম কর্তৃপক্ষ দেশের পর্যাপ্ত দক্ষ শ্রমিক বাদ দিয়ে ভারত থেকে প্রায় দু’শতাধিক শ্রমিক আমদানী করেছে। ভারতীয় এসব শ্রমিকরা আকাশ পথে না এসে সড়ক পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। ভারতের আগরতলা-মনতলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এসব শ্রমিকরা।

প্রায় এক সপ্তাহ পূর্বে ৫০ জনের একটি শ্রমিক দল প্রথমে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। পরে গত ৩দিনে আরো প্রায় দেড়শ’ ভারতীয় শ্রমিকরা লাফাজ-হোলসিমের মেরামত কাজে যোগদান করেছে। ভারতীয় এসব শ্রমিকরা কোম্পানীসহ শহরের বিভিনś আবাসিক হোটেল ও আশপাশ এলাকায় অবস্থান করছে। কারখানার একাধিক দেশীয় একাধিক শ্রমিকরা জানান, আকাশ পথে ভারতীয় শ্রমিকরা দেশে আসলে বিমানবন্দরে এসব শ্রমিককে স্ক্যানের মাধ্যমে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হতো। তখন কোন ঝুঁকি বা আতংক থাকতো না। জনশক্তি আমদানী-রপ্তানীতে মেডিকেল টেষ্ট করা জরুরী একটি বিষয়। বতর্মানে মরনব্যাধি করোনা ভাইরাস সংক্রামিত না হওয়ার জন্য প্রতি দেশেই বিদেশীদের যাতায়াত ও ভ্রমন ভিসা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশসহ বহিবিশ্বের বিভিনś দেশে প্রতিটি বিমানবন্দরে স্ক্যানারসহ মেডিকেল টেষ্টের অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে লাফার্জ-হোলসিম সিমেন্ট কারখানায় মেরামত কাজে আসা এসব ভারতীয় শ্রমিকদের মেডিকেল টেষ্ট করা হয়েছে কিনা এ ব্যাপারে অনেকেই অজ্ঞাত রয়েছেন। শ্রমিক সংগঠনের লিখিত অভিযোগে বলা হচ্ছে, দেশের স্থানীয় দক্ষ শ্রমিক থাকা সত্ত্বেও ভারত থেকে শ্রমিক আনায় এলাকার শ্রমিকদের অধিকার বঞ্চিত। ভারতীয় এসব শ্রমিকদের মেডিকেল টেষ্টের ব্যাপারে তারা যথেষ্ট সন্দিহান রয়েছেন। ভারতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রচুর রোগী রয়েছে বলে গণমাধ্যম সুত্রে জানা গেছে। যদি কোন ভারতীয় শ্রমিকের শরীরে করোনা ভাইরাসের জীবানু থাকে তবে কারখানার শ্রমিকদের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়ে সারা দেশে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার আশংকা বিরাজ করছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম কবির বলেন, করোনা ভাইরাস সনাক্তের জন্য সীমান্ত এলাকায় স্থলবন্দর ও বিমান বন্দরে পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। তারপরও এবিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়া হবে। এদিকে সর্দি-কাশি জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে ২দিনে ব্যবধানে ছাতকে ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর সভার বিভিন্ন গ্রামে পাড়া মহল্লায় সব বয়সের মানুষই এ জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। ছাতকে প্রায় প্রতিটি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে এ জ্বরে আক্রান্ত রোগিরা ভিড় জমাচ্ছে। রোগীর কাশি অনেক সময় রুপ নিচ্ছে শ্বাসকষ্টে।

এব্যাপারে কতৃক হাসপাতালে মেডিক্যাল অফিসার ডাক্তার আবু সালেহীন জানান, মৌসুমী সদি কাশি জ্বর নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। এ জ্বরে আক্রান্ত হলে মাথাব্যথা হতে পারে।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..