স্ত্রী সন্তানকে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দিয়ে প্রেমিকার সঙ্গে কাবিন ছাড়াই সংসার

প্রকাশিত: ৭:১২ অপরাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০২০

স্ত্রী সন্তানকে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দিয়ে প্রেমিকার সঙ্গে কাবিন ছাড়াই সংসার
ছাতক প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের ছাতেক স্ত্রী ও বিশ মাসের শিশু সন্তানকে অমানবিক নির্যাতন করে বাড়ী থেকে বের করে দিয়ে পরকীয়ায় আসক্ত স্বামী প্রেমিকাকে নিয়ে কাবিন ছাড়াই সংসার করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের ধারন বাজার সংলগ্ন বড় সৈঁদের গাঁও গ্রামে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, গত ১৪ ফেব্রুয়ারী গতকাল বৃৃহস্পতিবার দিবাগত রাত অনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে ঘরে রাতের খাবার শেষে একটি ফোন কল পেয়ে বেরিয়ে যান বড় সৈঁদের গাঁও গ্রামের তেরাব আলীর ছেলে সামছুল ইসলাম।
তার স্ত্রী এক সন্তানের জননী স্বপ্না বেগম মধ্য রাতে জানতে পারেন উপজেলার খুরমা উত্তর ইউনিয়নের এলংঙ্গি গ্রামের আরজ আলীর বাড়ীতে সিএনজি গাড়ীসহ তিনি আটক রয়েছেন। ভোর রাতে আরজ আলীর মেয়ে ঝরনা বেগমকে সাথে নিয়ে সামছুল বাড়ী ফিরেন। এতে স্বপ্না বেগম বাঁধা প্রদান করায় তার উপর অমানবিক নির্যাতন করা হয়।
সামছুল ইমলামের নির্যাতিতা স্ত্রী স্বপ্না বেগমের অভিযোগ, পরকীয়ার রাস্তা পরিষ্কার করতে অভিনব নাটক মঞ্চস্থ্য করেছেন সামছুল ইসলাম। বিয়ের অনুমতি পত্রে জোরপূর্বক স্বপ্নার স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করেন সামছুল ও তার পরিবারের লোকজন।
তিনি স্বাক্ষর দিতে রাজি না হওয়াতে বেধড়ক মারধর করে ২০ মাসের শিশু সন্তানসহ বের করে দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সিলেটের বিশ্বনাথ থানার রামপাশা ইউনিয়নের নওদার গ্রামে তার অসহায় হতদরিদ্র পিতা জমসের আলীর নিকটে রয়েছেন।
এ বিষয়ে স্বপ্না বেগম জানান, ‘আমার স্বামী ঝরনা বেগম নামে একটি মেয়েকে নিয়ে বাড়ীতে আসেন। এতে আমি বাঁধা প্রদান করি। পরে বিয়ের অনুমতি দেওয়ার জন্য বলেন। তাতে রাজি না হওয়ায় আমাকে মারপিট করে বাড়ী থেকে বিদায় করে দেওয়া হয়। ২০ মাসের শিশুকে নিয়ে অসহায় অবস্থায় রয়েছি।’
স্বপ্না বেগমের চাচাত ভাই পরিচয়ে আব্দুস বলেন, আমরা কাবিন করে বোন বিয়ে দিয়েছি। বোনের জামাই অন্য একটি মেয়েকে ঘরে তুলেছেন। আমার বোনকে মারপিট করেছেন। এখন আমরা অসহায় অবস্থায় আছি।সামছুল ইসলাম বলেন, বুঝানোর জন্য পাঠানো হয়েছে। পড়ে কথা বলবো বলে তিনি মুঠোফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
খুরমা উত্তর ইউনিয়েনের কাজী মশহুদ আহমদ বলেন, গত ১৪ ফেব্রুয়ারী ঘটনাস্থল (এলংঙ্গি) গিয়েছিলাম। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ছেলের প্রথম স্ত্রীর অনুমতিপত্র আনতে বলেছি। পরে কেউই অনুমতি পত্র দেয়নি বা যোগাযোগ করেন নি।
গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান আখলাকের মোঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছাতক থানার ওসি তদন্ত মইন উদ্দিন বলেন, তদন্ত স্বাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..