প্রবাসীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে সর্বস্ব হাতিয়ে নিল প্রেমিকা!

প্রকাশিত: ৬:২৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ৮, ২০২০

প্রবাসীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে সর্বস্ব হাতিয়ে নিল প্রেমিকা!

Sharing is caring!

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক :: কুমিল্লা জেলার দুবাই প্রবাসী কামাল হোসেন (২৮) কে প্রেমের ফাঁদে ফেলে সর্বস্বান্ত করেছে মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার বাসাইল ইউনিয়নের ব্রজেরহাটি গ্রামের সবুজ শেখের মেয়ে সানিয়া (২৪)। এমনকি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই প্রবাসীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় মোটা অঙ্কের টাকা। এমনটাই অভিযোগ করেছেন দুবাই প্রবাসী কামাল।

সম্প্রতি ঘটনাটি জানাজানি হলে সানিয়ার পরিবার ঢাকা কেরানীগঞ্জের মুরগি বাজারের ভাড়া বাসা ছেড়ে গ্রামের বাড়ি উপজেলার ব্রজেরহাটি গ্রামে এসে গা ঢাকা দিয়েছে। প্রতারক সানিয়া ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেন দুবাই প্রবাসী চান্দিনা উপজেলার বাগুর গ্রামের মৃত ফজলুল করীমের ছেলে কামাল হোসেন।

সরল বিশ্বাসে প্রেমের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব প্রেমিকার কাছে সপে দিয়ে এখন তিনি সর্বস্বান্ত। প্রতারণার শিকার ওই প্রবাসী স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানানোর পর প্রতারক সানিয়াসহ তার পরিবার নানা রকম হুমকি দিয়ে আসছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বর্তমানে প্রতারক সানিয়া দুবাইয়ের আবুধাবি শহরের টপ স্টার হোটেল অ্যান্ড ড্যান্স ক্লাবে নর্তকীর কাজ করছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ১০ বছর আগে কামাল দুবাইতে যান। প্রায় ১৯ মাস পূর্বে দুবাইতে অবস্থানরত কামাল হোসেনের সাথে সানিয়ার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে কামাল সানিয়ার রূপ ও স্মার্টনেস দেখে প্রেমে হাবুডুবু খেতে শুরু করে। সেই সুবাদে প্রেমিকের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে কামালের কাছ থেকে টাকা নেওয়া শুরু করে সানিয়া।

সম্পর্কের কয়েকমাস অতিবাহিত হওয়ার পর সানিয়া কামালকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে কামাল তার পরিবারের লোকজনকে সানিয়ার বাড়িতে পাঠায় এবং তাকে বিয়ে করার জন্য রাজি হয়। সানিয়া তাদের আর্থিক অসচ্ছলতার কথা জানালে দুবাই থেকে ঘর ভাড়া, মাসিক কিস্তিসহ সাংসারিক যাবতীয় খরচ বহন করতে শুরু করে কামাল।

সানিয়া কামালের কাছে তাদের বাড়িতে ঘর নেই বলে জানালে, প্রেমিকার মন রক্ষার্থে কামাল ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে লোক মারফতে ট্রাকে করে কুমিল্লা থেকে ঘর তোলার জন্য সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকার রড, সিমেন্ট, ইট, বালু ও টিন কিনে দিয়ে পাঠায়। এর কিছুদিন পর সানিয়া কামালকে তাদের আর্থিক ঋণের কথা বলে কামালের কাছে দেড় লক্ষ টাকা চাইলে কামাল সানিয়া ও তার মায়ের বিকাশ নম্বরে দেড় লক্ষ টাকা পাঠায়।

কামালের ভালোবাসার দুর্বলতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সানিয়া তাকে দুবাই নিতে বলে এবং পাসপোর্ট বানিয়ে কামালের কাছে দেয়। কামাল সানিয়াকে দুবাই নেওয়ার জন্য দেড় লক্ষ টাকা খরচ করে ভিসা এবং টিকিট কনফার্ম করে। কিন্তু সানিয়া অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দুবাই যেতে অনীহা প্রকাশ করে। এতে তার ভিসা এবং টিকিটের টাকা ভেস্তে যায়। এর কয়েকদিন পর সানিয়া কামালের মোবাইলে ফোন করে বলে সে দুবাইতে আছে, তার সাথে দেখা করতে কামালকে বলে।

কামাল ঠিকানা অনুযায়ী দুবাইয়ের আবুধাবি শহরের এন সুপার মার্কেটের সামনে টপ স্টার হোটেলে সানিয়ার সাথে দেখা করতে গিয়ে দেখে সানিয়া ওই হোটেলে নর্তকী ও দেহ ব্যবসার কাজ করছে। এ দেখে কামাল সানিয়াকে দেশে চলে যেতে বললে সানিয়া বলে, মালিককে ১০ হাজার দেরহাম অর্থাৎ (দুই লক্ষ উনপঞ্চাশ হাজার একশত) টাকা দিলে তাকে দেশে যেতে দেবে এবং সে টাকা পেলে দেশে চলে যেতে রাজি হয়।

কামাল তার কথা মতো ১০ হাজার দেরহাম সানিয়ার হাতে দেওয়ার পর হোটেলের লোকজন নিয়ে কামালকে মারধর করে হোটেল থেকে তাড়িয়ে দিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। ঘটনার বিবরণে আরও জানা যায়, কামালকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন অজুহাতে বিভিন্ন সময় তার কাছ থেকে সর্বমোট ১৫ লক্ষ নগদ নেয় সানিয়া। এ ব্যাপারে দুবাই প্রবাসী কামাল হোসেন প্রতারক সানিয়া ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে সাংবাদিকদের জানান।

ভুক্তভোগী দুবাই প্রবাসী কামাল হোসেন কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, সরল বিশ্বাসে সানিয়াকে ভালোবেসে আমার সারা জীবনের কামাই দিয়েও তাকে পেলাম না। আমাকে বিয়ে করবে বলে কুরআন শরীফে হাত রেখে আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েও আমাকে বিয়ে করল না। আমি তার সব চাওয়া পাওয়া মিটিয়েছি। যখন যেটা চেয়েছে সেটাই দিয়েছি। এখন মনে হচ্ছে পৃথীবিতে মানুষকে বিশ্বাস করা পাপ। যদি জানতাম সে আমার সাথে প্রতারণা করে আমার টাকা পয়সা হাতিয়ে নেবে তাহলে কোনোদিন এ পথে পা বাড়াতাম না।

৬ মাস বয়সে বাবাকে হারিয়েছি। ১০ বছর বয়সে মাকে হারালাম। আমি একজন এতিম মানুষ। আমার সাথে এমন হবে আমি ভাবতেও পারিনি। আমি তাদের বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা করব।

সানিয়ার মাতা হেনা বেগম মুঠোফোন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। যদি সেই ছেলের কাছে কোনো প্রমাণ থাকে সে আমার মেয়েকে টাকা দিয়েছে তাহলে টাকা নিয়ে যাক। আর যদি প্রমাণ না থাকে তাহলে কীভাবে টাকা নেবে? আপনারা লেখালেখি করেন আমার কোনো সমস্যা নাই বলে মুঠোফোন কেটে দেন।

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares