অপহৃত বাচ্চাকে র‌্যাবের প্রচেষ্টায় কোলে ফিরে পেলেন মা, ভয়ংকর দুই প্রতিবেশী আটক

প্রকাশিত: ১:৪০ অপরাহ্ণ, মার্চ ৮, ২০২০

অপহৃত বাচ্চাকে র‌্যাবের প্রচেষ্টায় কোলে ফিরে পেলেন মা, ভয়ংকর দুই প্রতিবেশী আটক

Sharing is caring!

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : চাকরিজীবী দম্পতি সাতমাসের পুত্রসন্তান ফাহিমকে প্রতিদিনের মতো বাসায় রেখে কর্মস্থলে যান। এসময় শিশুটিকে দেখাশোনা করতেন তার নানী। গেল শনিবার বাসায় ফিরে দম্পতি দেখেন শিশুটি নেই। জেসমিন নামের এক প্রতিবেশি মহিলা ফাহিমকে নিয়ে যান বলে জানান তার নানী।

হন্তদন্ত হয়ে শিশুটির মা সেই প্রতিবেশির ঘরে গিয়ে দেখেন তালাবদ্ধ। অনেক খোঁজাখুজির পরও ওই প্রতিবেশি ও সন্তানের সন্ধানের না পেয়ে তারা দ্বারস্থ হন স্থানীয় থানা পুলিশের কাছে। অভিযোগ পড়ে র‌্যাব-৪ এর দপ্তরেও।

সাভারের ওই ঘটনায় মাঠে নেমে র‌্যাব গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরেরদিন রবিবার ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। পরে সালথা থানা এলাকা থেকে ওই প্রতিবেশি নারীসহ আটক করে দুজনকে। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয় শিশুটিকে।

র‌্যাবের ধারণা, শিশু ফাহিমকে অপহরণের পর অন্যত্র বিক্রির উদ্দেশ্যে ছিল ওই নারীর। কিন্তু সরাসরি কোনও ক্রেতা না পাওয়ায় ফরিদপুরের বাড়িতে নিয়ে রেখেছিল। একমাত্র সন্তানকে না পেয়ে ভেঙ্গে পড়েন মা শারমিন। কোনও প্রতিবেশি এভাবে সন্তানকে নিয়ে যেতে পারে তা নিয়ে অন্য প্রতিবেশিরাও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তাছাড়া কোনও মুক্তিপণ না চাওয়ায় কিছু বুঝে উঠতে পারছিল না শিশুটির পরিবার।

ঘটনার সবিস্তারে বর্ণনা দিয়ে র‌্যাব-৪ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযান শুরু করি। বিষয়টি খুবই মানবিক ছিল। আমরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে জানতে পারি অভিযুক্ত ওই নারী ফরিদপুরে অবস্থান করছে। পরে তাকে আটক করা হয়।’

শিশুটির মা শারমিন আক্তার ঢাকা টাইমসকে জানান, তিনি রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে আর স্বামী একটি ব্যাংকে কর্মরত। তারা পরিবার নিয়ে সাভারের হেমায়েতপুর জয়নাবাড়ীতে থাকেন। শনিবার রাত সাড়ে নয়টায় কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরে দেখেন তার মা রান্নায় ব্যস্ত। ছেলের খোঁজ করতেই জানতে পারেন প্রতিবেশী জেসমিন আক্তার ছাদে নিয়ে গেছেন। ছেলেকে আনতে ছাদে যান কিন্তু সেখানে না পেয়ে প্রতিবেশীর ঘরে গিয়ে দেখেন রুম তালাবদ্ধ।

র‌্যাব কর্মকর্তা সাজেদুল বলেন, ‘আমরা ১২ ঘন্টার অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত জেসমিন আক্তার ও তার সহযোগী জাহিদ শেখকে আটক করি। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরেক এলাকা থেকে উদ্ধার হয় শিশু ফাহিম।’

সাজেদুল বলেন, ‘অপহরণের পর শিশুটির পরিবারের কাছে কোনও অর্থ চাওয়া হয়নি। আমাদের ধারনা অন্যত্র এক থেকে দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করার উেেদ্দশ্যে শিশুটিকে এই কৌশলে অপহরণ করা হয়েছিল। কিন্তু তা করার আগেই র‌্যাব ওই নারীকে আটক করে। এ ঘটনায় দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares