সিলেট থেকে রেকর্ড রাঙা জয়ে নেতৃত্বের ইতি মাশরাফির

প্রকাশিত: ১১:৪৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ৬, ২০২০

সিলেট থেকে রেকর্ড রাঙা জয়ে নেতৃত্বের ইতি মাশরাফির

Sharing is caring!

ডেস্ক নিউজ :: দেড়শ’ রানে জিম্বাবুয়ে ৫ উইকেট হারাতেই ম্যাচের কক্ষপথ নির্ধারণ হয়ে যায়। দর্শকরা তখন জিম্বাবুয়ের হার নয় মাশরাফিকে বিদায়ী অভিবাদনের অপেক্ষায়। সাইফউদ্দিন জিম্বাবুয়ের শেষ ব্যাটসম্যান টিসুমাকে বোল্ড করতেই গ্যালারিতে একটা চিৎকার। এরপরই চুপসে যাওয়া। অধিনায়ক মাশরাফি যে বিদায় নিচ্ছেন। তবে কীর্তিমান মাশরাফির মুখে হাসির আভা। সতীর্থদের অভিবাদন পাচ্ছেন। দর্শকদের ধন্যবাদের জোয়ারে ভাসছেন। সঙ্গে ম্যাচটা অধিনায়ক হিসেবে পঞ্চাশ জয়ের কীর্তি গড়ে শেষ করার তৃপ্তি।

নেতৃত্বের শেষটায় মাশরাফি মর্তুজাকে জয় উপহার দেওয়াই ছিল দলের লক্ষ্য। কিন্তু লিটন দাস এবং তামিম ইকবাল উড়ন্ত ব্যাটিং করে রেকর্ড রাঙা এক জয়ের পথ রচনা করে দেন। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন-তাইজুলরা সেই ধারায় বল করেন। সিলেটে শুক্রবার সফরকারী জিম্বাবুয়েকে সিরিজের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ বৃষ্টি আইনে ৩৪২ রানের লক্ষ্য দিয়ে থামায় ২১৮ রানে। দলকে জয় তুলে নেয় ১২৩ রানের বড় ব্যবধানে। সিলেটে তিন ম্যাচের ওয়ানাডে সিরিজে জিম্বাবুয়ে ধবলধোলাইও করে বাংলাদেশ।

অধিনায়ক মাশরাফির শেষ ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাটিং প্রদর্শনী দেখায় দু্ই টাইগার ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। তারা ৩৩.২ ওভার দুর্দান্ত ব্যাটিং করার পরে নামে বৃষ্টি। ম্যাচ নেমে আসে ৪৩ ওভারে। বৃষ্টির পরে চার-ছক্কার বৃষ্টি ঝরিয়ে ৩ উইকেটে ৩২২ রান তোলে বাংলাদেশ। বৃষ্টি আইনে লক্ষ্যটা আরও বেড়ে যায় জিম্বাবুয়ের সামনে।

তারা ৩৭.৩ ওভারে অলআউট হয় ২১৮ রানে। জিম্বাবুয়ের হয়ে সিকান্দার রাজা সর্বোচ্চ ৬১ রান করেন। ওয়েলসি মেধেভেরে ৪২ রানে আউট হন। এর আগে শেন উইলিয়ামসন ৩০ রানে আফিফের বলে বোল্ড হন। চাকাভা ৩৪ রান করেন। বাংলাদেশ দলের হয়ে পেস অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন তুলে নেন ৪ উইকেট। এছাড়া তাইজুল ২ উইকেট। মাশরাফি তার নেতৃত্বের শেষে নেন ২ উইকেট।

নেতৃত্বের শেষ ম্যাচে টস হারলেও আগের দুই ম্যাচের মতো শুরুতে ব্যাটিং পান মাশরাফি। দুই টাইগার ওপেনার লিটন দাস এবং তামিম ওপেনিং জুটিতে গড়েন দেশের সর্বোচ্চ এবং ওপেনিংয়ে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৯২ রানের জুটি। এর আগে ১৯৯৯ সালে ওপেনিংয়ে ১৭০ রান ছিল দেশের সর্বোচ্চ জুটি। ২০১৭ সালে কিউইদের বিপক্ষে ২২৪ রান ছিল যেকোন উইকেটে দেশের সর্বোচ্চ জুটি। লিটন-তামিম সেসব রেকর্ড গুড়িয়ে দেন। লিটন দাস খেলেন ১৪৩ বলে ১৬ চার ও আট ছয়ে দেশসেরা ১৭৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। সেঞ্চুরি করার আগে চোখে লেগে থাকার মতো দারুণ সব চার মারেন তিনি। আর বৃষ্টির পরে ওভার কমে যাওয়ায় লম্বা লম্বা ছক্কা। ছাড়িয়ে যান আগের ম্যাচেই করা তামিমের সর্বোচ্চ ১৫৮ রানের ইনিংসটাকে।

লিটনের সঙ্গে দুর্দান্ত জুটি গড়া তামিম ইকবাল তুলে নেন ক্যারিয়ারের ১৩তম সেঞ্চুরি। তিনি ১২৮ রান তুলে অপরাজিত থাকেন। তার ব্যাট থেকে আসে সাতটি চার ও ছয়টি ওভার বাউন্ডারি। বাংলাদেশের মাত্র চতুর্থ জুটি হিসেবে লিটন-তামিম একই ইনিংসে জোড়া সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন। এছাড়া এবি ডি ভিলিয়ার্স ও হাশিম আমলার পরে তিন ম্যাচের সিরিজের লিটন-তামিম দুটি করে সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন। তাদের এতো সব রেকর্ডে রাঙা জয় নিয়ে লেখা হলো অধিনায়ক মাশরাফির শেষ ম্যাচ। দর্শক এবার তাকে মাঠে মাশরাফি হিসেবে দেখার অপেক্ষায়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares