কাজ চাই, ভাত চাই-পাথর কোয়ারী সচল চাই : স্লোগানে মুখরিত জাফলং

প্রকাশিত: 4:17 PM, January 22, 2020

কাজ চাই, ভাত চাই-পাথর কোয়ারী সচল চাই : স্লোগানে মুখরিত জাফলং

Sharing is caring!

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি : সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফারুক আহমদ প্রাশাসনের কর্তাব্যাক্তিদের উদ্দেশ্যে বলেছেন উত্তর সিলেটের লাখ লাখ বেকার শ্রমিকদের পাথরের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত জাফলং ও বিছনাকান্দি পাথর কেয়ারী গুলো খোলা রাখতে হবে। কারণ পাথর কেয়ারী নির্ভর স্থানীয় লক্ষাধিক শ্রমিক দীর্ঘদিন থেকে বেকারত্বের অভিশাপে প্রায়শ্চিত্ত করেছেন। শ্রমিকদের পরিবারে এখন হতাশার অন্ধকারে ঢাকা। একমুঠ ভাতোর জন্য আজ তারা আন্দোলনে নেমেছেন। তাদের কন্ঠে ক্ষোভের আবাস। আজ তারা উপায়ান্তর না পেয়ে রাজ পথে নেমে কাজের দাবি তুলেছেন। আজ তাদের শ্লোগানে মুখরিত পুরো জাফলং।

তিনি বলেন, গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের সকল সদস্যবৃন্দ শ্রমিকের মানবেতর জীবনযাপন দেখে সনাতন পদ্ধতিতে কোয়ারী এলাকায় পাথর উত্তোলনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছেন। পাশাপাশি উপজেলা আইনশৃংখলা কমিটির সভায় তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বুধবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে জাফলং মামার বাজার পয়েন্টে অচল পাথর কোয়ারী সচল করার দাবিতে শ্রমিক-ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের ডাকে বিশাল সভায় তিনি এসব কথা বলেন। শ্রমিক নেতা আব্দুস শহীদের সভাপতিত্বেব ও যুবলীগ নেতা নাজিম উদ্দীনের পরিচালনায় অচল পাথর কোয়ারী সচল করার দাবিতে আয়োজিত সভায় সকাল থেকেই মামার বাজার পয়েন্টে খন্ড খন্ড মিছিল সহকারে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত হন। এসময় মোহাম্মদ ফারুক আহমদ আরোও বলেন, নদীতে থেকে পাথর উত্তোলনে সরকারের বাধা নিষেধ থাকলেও ব্যাক্তি মালিকানাধীন জায়গা থেকে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনে কেন বাধা রয়েছে তা তিনি প্রশাসনের কাছ থেকে জানতে চান। কাজ চাই ভাত চাই-পাথর কোয়ারী সচল চাই।

সকলের দাবি একটাই-অচল পাথর কোয়ারী-সচল চাই। শ্রমিক বাঁচলে বাঁচবে দেশ-শেখ হাসিনার বাংলাদেশ। মানুষের জন্য আইন-নাকি আইনের জন্য মানুষ??। আমাদের দাবি একটাই- পাথর কোয়ারী সচল চাই, দুনিয়ার মজদুর বাংলার মজদুর-এক হও এক হও, প্রয়োজনে লড়বো-বাঁচার মতো বাঁচবো-নিজের স্বার্থ নিজেরাই আদায় করব। মানুষের প্রাণের দাবি পাথর কোয়ারী খুলে দাও দিতে হবে ঔইসব নানা শ্লোগান দেন।

উল্লেখ্যসিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং ও বিছনাকান্দি পাথরকোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। সম্প্রতি জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলামের নির্দেশনায় গোয়াইনঘাটের নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব যোগদানের পর পরই উপজেলার এ দুটি পাথরকোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছেন। প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞার ফলে জাফলং ও বিছনাকান্দি পাথরকোয়ারি এলাকা থেকে বালু-পাথর উত্তোলনসহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে এ দুটি পাথরকোয়ারি-সংশ্নিষ্ট লক্ষাধিক শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা বেকার হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অচিরেই পাথরকোয়ারি দুটি চালু না হলে কঠোর আন্দোলনের আভাস দিয়েছেন তারা।

জানা যায়, জাফলং কোয়ারি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকায় এ থেকে বালু ও পাথর উত্তোলনে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অন্যদিকে, বিছনাকান্দি পাথরকোয়ারিতে কোনো মামলা না থাকলেও শুধু পরিবেশগত কারণ দেখিয়ে মৌখিক নির্দেশনায় ওই কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। যার কারণে লাখো শ্রমিকের কর্মসংস্থানের উৎসস্থল এই দুটি পাথরকোয়ারি থেকে বালু-পাথর উত্তোলন, সরবরাহ ও পরিবহনসহ সব ধরনের কোয়ারিকেন্দ্রিক কর্মতৎপরতা বন্ধ রয়েছে।

জাফলং ও বিছনাকান্দি পাথরকোয়ারি এলাকায় চলমান মৌসুমে যেখানে কর্মচাঞ্চল্যে মুখর থাকত, সেখানে এলাকাজুড়েই এখন বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা।
জাফলং পাথরকোয়ারির শ্রমিক নিরঞ্জন বিশ্বাস বলেন, আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। আইন-প্রশাসন আর পরিবেশ বুঝি না। আগে কর্ম করতে হবে, তারপর অন্য কিছু। পাথরকোয়ারি খুলে দেন। কাজ না করলে ভাত জোগাবো কেমনে।

এ ব্যাপারে বক্তারা বলেন, পাথরকোয়ারি বন্ধ থাকায় লাখো শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। কর্মসংস্থান না থাকায় তারা এখন পরিবার পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এসব খেটে খাওয়া মানুষের কথা বিবেচনা করে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্র অঞ্চলের লোকজনের বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ার আগ পর্যন্ত কোয়ারি থেকে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি। অন্যথায় শ্রমিকদের রুটি-রুজির স্বার্থে এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণকে নিয়ে কঠোর আন্দোলনে যাবেন বলেও তিনি জানান।

বক্তারা আরো বলেন, গোয়াইনঘাটের জাফলং ও বিছনাকান্দি পাথরকোয়ারি দুটিতে প্রতিবছর শুস্ক মৌসুমের শুরু থেকেই স্থানীয় এবং বহিরাগত সব মিলিয়ে লক্ষাধিকেরও বেশি শ্রমিক বালু ও পাথর উত্তোলনের কাজ করে তাদের জীবন-জীবিকা চালিয়ে আসছেন। কিন্তু এ বছর কোয়ারি থেকে বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়ায় এর সঙ্গে জড়িত শ্রমিক ও সরবরাহকারী ব্যবসায়ীরা বেকার হয়ে পড়েছেন। কয়েক মাস ধরে পাথর উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তারা এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব বলেন, সরকারের অনুমতি ছাড়া পাথর উত্তোলন বিধিবহির্ভূত। তা ছাড়া পরিবেশগত কারণও রয়েছে। যে কারণে বিছনাকান্দি ও জাফলং থেকে পাথর উত্তোলনে প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares