আমার স্বামী কোন অস্ত্র ব্যবসায়ী নয়, গোয়াইনঘাটের আরব আলীর স্ত্রী

প্রকাশিত: 3:30 PM, January 1, 2020

আমার স্বামী কোন অস্ত্র ব্যবসায়ী নয়, গোয়াইনঘাটের আরব আলীর স্ত্রী

Sharing is caring!

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি :: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার নয়াগাঁও খুরি গ্রামের আরব আলীর স্ত্রী মোছাঃ শারমিন বেগম বুধবার (১ জানুয়ারি) গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বর্তমানে আমার পাঁচ সন্তান নিয়ে কষ্টের জীবন যাপন করছি। একটি প্রভাবশালীর সাজানো সড়যন্ত্রের শিকার হয়ে কারাভোগ করছেন আমার স্বামী।

শারমিন বলেন, গত ১০ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তুমপুর ইউনিয়নের কুলুম ছড়ার পার সাদ্দামের বাড়ি থেকে আমার স্বামী আরব আলীকে গ্রেফতার করেন গোয়াইনঘাট থানার এসআই জুনেল। আমার স্বামী কোন অস্ত্র ব্যবসায়ী ছিলেন না। আমার স্বামীকে গ্রেফতারের আগের দিন ৯ সেপ্টেম্বর কুলুম ছড়ার পারের আনফর আলীর ছেলে সাদ্দাম তার বাড়িতে দাওয়াত দেয়। তার দাওয়াতকে গ্রহন করে আটকের দিন আমার স্বামী তাহার এক বন্ধু বুগইল কান্দি গ্রামের আজির উদ্দিনের ছেলে আলী হোসেনকে সাথে নিয়ে তিনি সাদ্দামের বাড়িতে যান। ওই বাড়িতে ভাত খাওয়ার সময় ঘরের ভিতর প্রবেশ করেন থানা পুলিশের এসআই জুনেল। তখন আরব আলীর হাত থেকে ভাতের প্লেইট কেড়ে নেন এসআই জুনেল। এর পর সাদ্দামের মা দুইটি রিভল বার পুলিশের হাতে তোলে দেন। এমন খবর আমাদের কাছে নিশ্চিত করেছেন বুগইল কান্দি গ্রামের আলী হোসেন। এরপর আমার স্বামীকে পুলিশ দরে নিয়ে যায়। আলিকে একটু জায়গা নিয়ে যাওয়ার পর ছেড়ে দেয় পুলিশ। আমার স্বামী আরব আলীকে দুইটি রিবল বারসহ কোর্টের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করেন। আমার স্বামীর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে গোইয়াইনঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। যার মামলা নং- ১৫, তারিখ ১০/০৯/২০১৯ ইং।

শারমিনের স্বামী আরব আলী ছিলেন একজন কৃষক। তার কৃষি কাজে তাদের সংসার চলতো। বর্তমানে তার অনুপস্থিতে সন্তানাধি নিয়ে অনেক কষ্টে আছেন ওই নারী। শারমিনের সন্তানের মুখে দু’বেলা খাবার দিতে পারছি না।

শারমিন জানান, গত ৭ ডিসেম্বর সড়যন্ত্রের মূলহোতা গোয়াইনঘাট উপজেলার নয়াগাও খুরি গ্রামের মৃত সিকন্দর আলীর ছেলে জালাল উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। জালাল উদ্দিনকে আটক করায় ধন্যবাদ জানাই জেলা পুলিশ সুপারসহ গোয়াইনঘাট থানা পুলিশকে। আমি পুলিশের উপর আশাবাদি এই কারণে যে আপনারা সঠিক তদন্তে জালাল আটক হয়েছে। পুলিশের সঠিক তদন্তে হয়তো আমার নির্দোষ স্বামী আরব আলী কারাভোগ থেকে মুক্তি পেতে পারেন। এই মূলহোতা জালাল উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বেরিয়ে আসবে আসল রহস্য। সমাজের দর্পন সাংবাদিক বন্ধুগণ, আমার স্বামী আরব আলীকে গ্রেফতারের দিন সকালে ওই জালাল উদ্দিন সোনারহাট বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যদের নিয়ে আমাদের বাড়িতে আসেন। তখন আমরা জালাল উদ্দিনকে জিজ্ঞাসা করিলে তিনি আমাদের বলেন সময় হলে জানতে পারবেন। এরপর বিজিবির লোকজন আমাদের বাড়ির ছবি ধারণ করে নেন। এই দিন রাতেই আটক হন আমার স্বামী আরব আলী। জালাল উদ্দিনের সাথে আমার স্বামীর পূর্বের বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধের জের ধরে জালাল আমার স্বামীকে টাকার বিনিময় ফাঁসিয়ে দেন। জালালের দুই বন্দু ঢাকার যাত্রাবাড়ি থানায় আটক হয়। জালাল উদ্দিন একজন চোরাকারবারী এটা পুলিশ বিজিবিসহ এলাকার সবাই জানেন। এই চোরাকারবারী করে নয়াগাও গ্রামে রয়েছে তার বিলাশ বহুল বাড়ি। এছাড়া রয়েছে সিলেট শহরে তার আরেকটি বাসা। এত সম্পদের মালিক জালাল হলো কি করে। আমার স্বামীকে আটকের পর জালাল বেশ কিছুদিন এলাকা থেকে পলাতক ছিলো। যদি তিনি ভালো মানুষ হতেন তাহলে নিশ্চয় তিনি বাড়ি ছেড়ে পালাতেন না।

শারমিন আরও বলেন, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার টিয়ারগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে আব্দুস সহিদ ও একই উপজেলার ঘোষগাঁও কেনাপাড়া গ্রামের মৃত মমতাজ উল্লাহ এর ছেলে আনছার মিয়া ছিলেন জালাল উদ্দিনের ব্যবসায়ীক ও রাজনৈতিক বন্ধু। তারা দুইজনই বিএনপির কর্মী জালালও বিএনপির রাজনীতি করেন। জালালের ওই দুই বন্ধুকে গত ০৫/ ০৯/ ২০১৯ তারিখে ঢাকার যাত্রাবাড়িতে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এর ইউনিটের সদস্যদের হাতে আটক হন। তারা দুইজনই জালালের ঘনিষ্টজন ছিলেন। ওদের মাধ্যমে জালাল উদ্দিন সু-কৌশলে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানায় মামলায় আমার স্বামী আরব আলীর নাম সংযুক্ত করেন। যার মামলা নং- ২২, তারিখ ০৫/ ০৯/ ২০১৯ ইং।

আমার স্বামী আরব আলী, পিতা- মৃত ওয়াতির আলী, সাং-নোয়াগাঁও প্রকাশ নোয়াগাঁও খুরি, থানা-গোয়াইনঘাট, জেলা- সিলেট। এর উপর দায়েরকৃত গোয়াইনঘাট থানার মামলা নং-১৫। মামলায় আইনগত সহায়তা পাওয়ার জন্য জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে গত ১১ ডিসেম্বর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। আমার স্বামী কোন অস্ত্র ব্যবসায়ী ছিলেন না। তাকে ফাঁসানো হয়েছে। আরব আলীকে ঢাকার মামলায় জড়ানোর পর জালাল এলাকায় লোকজনের কাছে বলে বেড়াতো। এবার আরব আলী হিসাব পাবে। সময় হলে ঠিকই বুঝতে পারবেন। জালালকে আটকের পর তার পরিবারের লোকজন আমাদের বিভিন্ন হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছেন। আমি তাদের হুমকিতে আমার অসহায় এই শিশুদের নিয়ে অনেক কষ্টের জীবন যাপন করছি। আমার বিশ্বাস এই ঘটনাটি সরেজমিন তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে আসল থলের বিড়াল।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..