ছাতকে ১২ লক্ষ টাকার চোরাই পণ্যসহ তিনজনকে আটক করায় এসআই রুনু মিয়ার বদলি!

প্রকাশিত: ৭:৪৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৯, ২০১৯

ছাতকে ১২ লক্ষ টাকার চোরাই পণ্যসহ তিনজনকে আটক করায় এসআই রুনু মিয়ার বদলি!

ছাতক প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের ছাতকে প্রায় ১২ লক্ষ টাকার চোরাই পণ্য ও ৩ চোরাকারবারিকে আটক করার কারণে এক পুলিশ কর্মকর্তার উপর বদলির খড়গ নেমে এসেছে বলে গুঞ্জণ উঠেছে। চোরাই পণ্য ও চোরাকারবারিদের আটককারী সেই সৎ পুলিশ অফিসার হচ্ছেন হাইওয়ে (ছাতক- বদিরগাঁও) পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রুনু মিয়া। তিনি চোরাই পণ্য জব্দ ও চোরাকারবারিদের আটক করার পর বিশেষ উপর মহলের সুপারিশ অমান্য করে চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করানোর কারণে তিনি একটি প্রভাবশালী মহলের রোষাণলে পড়েছেন বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, হাইওয়ে (ছাতক- বদিরগাঁও) পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রুনু মিয়ার নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ছাতকে গত ৮/১২/১৯ ইংরেজি তারিখে বিপুল পরিমানের ভারতীয় কসমেটিক ভর্তি পিকআপসহ তিন চোরাকারবারিকে আটক করা হয়। পরে আটককৃতদের রোববার রাতে ছাতক থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় হাইওয়ে পুলিশের এএসআই ইয়ামিন মিয়া বাদি হয়ে ছাতক থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং- ০৮।

ছাতক থানার ওসি (অপারেশন) কাজি গোলাম মোস্তফা কামাল জানান, শনিবার মধ্যারাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জয়কলস হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় চেক পোস্টে পিকআপ (নং-সিলেট- মেট্রো- ন- ১১- ১০০৬) তল­াশিকালে এসব মালামাল জব্দ করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রাস্তায় গাড়ি রেখে চালকসহ তিন চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় ধাওয়া করে পুলিশ তাদের আটক করতে সক্ষম হন।

আটককৃতরা হলেন- কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার শাহাপুর গ্রামের মৃত জিলহজ্জ মিয়ার পুত্র কিরন মিয়া (৩০), সিলেটের শাহপরান এসএপপি থানাধীন উত্তর মোকামেরগুল পীরের বাজার এলাকার মৃত জাকির হোসেনের পুত্র পিকআপ চালক জুনেদ আহমদ (২৬) ও বি-বাড়িয়া জেলার নবিনগর থানার শ্রীঘর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের পুত্র পারভেজ আলী (৩৩)। জব্দকৃত বিভিন্ন ধরণের ভারতীয় কসমেটিকসের বাজার মূল্য প্রায় ১১লক্ষ ৯৩ হাজার ৪শ’ ৩৪টাকা। পরে আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে হাইওয়ে (বদিরগাঁও) পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রুনু মিয়া এ প্রতিবেদককে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ এসব চোরাকারবারিরা চোরাই পথে সরকারের শুল্ক ও কর ফাঁকি দিয়ে সুনামগঞ্জ সদর থানাধীন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে এসব ভারতীয় পণ্য ঢাকার চকবাজারসহ রাজধানির বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে আসছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে তার নেতৃত্বে ওইদিন সড়কে চেক পোষ্ট বসানো হয়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সড়কের পাশে গাড়ি রেখে পালিয়ে যাওয়ার সময় ধাওয়া করে চালকসহ তিন চোরাকারবারিকে আটক করে পুলিশ।

এদিকে, চোরাই পণ্য ও চোরাকারবারীদের আটকের কারণ যেখানে একজন পুলিশ অফিসার প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হওয়ার কথা, সেখানে উল্টো তার বদলি হওয়ার গুঞ্জণে অবাক হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সচেতন নাগরিকদের মন্তব্য- সৎ পুলিশ অফিসারদের কদর না করলে সমাজে দিন দিন অপরাধ বাড়তেই থাকবে।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

December 2019
S S M T W T F
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  

সর্বশেষ খবর

………………………..