এমপি মানিকের পরিচয় দিয়ে মোবাইলে চাঁদা দাবি

প্রকাশিত: ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৭, ২০১৯

এমপি মানিকের পরিচয় দিয়ে মোবাইলে চাঁদা দাবি

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুহিবুর রহমান মানিকের পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবি করেছে একটি প্রতারকচক্র। বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানিয়েছেন এমপি মানিক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোববার সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাসের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে এক প্রতারক অপর প্রান্ত থেকে বলে, ‘আমার নম্বর তোমার কাছে সেভ নেই, আমি এমপি মুহিবুর রহমান মানিক বলছি।’

সিভিল সার্জন তখন বলেন, এমপি মানিক স্যারের গলার কণ্ঠ তো এমন নয়। প্রতারক এ সময় বলে আমি উনার ব্যক্তিগত সহকারী। সিভিল সার্জন তখন বলেন, তার কণ্ঠও এটি নয়। এরপর ওপাশ থেকে বলতে থাকে, আপনারা টেন্ডারে অনেক অনিয়ম করেছেন।

সিভিল সার্জন বলেন, আমরা কোনো টেন্ডারই করিনি। আপনার এহেন আচরণটি আমি পুলিশ সুপারকে এখনই জানাচ্ছি। এর পরই ফোন কেটে দেয়।

একইভাবে ডেপুটি সিভিল সার্জন মো. আশরাফুল ইসলামকেও একই নম্বর থেকে ফোন করে এমপি মুহিবুর রহমান মানিকের পরিচয় দিয়ে বিজয় দিবসের ম্যাগাজিনের জন্য চাঁদা দাবি করে। তার আচরণ ও কথাবার্তায় সন্দেহ হলে ওই কর্মকর্তা বলেন, আপনার নম্বর আমি এসপি সাহেবকে দেব। তার পরই ফোন কেটে দেয়।

একই নম্বর থেকে ফোন দিয়ে সুনামগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলী মো. আবিল আয়ান, দিরাই উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইফতেখার হোসেন, জামালগঞ্জ ও শাল্লার উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে এমপি মানিকের পরিচয় দিয়ে চাঁদা দাবি করে।

গত এক সপ্তাহজুড়ে বিভিন্ন সময়ে ফোন দিয়ে এভাবে চাঁদা দাবি করা হয়। সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিককে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিক বিষয়টি অবগত করেন।

এমপি মুহিবুর রহমান মানিক বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমি সব সময়ই সোচ্চার। আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমি এদের সঙ্গে আপসহীন ভূমিকা অব্যাহত রেখেছি।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময়ই দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক করেছেন। আমি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাগুলো প্রতিপালনের জন্য আমার নির্বাচনী এলাকাসহ জেলার বিভিন্ন সভা-সমাবেশে ওই এলাকার মানুষের কাছে তুলে ধরেছি।

এমপি মানিক বলেন, সম্প্রতি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত কয়েকটি আলোচিত দুর্নীতির ঘটনার তদন্ত কমিটিতে আমাকে রাখা হয়েছে। আমার ধারণা, আমার দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে ওই দুর্নীতিবাজ চক্রই আমার নাম ব্যবহার করে ফোন দিয়ে আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। চাঁদাবাজ চক্রের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের নম্বর নিয়ে তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হবে।

Sharing is caring!

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

November 2019
S S M T W T F
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30  

সর্বশেষ খবর

………………………..