বিশ্বনাথে প্রাচীন হাঁস-মুরগির হাট

প্রকাশিত: 5:24 PM, November 18, 2019

বিশ্বনাথে প্রাচীন হাঁস-মুরগির হাট

Sharing is caring!

মো. আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ থেকে :: থৈ-থৈ আর খুখুরু-কু ডাকে এখনও সরব রয়েছে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের বৈরাগী বাজারের প্রায় শত বছরের প্রাচীন হাঁস-মুরগীর হাট। সময়ের সাথে সাথে অনেক কিছুর পরিবর্তন হলেও পূর্বের ধারাবাহিকতায় এখনও জমজমাট রয়েছে ‘মাকুন্দা নদী’র তীরে গড়ে উঠা প্রাচীন হাটটি। হাঁস-মুরগী ক্রয়-বিক্রয়ের পাশাপাশি অনেক সৌখিন মানুষ নিজেদের অবসর সময়ে বিভিন্ন প্রজাতির হাঁস-মুরগী দেখে সময় কাটানোর জন্যও অনেকে বাজারে যান।
দীর্ঘকাল ধরে সপ্তাহের প্রতি রোববার ও বৃহস্পতিবার বসে বৈরাগী বাজারের প্রাচীন হাঁস-মুরগীর হাট। যুগ যুগ ধরে চরে আসা হাটে যত হাঁস-মুরগী পাওয়া যায়, উপজেলার আর কোন বাজারে তেমনটি পাওয়া যায়না। তাই প্রতি হাট বারে দূর-দূরান্ত থেকে যেমন হাঁস-মুরগীর ব্যাপারী, খামারী ও গৃহস্থরা নিজেদের হাঁস-মুরগী নিয়ে বাজারে আসেন সেগুলো বিক্রি করার জন্য, তেমনি ক্রেতারাও আসেন দাম যাচাই-বাচাই করে নিজেদের চাহিদা মতো পছন্দের হাঁস-মুরগী ক্রয় করতে।
খামারে উৎপাদনকৃত হাঁস-মুরগীর চেয়ে প্রাচীন এ হাটে স্থানীয়ভাবে পালনকৃত হাঁস-মুরগীর সংখ্যা বেশি থাকে। আর মানুষের কাছে খামারের চেয়ে স্থানীয়ভাবে পালনকৃত হাঁস-মুরগীর কদর বেশি থাকায় হাট বারে বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশিই থাকে। এছাড়া এ হাটে হাঁস-মুরগীর পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকারের পাখিও পাওয়া যায়। যদিও পাখি শিকার আইনত অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।
সরেজমিন বৈরাগী বাজারের হাঁস-মুরগির হাটে গিয়ে দেখা যায়, এলাকার শতাধিক নারী-পুরুষ-শিশুরা নিজেদের পরিবারে পালনকৃত হাঁস-মুরগী-পাখি এবং ব্যাপারী-খামারীরা ফার্মে পালনকৃত হাঁস-মুরগী নিয়ে বাজারে এসেছেন। এর মধ্যে দেশী মুরগ-মুরগী, কর্ক, পাতি হাঁস, চীনা হাঁস, রাজ হাঁস ও কবুতর রয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ হাঁস-মুরগী ক্রয় করতে এসেছেন হাটে। ক্রেতারা দামদর করে ক্রয় করছেন আর মনের আনন্দে তা নিজেদের কাঙ্খিত দামে বিক্রয় করছেন বিক্রেতারা। অন্যান্য বাজারের চেয়ে এই হাটে হাঁস-মুরগির দামও তুলনামূলক অনেক কম বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসী অধ্যুষিত বিশ্বনাথ উপজেলায় যে কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী বাজার রয়েছে, এরমধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে বৈরাগী বাজার। আর প্রায় শত বছর পূর্বে বৈরাগী বাজারে মাকুন্দা নদীর তীরে স্থানীয়রা গড়ে তুলে ছিলেন হাঁস-মুরগীর হাটটি। আর সপ্তাহের প্রতি রোবিবার ও বৃহস্পতিবার বসে হাট। আর হাটের দিন দুপুর থেকে বিভিন্ন এলাকার লোকজন নিজেদের পালনকৃত কিংবা খামারের হাঁস-মুরগী-পাখি নিয়ে বাজারে আসেন ক্রয়-বিক্রয় করতে। তবে হাঁস-মুরগী ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য নদীর তীরবর্তী ‘চরবাজার’ নামে একটি স্থান নির্ধারিত আছে।
আবদুর রহিম নামে এক ব্যক্তি বলেন, এ হাটে গৃহপালিত হাঁস-মুরগী বেশি পাওয়া যায় বলেই এর অন্য রকম এক ঐতিহ্য রয়েছে। ফার্মের চাইতে গৃহপালিত হাঁস-মুরগীর স্বাদই আলাদা। তাই আমি প্রায়ই খাবারের জন্য হাঁস-মুরগী ক্রয় করতে এ হাটে আসি।
বাজারে আসা বিক্রেতা গৃহিনী সেলিনা বেগম জানান, বাড়িতে পালনকৃত ৪টি মুরগী হাটে নিয়ে এসে দুটি ৪শত টাকা করে ও অন্য দুটি ৬শত টাকা করে বিক্রি করেছি। রোকসানা সুলতানা নামের আরেক গৃহিনী জানান, বাড়িতে পালনকৃত ৬টি হাঁস হাটে এনেছেন বিক্রি করার জন্য, আর এগুলো বিক্রি করা হয়ে গেলে সেই টাকা দিয়ে পরিবারের জন্য নিত্যাপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয় করবেন।
স্থানীয় মুরব্বী আছমত আলী নামের ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ জানান, কয়েক যুগ ধরে প্রতি সপ্তাহে দু’দিন (রোববার-বৃহস্পতিবার) এই হাঁস-মুরগীর এ হাট বসে। এলাকার লোকজন ও ব্যাপারীরা নিয়ে আসেন হাঁস-মুরগী-পাখি। তবে বাজারে স্থানীয়ভাবে পালনকৃত হাঁস-মুরগীর চাহিদাই বেশী। তাই হাঁস-মুরগী ক্রয় করতে দূর দূরান্ত থেকেও লোকজন আসেন প্রাচীন এ হাটে।

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

November 2019
S S M T W T F
« Oct   Dec »
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30  

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares