তাহিরপুরে ড্রেজিংয়ের নামে অবাধে কোটি কোটি টাকার বালু বিক্রি, হুমকির মুখে পরিবেশ

প্রকাশিত: 5:07 PM, November 10, 2019

তাহিরপুরে ড্রেজিংয়ের নামে অবাধে কোটি কোটি টাকার বালু বিক্রি, হুমকির মুখে পরিবেশ

Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার :: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বৌলাই নদী থেকে অপরিকল্পীত ভাবে বালু উত্তোলন করে র্দীঘ দিন ধরে নীচু জায়গা বরাট মাটি ও বালু বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে উপজেলা আ,লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর খোকন ও অটিবিএল কোম্পানীর প্রতিনিধি রাজু। আর পেশী শক্তি ও প্রশাসন ম্যানেজ করছে উপজেলা আ,লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য আবুল হোসেন খানঁ। বাধা দিলেই নানান ভাবে হয়রানী করা হয় বলে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু বিনা মূল্যে সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্টান,নীচু জায়গা,গর্ত ভরাট করার কথা থাকলেও টাকা ছাড়া কোন জায়গায় ভরাট করছে না। টাকা দিলেই ভরাট হচ্ছে আর সেই ভরাটকৃত জায়গার বালি আবার পরে টাকার বিনিময়ে অন্যত্র বিক্রি হচ্ছে অভিযোগ রয়েছে। এনিয়ে এলাকা জুড়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

এলাকাবাসী জানান,উপজেলা আ,লীগের সভাপতি আবুল হোসেন খানের ঘনিষ্টজন হাওয়ার কারনে সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর খোকন প্রভাবশালী হওয়ায় অটিবিএল কোম্পানীর প্রতিনিধি রাজু তাকে নিয়ে উপজেলার বৌলাই নদীতে খনন কাজে নিয়োজিত ড্রেজার দিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলন করে কৌশলে বালুখেকু চক্রদের সাথে মিলে দীর্ঘ দিন ধরেই উপজেলার দক্ষিনকুল,হোসেনপুর,সীমানা,মাহতাবপুর,পিরুজপুর,সীমানা,চিসকা গ্রামের নীচু ও খালি জায়গায় প্রতি শতাংশে ২০হাজার টাকা দিয়ে ভড়াট করেছে। না দিলে মাটি বরাট কাজ হয় না। এখন করছে রসূলপুর গ্রামে। আর জায়গা ভরাট করার কথা বলে বালু মজুদ করছে কৌশলে। পরে ভরাটকৃত জায়গা থেকে আবার সেই বালু বিক্রি করে ড্রেজার দিয়ে ষ্টিলবর্ডি ও ভরগেইট নৌকায় তুলে অন্যত্র পাঠিয়ে দিচ্ছে। আর এভাবেই এই বালু খেখু চক্র অবৈধ ভাবে বালু বিক্রি করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। টাকার বিষয়টি প্রকাশ হলে মাটি ও মাটি বরাট বন্ধ ও নানান ভাবে হয়রানীর শিকার হবার আশংকায় কেউ মুখ খুলতে নারাজ। এর পূর্বেও তাহিরপুর থানার সামনে থেকে জামালগড় পর্যন্ত নদী খননে একেই পথ অবলম্বন করে রাজু।

নাম প্রকাশে স্থানীয় এলাকাবাসী জানান,নদী খননের উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু বাস্তবে দেখছি নদীতে কাজ শুরু করেছেন ঠিকাদার নিজের মত করে। এতে খনন কাজের সততা নিয়ে এলাকাবাসীর মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আমরা চাই সরকারি বরাদ্দের টাকা যাতে যথাযথভাবে জনকল্যাণে ব্যয় হয় তার দাবী জানান স্থানীয়রা।

আরো জানাযায়,সম্প্রতি বৌলাই নদী থেকে অপরিকল্পীত ভাবে বালু উত্তোলন করে মাটি ফেলায় সদর উপজেলার চিকসা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুটি ভবনের নীচতলার বাড়ান্দা ও রুমের ভেতর দু’তিন ফিট করে কাঁদা মাটিতে ঢাকা পড়েছে। ফলে বিদ্যালয়ে ছাত্র শিক্ষক উপস্থিত হলে দরজা খুলতে না পেরে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্র্থীদের ছুটি দিয়ে দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এ কারনে ৩-৪দিন স্কুল বন্ধ রাখা হয়। পরে উত্তেজিত হয়ে উঠে স্থানীয় এলাকাবাসী পরে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে গিয়ে সবাইকে শান্ত করে সমাধান করে দেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন জানান,বিদ্যালয়ের ভেতর প্রবেশ করতে না পারার বিষয়টিও তিনি দ্রুত জানিয়েছেন উর্ধ্বতন কর্তপক্ষকে।
গ্রামের প্রবীন ব্যক্তি আব্দুন নূর মিয়াসহ শত-শত লোকজন বলেন,কোন সরকারী প্রতিষ্ঠানে মাটি ফেললে তারা এলোমেলোভাবে ফেলে রাখে। আর যখনই স্থানীয় দালালের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে কোন ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গায় মাটি ফেলে তখন সুন্দরভাবে মাটি ভরাট করে দেয়। যাতে করে কোন অসুবিধা না হয়।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাদাত মিয়া জানান,আমি সহ গ্রামের লোকজন কোম্পানীর প্রতিনিধি রাজু আহমেদ ও সোহেলকে বিষয়টি ঐদিন ঘটনার রাতেই জানাই কিন্তু তারা আমাদের কথা না শুনে তাদের ইচ্ছে মত মাটি ফেলে। বৌলাই নদী অটিবিএল নামক একটি কোম্পানি অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে খনের কাজ করার কারণে বিদ্যালয়ের দূরাবস্থার সৃষ্টি হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় লোকজন জানান,উপজেলা আ,লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর খোকন ও অটিবিএল কোম্পানীর প্রতিনিধি রাজু নেতৃত্বে রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ বালু খেকুচক্র। তারা টাকার বিনিময়ে বালু ও মাটি দিয়ে গর্ত ও নিচু জমি বরাট করাচ্ছে। গরীব,অসহায়,হতদরিদ্র আমরা তাদের বিরোদ্ধে কিছু বলার মত সাহস পায় না কেউ। এছাড়াও রয়েছে তাদের একটি শক্তিশালী গ্রæপ। যার জন্য কেউ কোন কথা বলে না।

এ বিষয়ে উপজেলা আ,লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর খোকন বলেন,আমার বিরোদ্ধে আনা সকল অভিযোগ মিথ্যা আমি এর সাথে জরিত না। আর আবুল হোসেন আমার দলের সভাপতি তার জন্য উনার সাথে আমার ভাল সর্ম্পক আছে।

নদী সরকারী ড্রেজার কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত্য অটিবিএল কোম্পানীর প্রতিনিধি রাজু বলেন, বালু বিক্রির বিষয়ে আমি এই বিষয়ে কিছুই জানি না। আমি সরকারী নিয়ম অনুযায়ী কাজ কররি। আমার বিরোদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। আপনার আসেন দেখে জান বালু বিক্রি বা মজুর করার সাথে আমি জরিত না।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

November 2019
S S M T W T F
« Oct   Dec »
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30  

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares