পুলিশ কনস্টেবলের একাধিক পরকীয়া, বাধার মুখে স্ত্রীকে হত্যার চেষ্টা!

প্রকাশিত: ১০:১৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০১৯

পুলিশ কনস্টেবলের একাধিক পরকীয়া, বাধার মুখে স্ত্রীকে হত্যার চেষ্টা!

Sharing is caring!

রংপুরের পীরগঞ্জে পুলিশ কনস্টেবল মাইদুল ইসলামের একাধিক পরকীয়া প্রেমে বাধা দেয়া এবং যৌতুকের দাবি পূরণ না করায় স্ত্রী সুবর্ণা আক্তারকে বেধরক পিটিয়ে ও গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছেন বলে ওই কনস্টেবল ও তার এক ভাতিজার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবারের এ ঘটনায় পীরগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন নির্যাতিত ওই গৃহবধূ।

মামলা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর কুমারগাড়ী গ্রামের মৃত. আনিছার রহমানের ছেলে মাইদুল ইসলাম রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কনস্টেবল (কং নং- ১৪০৪) পদে ২০১১ সালে যোগদান করেন। তিনি ২০১৩ সালে একই ইউনিয়নের ধুলগাড়ী গ্রামের আবুল কালাম মিয়ার একমাত্র মেয়ে সুবর্ণাকে বিয়ে করেন। এখন পর্যন্ত তাদের সংসারে সন্তান নেই। বিয়ের পর থেকেই ওই কনস্টেবল ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় রাজশাহীতেই স্ত্রী সুবর্ণাকে কয়েক দফা মারপিট করে। এছাড়াও ওই কনস্টেবল রাজশাহীতে একাধিক মহিলার সাথে পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হলে সুবর্ণা তাতে বাধা দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সুবর্ণারকে শারীরিকভাবে নির্যাতন শুরু করে মাইদুল। একই এক পর্যায়ে রাজশাহী পুলিশ লাইনে ওই কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ৩/৪ বার বিভাগীয় বিচার হয়।

একপর্যায়ে কনস্টেবল মাইদুলকে ২০১৭ সালে বরিশাল র‌্যাবে সংযুক্ত করা হয়। সেখানেও ওই কনস্টেবল আবারও একাধিক পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হলে প্রতিবাদ ও বাধা দেয় তা স্ত্রী। তাতে সুবর্ণার ওপর নির্যাতনের খড়গহস্ত নেমে আসে। কনস্টেবল মাইদুলের অপরাধের ব্যাপারে বরিশাল র‌্যাব অফিসেও একাধিকবার সালিশ হয়।

সবশেষ গত ২ অক্টোবর সুবর্ণাকে মাত্রাতিরিক্ত নির্যাতন করায় তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। ৫ অক্টোবর পর্যন্ত তার চিকিৎসা চলে। এ ব্যাপারে বরিশালে স্থানীয় পত্রিকায় লেখালেখি হলে সম্প্রতি মাইদুলকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশে পাঠানো হয়।

গত ৯ অক্টোবর থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত কনস্টেবল মাইদুলের ছুটি শুরু হলেও তিনি তার স্ত্রীকে যৌতুকের টাকা আনার জন্য বাড়িতে পাঠায়। একপর্যায়ে মাইদুল গত ১৮ অক্টোবর বাড়িতে এসে যৌতুকের টাকা না পেয়ে রাত ২টার দিকে তার ভাতিজা বিপ্লবসহ সুবর্ণাকে মারপিট করে বিনা চিকিৎসায় ফেলে রাখে। পরদিন দুপুরে সুবর্ণার অবস্থা আশংকাজনক হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পীরগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়।

এসময় বড়আলমপুর ইউনিয়নের মমিন মার্কেট নামকস্থানে কনস্টেবল মাইদুল তার পথরোধ করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। স্থানীয়রা আবারও কনস্টেবলের হাত থেকে তাকে রক্ষা করে হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডের এফ-১৬ নম্বর বিছানায় অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন সুবর্ণা। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এবং গলায় জখম দেখা গেছে।

কর্তব্যরত ডাক্তার বকুল মিয়া বলেন, ‘রোগীর (সুবর্ণা) অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে।’

চিকিৎসাধীন সুবর্ণা বলেন, ‘আমি ওর (স্বামী) নির্যাতন সহ্য করে আসছি। আমাকে সন্তানও নিতে দেয় না। চাকরিতে পদোন্নতির কথা বলে লাখ লাখ টাকা নিয়েছে। আরও দাবি করছে। আর কত টাকা দেবো? সে গত ১৮ অক্টোবর ছুটিতে এসে গভীর রাতে ভাতিজা বিপ্লবকে নিয়ে আমাকে বেধরক মারপিট করে। চিকিৎসা নিতে আসার সময়ও রাস্তার মধ্যে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। আমি বাঁচতে চাই। আমাকে বাঁচান।’

এ ব্যাপারে থানায় স্বামীসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা (নং-২৩ (২১/১০/১৯) দায়ের করেছেন ভুক্তভুগী সুবর্ণা।

এ ব্যাপারে পীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুরেশ চন্দ্র বলেন, ‘সরকারি চাকরিজীবীর বিরুদ্ধে মামলা হলে গ্রেফতারে নির্দেশ প্রয়োজন হয়। আমরা নির্দেশ পাওয়ামাত্রই ব্যবস্থা নেবো। তবে অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। সুবর্ণার পুরো পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।’

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares