জাফলংয়ে মন্ত্রীর লোক পরিচয়ে ছাতকি আলাই গ্রুপের নানা অপকর্ম

প্রকাশিত: ৬:৫১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০১৯

জাফলংয়ে মন্ত্রীর লোক পরিচয়ে ছাতকি আলাই গ্রুপের নানা অপকর্ম

Sharing is caring!

গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ে এককেজি হেরোইনসহ দইজনকে গত ২৫ সেপ্টেম্বর আটক করে পুলিশ। এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর জগন্নাথপুরের দুই ব্যাক্তিকে ঢাকায় অস্ত্রসহ আটক করে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি) গোয়েন্ধা পুলিশ। আটককৃতরা জানায়, অস্ত্রের চালান গোয়াইনঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে দেশে আনে। এ দুই ঘটনায় স্পষ্ট জানান দিচ্ছে, গোয়াইনঘাটে বিষেশ করে জাফলং এলাকা মাদক ও অস্ত্রের অভয়ারণ্যে পরিনত হয়েছে। পাথর কোয়ারিসমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে জাফলংয়ে আয়ের অবারিত সুযোগ থাকার বিভিন্নভাবে অপরাধ মাথাচাড়া দিয়েছে।

জাফলংয়ে মন্ত্রী-পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে একাধিক চক্র গড়ে উঠেছে। নিজেদের অবস্থান জানান দিতে এ সকল চক্রের সদস্যরা মোটরসাইকেল মহড়া, মাঝে মধ্যে সশস্ত্র দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। নিজেদের অবস্থান জানান দিতে একাধিক গ্রুপ-উপগ্রুপ প্রতিদিনই মোটরসাইকেল নিয়ে শোডাউনকারীদের প্রতিটি গ্রুপ-উপগ্রুপের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ছোট ছোট মাদকের আস্তানা।

সন্ধ্যা হলেই এসব গ্রুপ-উপগ্রুপ মামার দোকান, জাফলং বাজার, বল্লাঘাট ও তামাবিল এলাকায় জুড়ো হয়ে আড্ডা দিয়ে আতঙ্ক ছড়ায়। নিজেদের প্রভাবশালী পরিচয় দিতে তারা বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদের কাছের লোক দাবি করছে। তবে তাদের এ দবিকে এলাকাবাসী নাকচ করে দিয়ে বলেন, মন্ত্রী ইমরান বার বার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। তার মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পর গোয়াইনঘাট থানার তৎকালীন ওসি আব্দুল জলিল ট্রাকভর্তি উপটৌকন পাঠালেও তা ফিরিয়ে দেন মন্ত্রী। অথচ এই মন্ত্রীর নাম বিক্রি করে অপকর্ম করার চেষ্টা করছে কয়েকটি গ্রুপ। এসকল গ্রুপের পুঁজি হচ্ছে, মন্ত্রীর অনুষ্টানে গিয়ে একটি ছবি কিংবা সেলফি। কিন্তু বরাবরের মতো মন্ত্রী এসব গ্রুপ-উপগ্রুপ এড়িয়ে চলেছেন। তবু মন্ত্রীর নামে জাফলং এলাকায় গড়ে উঠেছে গ্রুপ-উপগ্রুপ। এরা সকলেই মন্ত্রীর নিজস্ব লোক পরিচয় দিয়ে নিজেদের আখের গুছিয়ে নিচ্ছে তারা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জাফংয়ে পাথররাজ্যে, মাদক-জুয়ার হাট, অস্ত্র ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করছে তিনটি গ্রুপ। এদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হচ্ছে ছাতকি আলাই গ্রুপ। এদের প্রতিটি গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলা। প্রতিদিন সন্ধ্যা হলেই অন্য এক গ্রুপ লিডারের নেতৃত্বে বসে বড় একটি মাদকের আসর। মাদকের আসর বসানো গ্রুপ লিডার কয়েকবার চেক জালিয়াতির মামলায় কারাভোগ করেন।

ছাতকি আলাউদ্দিন ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে অন্যের ভূমি দখল, অবৈধ অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পাথর লুটের অভিযোগ রয়েছে। জাফলং এলাকার বোমা মেশিন, ফেলোডার বা এক্রেভেটার থেকে পুলিশের লাইনম্যান পরিচয় দিয়ে টাকা তুলে থাকে। এছাড়া তার গ্রুপের একজন সদ্যবদলি হওয়া গোয়াইনঘাট থানার ওসি আব্দুল জলিলের ধর্মের ভাই পরিচয় দিয়ে প্রতিটি পাথরের গর্ত থেকে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা করে আদায় করতো।
স্থানীয়দের অভিযোগ কেউ প্রতিবাদ করলে এরা বিভিন্ন মামলা-হামলা দিয়ে হয়রানি করে থাকে।

ছাতকের আলাউদ্দিন (আলাই) খালি হাতে জাফলং এসে এখন কোটি কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়েছে। তা সরকারের কোন গোয়েন্ধা সংস্থায় তদন্ত করলে সব সম্পদের হিসাব পাওয়া যাবে। আলাউদ্দিন গোয়াইনঘাটের যে রাস্তা দিয়ে চলাচল সেই রাস্তায় থাকে কয়েকশ মোটরসাইকেলের শোডাউন। কোন মন্ত্রী চলাচলের ক্ষেত্রে এরকম হয়নি।

বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, আমার কোন গ্রুপ নেই। যে বা যারা অপকর্ম করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা আছে। প্রধানমন্ত্রী আপরাধের দূর্নীতির বিরুদ্ধে যে অভিযান শুরু করেছেন, তা প্রত্যেক সেক্টরে পৌছবে। অপরাধীদের কোন ছাড় নেই।

এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট থানার ওসি আব্দুল আহাদের সাথে যোগাযোগের জন্য তার সরকারি ব্যাক্তিগত নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares