যুবলীগ নেতা ওমর ফারুকের ব্যাংক হিসাব তলব

প্রকাশিত: ৮:৪৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০১৯

যুবলীগ নেতা ওমর ফারুকের ব্যাংক হিসাব তলব

Sharing is caring!

যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তাঁর এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট হিসাবগুলোর তথ্য জানাতে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আনিসুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য ফাতেমাতুজ জোহরা এবং তাঁদের সন্তানদের ব্যাংক হিসাবও তলব করা হয়েছে।

অর্থপাচার ও সন্ত্রাস অর্থায়ন প্রতিরোধে দেশের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) গতকাল বৃহস্পতিবার সব বাণিজ্যিক ব্যাংককে এসংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের নির্ভরযোগ্য সূত্র কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিএফআইইউর চিঠিতে ওমর ফারুকের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর (এনআইডি) উল্লেখ করে তথ্য চাওয়া হয়েছে। ই-মেইলের মাধ্যমে চিঠি পাঠিয়ে এই তথ্য চায় বিএফআইইউ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ক্যাসিনো ও জুয়াবিরোধী চলমান অভিযানে যুবলীগের পদস্থ কয়েকজন নেতাকর্মী আটক হয়েছেন। জি কে শামীম, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াসহ অন্যদের বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, অস্ত্র, মদসহ আটক করেছে র‌্যাব। আটককৃতরা তাঁদের কর্মকাণ্ডের অংশীদার, সুবিধাভোগী ও প্রশ্রয়দাতা হিসেবে যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীসহ যুবলীগের কয়েকজন নেতার নাম বলেছেন জিজ্ঞাসাবাদে। ওমর ফারুকের হাত ধরে অনেক অনুপ্রবেশকারী যুবলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পদ দিতে গিয়ে বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের তথ্যও উঠে এসেছে। এ ছাড়া যুবলীগের চেয়ারম্যান হওয়ার পর ওমর ফারুক চৌধুরী বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হয়েছেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে বিড়ি শ্রমিক লীগ থেকে রাজনীতি শুরু করেন ওমর ফারুক চৌধুরী। এরশাদের সময় তিনি জাতীয় পার্টির রাজনীতি করতেন। ১৯৯২ সালে শুরু করেন আওয়ামী লীগের রাজনীতি। ২০০৯ সালে যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং ২০১২সালে চেয়ারম্যান হন। ৭১ বছর বয়সেও তিনি যুব সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

যুবলীগের বর্তমান চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী পোশাক খাতের রাও গার্মেন্টস ও রাও নিটওয়ার্স অ্যাপারেল নামের দুটি কম্পানির নামে সোনালী ব্যাংকের লালদীঘি করপোরেট শাখা থেকে ঋণ নেন। প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকার এই ঋণের দায় এখন ৪৪ কোটি টাকা। এই ঋণ খেলাপি হয়ে যাওয়ার পর তিনি পুনঃতফসিল করেন। এতে ১৭ কোটি টাকা সুদ মওকুফ পান। সুবিধা নিয়েও ঋণ পরিশোধ না করায় আবার খেলাপি হয়ে যান তিনি। সুবিধার মেয়াদ আবার বাড়ানোর দাবি করলে ব্যাংক তা নাকচ করে দেয়। কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা আদায়ের জন্য আবার আবেদন করেন। তাঁর আবেদনটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার জন্য তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ব্যাংকের কাছে সুপারিশও করেন। ব্যাংক ঋণের টাকা আদায়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ও সম্পদ নিলামের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০০৯ সালে নিলামের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার পর সেই সব উদ্যোগ আর আলোর মুখ দেখেনি।

এদিকে বিএফআইইউর পৃথক চিঠিতে পুলিশ কর্মকর্তা আনিসুর রহমান ও সাবেক নারী সংসদ সদস্য ফাতেমাতুজ জোহরার হিসাব তলব করা হয়েছে। ওই চিঠিতে আনিসুর রহমানের স্থায়ী ঠিকানা দেওয়া হয়েছে—গ্রাম-শংকরপাশা, ডাকঘর-চরভাটপাড়া, থানা-কাশিয়ানী ও জেলা গোপালগঞ্জ। বর্তমান ঠিকানা—এইআইজি (পিআইও), পুলিশ হেডকোয়াটার্স, ঢাকা (সাবেক পুলিশ সুপার, যশোর)। চিঠিতে তাঁর স্ত্রী ফাতেমাতুজ জোহরা, ছেলে নাফিস তাহিয়াত ও মেয়ে আনিসা ফাতেমার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

আনিসুর রহমানের স্ত্রী ফাতেমাতুজ জোহরা বিগত দশম জাতীয় সংসদে শেরপুরের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সাল থেকে গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত যশোরে এসপি হিসেবে কর্মরত ছিলেন আনিসুর রহমান। তাঁর বিরুদ্ধে যশোর বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষক কাজী লুত্ফুন্নেসার পৈতৃক বাড়ি দখলের অভিযোগ রয়েছে। শহরের ১০টি দোকান ও ৩১টি পরিবার উচ্ছেদ করে জমি দখল করেন তিনি। জেলা পরিষদের জায়গায় দোকান বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি। তাঁর এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তরা এবং প্রতিবাদকারীরা ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় আটক হয়েছেন। নিরীহ লোক ও স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীরাও তাঁর রোষানল থেকে রেহাই পাননি। অনেকেই তাঁর সাজানো মামলায় জেল খেটেছেন।

গত বছরের আগস্টে নারায়ণগঞ্জে বদলি হন আনিসুর রহমান। এরপর গত ডিসেম্বরে তাঁকে সহকারী পুলিশ মহপরিদর্শক পদে পদোন্নতি দিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি করা হয়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares