প্রচ্ছদ

সুনামগঞ্জে বিয়ের খাবার খেয়ে নারীর মৃত্যু, অসুস্থ ৮২

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:৩২

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ::

Sharing is caring!

বিয়ের অনুষ্ঠানে খাবার খেয়ে বর-কনের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ও নিমন্ত্রিত অতিথিসহ অন্তত ৮২ জন সুনামগঞ্জ সদর ও দিরাই উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ৮ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে জলি রাণী দেব নামের এক নারী শুক্রবার দুপুরে সিলেট সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা গেছেন। তিনি সুনামগঞ্জ শহরের ওয়েজখালি এলাকার সঞ্জু দেবের স্ত্রী।
এদিকে শুক্রবার সকালে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে দুইজন এবং দিরাই হাসপাতালে ১১ জন নতুন করে ভর্তি হয়েছেন। খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে পেটের পীড়া, ডায়রিয়া, মাথা ব্যথা ও জ্বরসহ আক্রান্তদের নানা উপসর্গ দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বুধবার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সাদকপুর গ্রামের প্রয়াত প্রাণেশ তালুকদারের মেয়ে চন্দনা তালুকদারের বিয়ে হয় দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের ডাইয়ারগাঁও গ্রামের মিহির তালুকদারের সঙ্গে। ওইদিন রাতে বিয়ের অনুষ্ঠানে মাছ, মোরগ, খাসির মাংস, দইসহ নানা পদের খাবার খান নিমন্ত্রিত লোকজন। প্রায় দেড় শতাধিক লোকজন এই খাবার খান। তাৎক্ষণিকভাবে কোন প্রতিক্রিয়া দেখা না দিলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই অনেকেরই পাতলা পায়খানা, পেটের পীড়া, মাথা ব্যথা ও জ্বর দেখা দেয়। তবে বেশিরভাগেরই পাতলা পায়খানা শুরু হলে একে একে হাসপাতালে ভর্তি হতে থাকেন তারা। শুক্রবার সকালে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে দুইজন এবং বৃহস্পতিবার দিনে ও রাতে আরো ৪০ জন ভর্তি হন। দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুক্রবার সকালে ১১ জন এবং বৃহস্পতিবার বিভিন্ন সময়ে ২৯ জন ভর্তি হন। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিনজনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংশ্লিষ্টরা ৫জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। এদের মধ্যে জলি রাণী দেব শুক্রবার দুপুরে সিলেট সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা গেছেন। আক্রান্তরা সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সুনামগঞ্জ সদর ও দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এদিকে কনের মা ছন্দা রাণী তালুকদার ও চাচাতো বোন বৃষ্টি রাণী তালুকদারকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতেই সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। একই গ্রামের জলি রাণী দেবকেও শুক্রবার সকালে সিলেটে পাঠানো হয়েছিল। দুপুরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিলেট সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে পাঠানো হলে পথিমধ্যে তিনি মারা যান।
শুক্রবার সকালে বরপক্ষের সিদল দাস, কৃপেশ দাস, গাড়ি চালক রায়হান, রিপন মিয়া ও মাহবুবকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুবুর রহমান। তিনি জানান, শুক্রবার সকালে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বরপক্ষের ডাইয়ারগাঁও গ্রামের পিন্টু দাস, শ্যামলী রাণী দাস, লিপি রানী দাস, নিলয় দাস, ঐশী দাস, সেন্টু দাস, চিত্রা সেন, ইলা দাস, অনন্তপুর গ্রামের কনিকা রানী দাস, মজলিশপুর গ্রামের পূর্ণ দাস ও দুর্জয় দাসসহ ১১জন নতুন করে ভর্তি হন। এ পর্যন্ত দিরাইয়ে বরপক্ষের ৪০ জন ভর্তি আছেন।
কনের ভাই শান্ত তালুকদার বলেন, বুধবার রাতেই বেশির ভাগ মানুষ খাওয়া-দাওয়া করেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পেটের পীড়া ও পাতলা পায়খানা দেখা দিলে একে একে লোকজন দিরাই ও সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি হতে থাকেন। আমি নিজেও ভর্তি হয়েছি। তবে কেন এমন হলো তা বুঝতে পারছিনা। খাদ্যে কেন পয়জনিং হবে বুঝতে পারছি না।
দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার মাহবুবুর রহমান বলেন, আমার হাসপাতালে শুক্রবার সকালে ১১ জনসহ মোট ৪০ জন ভর্তি হয়েছেন। সবাই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। তারা আমাদের জানিয়েছেন বিয়ে বাড়িতে খাবার খাওয়ার ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পরেই তাদের সমস্যা দেখা দেয়। আমি ৫ জনকে সিলেটে রেফার করেছি।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ফুড পয়জনিংয়ের কারণে লোকজন আক্রান্ত হয়েছেন। আমাদের এখানে বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত কয়েক দফায় ৪২ জন ভর্তি হয়েছেন। আমরা তাদের চিকিৎসা দিচ্ছি। অনেকে সুস্থ হয়ে ওঠছেন। তবে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনজনকে সিলেটে পাঠানোর পর একজন মারা গেছেন।

  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ ২৪ খবর

আর্কাইভ

September 2019
S S M T W T F
« Aug   Oct »
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
shares