প্রচ্ছদ

কানাইঘাটে জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা আত্মসাত, মামলায় ফাঁসলেন দালালসহ ভূমি কর্মকর্তা

০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:০৭

স্টাফ রিপোর্টার ::

Sharing is caring!

কানাইঘাটে দলিল জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের মামলায় ফেঁসে গেছেন ভূমি কর্মকর্তা ও তার দালাল। তারা উভয়ে আম্বিয়া নামক দরিদ্র একজনের কাছ থেকে প্রায় লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন। অভিযোগটি অনেক আগে দায়ের করা হলেও কানাইঘাট থানা পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ায় বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) মামলাটি রেকর্ড করে। আসামীদের গ্রেপ্তারে জোর অভিযান চলছে বলে জানা গেছে। কানাইঘাট উপজেলার চলিতাবাড়ী  রাজাপুরের তফজ্জুল আলীর পুত্র আম্বিয়া এ অভিযোগদায়ের করেছিলেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আম্বিয়ার গাছবাড়ি বাজারস্থ ৫২৪ নং দাগের ১৫৪২নং খতিয়ানের  প্রায় দুই ডেসিমিল জায়গা দীর্ঘদিন ধরে তার চাচাত ভাই জালাল উদ্দিনের দখলে। লাখ টাকা দিলে এই জমিটি উদ্ধার করা সম্ভব বলে আম্বিয়াকে কয়েক বছর আগে জানায় গাছবাড়ী বাজার ইউনিয়ন অফিসের দালাল হিসাবে পরিচিত একই গ্রামের শৈতেন চন্দের পুত্র চন্দন চন্দ। সে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে লাখ টাকার বেশী নিয়েছে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন আম্বিয়া।

তিনি আরো অভিযোগ করেছেন, কিছুদিন আগে চন্দন তাকে কিছু কাগজপত্র দিয়ে জমিটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায়। যথারীতি এই দলিলের বিপরীতে  ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নুরুল আমীন  খাজনাও আদায় করেন। পরে ভলিউমে জমিটির মালিকানা দেখতে গিয়ে জাল দলিলের বিষয়টি ধরা পড়ে।  আম্বিয়া জানান, জাল দলিলের বিষয়টি নিয়ে বার বার চন্দনকে বলা সত্তে¡ও তিনি তা অস্বীকার করেন। এমনকি তিনি আমাকে বুঝিয়েছেন যে, যেহেতু আমার  খাজনা আদায় হয়েছে সেহেতু দলিল ঠিকই আছে। তবে বিষয়টি বুঝতে আইনজীবিদের শরণাপন্ন হলে তারাও জানিয়েছেন দলিলটি জাল। সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন সম্প্রতি কানাইঘাট সফরে গেলে এক সুধি সমাবেশে মিলিত হন।

এ সময় আম্বিয়া জাল দলিলে টাকা আত্মসাতের বিষয়টি তুলে ধরলে তিনি তাৎপক্ষনিক কানাইঘাট থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ) আব্দুল আহাদকে দ্রæত তন্দের নির্দেশ দেন। ওসি সাথেসাথে এই থানায় এসআই স্বপনকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন বলে রিপোর্ট জমা দেন। এরপর ৪ সেপ্টেম্বর আম্বিয়ার দায়েরকৃত অভিযোগটিকে মামলা হিসাবে (নম্বর ৮, ০৪/০৯/১৯) রেকর্ড করেন কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুদ্দোহা পিপিএম। গাছবাড়ী বাজার ইউনিয়েনের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নুরুল আমীনের বিরুদ্ধে প্রায়ই দুর্ণীতির মৌখিক অভিযোগ পাওয়া যায়। দালাল চন্দন ইসমাইলরা এই ইউনিয়নের সহজসরল জনগনকে নানা ভয় ভীতি দেখিয়ে টাক-পয়সা আত্মসাত করছেন দীর্ঘদিন ধরে। তারা নানা বাহানায় অতিরিক্ত খাজনা আদায় করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করেই যাচ্ছেন। তাদের খপ্পরে পড়ে অনেকে টাকা পয়সা হারিয়েছেন। এমন অভিযোগও আছে প্রচুর।

তাদের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে কানাইঘাট থানার ওসি শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেন, নুরুল আমীন একজন সরকারি কর্মকর্তা। বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা কাজ করছি। আইগত ভাবে যা করা উচিৎ আমরা তাই করব। এদিকে ভুক্তভোগী আম্বিয়াসহ কানাইঘাটের প্রতারিত অনেকেই নুরুল আমীন ও চন্দনকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

  •  
  •  
  •  

আর্কাইভ

September 2019
S S M T W T F
« Aug    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
shares