নূপুরের পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেন ডা. কমল কান্তি

প্রকাশিত: ৮:১৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৯

নূপুরের পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেন ডা. কমল কান্তি

Sharing is caring!

সিরাজগঞ্জ শহরের কমিউনিটি হাসপাতাল কমপ্লেক্সে গৃহবধূ নূপুরের সিজারিয়ান অপারেশন করেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. কমল কান্তি দাস।

অপারেশনের সময় নূপুরের পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেন ডা. কমল কান্তি দাস। গত ৮ মে শহরের কমিউনিটি হাসপাতাল কমপ্লেক্সে নূপুরের সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। পেটের ভেতর গজ-ব্যান্ডেজ নিয়ে এখন মৃত্যুর মুখে গৃহবধূ নূপুর।

মঙ্গলবার দুপুরে শহরতলির রায়পুর পশ্চিমপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, ব্যথায় বিছানায় ছটফট করছেন গৃহবধূ নূপুর। ব্যথায় মাঝে মধ্যে চিৎকার দিয়ে ওঠেন তিনি। নূপুর রায়পুর মহল্লার নুরাল শেখের মেয়ে ও সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের চাঁদপাল গ্রামের শহীদুলের স্ত্রী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৮ মে শহরের কমিউনিটি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন নূপুর। তার সন্তানের নাম নাদিয়া। সন্তান সুস্থ থাকলেও মায়ের অবস্থা খুবই খারাপ। বর্তমানে বাবার বাড়ি বিনা চিকিৎসায় ব্যথায় ছটফট করছেন তিনি। বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছেন।

তীব্র যন্ত্রণা সইতে না পেরে বিভিন্ন হাসপাতালের ডাক্তারের কাছে যান।। এরপরও তার রোগ নির্ণয় করা যাচ্ছিল না। একাধিকবার পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধরা পড়ে তার পেটের ভেতর কিছু একটা রয়েছে। পরে বেসরকারি আভিসিনা হাসপাতালে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে আবারও তার অপারেশন করা হয়। অপারেশন শেষে নূপুরের পেট থেকে গজ-ব্যান্ডেজ বের করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আভিসিনা হাসপাতালের ডা. আশরাফুল ইসলাম বলেন, সিজারিয়ান অপারেশনের সময় তার পেটে গজ-ব্যান্ডেজ রেখে সেলাই দেয়া হয়। পরে আবার অপারেশন করে পেট থেকে গজ-ব্যান্ডেজ বের করা হয়।

গৃহবধূ নূপুর বলেন, ‘আমার অবস্থা স্বাভাবিক ছিল। শহরের কমিউনিটি হাসপাতাল কমপ্লেক্সের ডা. কমল কান্তি দাস আমার জীবন নষ্ট করে দিয়েছেন। আমি সুস্থ হতে চাই। কিন্তু চিকিৎসা করাতে পারছি না।’

নূপুরের বাবা নুরাল শেখ বলেন, শহরের কমিউনিটি হাসপাতাল কমপ্লেক্সের ডা. কমল কান্তি দাস আমার মেয়ের সিজারিয়ান অপারেশন করেছেন। সিজারের বিল করা হয় ১৩ হাজার টাকা। আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হাত-পা ধরে আট হাজার টাকা পরিশোধ করেছি। এরপরও আমার মেয়ের এমন অবস্থা করেছেন ডা. কমল কান্তি। আমি এর বিচার চাই।

অভিযোগ স্বীকার করে ডা. কোমল কান্তি দাস বলেন, কাজ করতে গেলে একটু ভুল হতেই পারে। তবে এ ঘটনাটি শহরের বড় বড় প্রভাবশালী লোক সমাধানের চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের অভিযোগ এখনো আমার কাছে আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যেহেতু রোগীর অবস্থা খারাপ তাই দ্রুত তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিচ্ছি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

August 2019
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares