সুনামগঞ্জে আবারো বিআরটিসি বাস সার্ভিস বন্ধের পাঁয়তারা

প্রকাশিত: ১১:৩১ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩১, ২০১৯

সুনামগঞ্জে আবারো বিআরটিসি বাস সার্ভিস বন্ধের পাঁয়তারা

Sharing is caring!

জনদাবির প্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে বিআরটিসি বাস চালু হলেও এই বাস চলাচল বন্ধে ষড়যন্ত্র থেমে নেই। তবে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের হুমকি-ধমকি, প্রতিবন্ধকতা ও নানা সমস্যার মধ্যেই সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে যাত্রীসেবায় নিয়োজিত বিআরটিসির ৬টি বাস সরকারি কোষাগারে প্রতি মাসে ১৫ লক্ষ টাকা রাজস্ব দিচ্ছে। তবে গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা গতকাল বুধবার থেকে দুটি বাস বন্ধ রেখে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সকল বাস তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও গত সোমবার রাতে বিআরটিসি বাস চালক মোয়াজ্জেমকেও শ্রমিক নেতারা হুমকি-ধমকি দিয়ে সুনামগঞ্জ ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে বিআরটিসি বাস তুলে নেওয়ার খবরে যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিআরটিসি সিলেট ডিপো সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জে প্রায় দুই মাস ধরে বিআরটিসির ৬টি বাস চলছে। বাস চলাচলে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলছে। সড়কে বিআরটিসি বাসকে সাইড না দেওয়া, রাস্তায় গাড়ি রেখে যাতায়াতে বাধা দেওয়াসহ নানাভাবেই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলছে তারা। যে কারণে যাত্রীদের কাক্সিক্ষত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পথে পথে বাধার কারণে যথাসময়ে বিআরটিসির কোন বাসই গন্তব্যে পৌঁছতে পারেনা। তবে এই প্রতিবন্ধকতা নিয়েই প্রতি মাসে ৬টি বাস থেকে সরকারকে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা রাজস্ব দিচ্ছে। বিরাট অংকের রাজস্ব দিয়ে সরকার ভারত থেকে কিস্তিতে আনা বিআরটিসির উন্নত বাসের কিস্তি পরিশোধ করছে।

বিআরটিসির সংশ্লিষ্টরা জানান, গত মঙ্গলবার তড়িঘড়ি করে একটি সভা আহ্বান করা হয় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে। সভায় পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা এক সপ্তাহের মধ্যে বিআরটিসির ৬টি বাস তুলে নেওয়ার হুমকি দেন। মালিক-শ্রমিকদের হুমকি ধমকি ও দাবির প্রেক্ষিতে প্রশাসন আপাতত দুটি বাস তুলে নেওয়ার আহ্বান জানালে বিআরটিসির স্থানীয় প্রতিনিধি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বাস তুলে নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান।

সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে বিআরটিসি বাস চালুর প্রতিবাদে পরিবহন ধর্মঘটসহ সরকারি সিদ্ধান্তবিরোধী নানা কর্মসূচি পালন করেছে পরিবহন মালিক শ্রমিকরা। কিন্তু সিলেট-সুনামগঞ্জের যাত্রীরা পরিবহন নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে রাজপথে কর্মসূচি পালন করেন। সুনামগঞ্জের সর্বস্তরের নাগরিকবৃন্দ, যাত্রী অধিকার আন্দোলন, যাত্রী কল্যাণ পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন বিআরটিসি বাস চালু ও বিআরটিসি বাসের সংখ্যা বাড়ানোর দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। জনগণের দাবির প্রেক্ষিতেই জরুরি সভা করে বাস চালু রাখা হয়। বিআরটিসি বাসের উদ্বোধন করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। কিন্তু বাস চালুর পর থেকেই পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা সড়কে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন।

তাছাড়া বিআরটিসি’র অপর্যাপ্ত বাস জনগণের চাহিদা অনুযায়ী সেবা দিতে না পারায় যাত্রীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বাসের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি, ভাড়া কমানোসহ নানা দাবি জানিয়ে আসছেন। বাস চালুর কয়েকদিন পরেই গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি জহিরুল হকের গাড়ির চালক বিআরটিসি বাসের জানালা ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় মালিক-চালকসহ মামলা হয়েছে। তবে এখনো পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এছাড়াও গত সোমবার রাতে কয়েকজন পরিবহন শ্রমিকনেতা বিআরটিসি বাসের চালক মোয়াজ্জেমকে গাড়ি না চালানোর হুমকি-ধমকি দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে গাড়ি চালালে তাকে মারধর করা হবে এই হুমকিও দেওয়া হয়। বিআরটিসি চালক সাথে সাথেই বিষয়টি তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেন।

এ ব্যাপারে জানতে পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ নেতা মোজাম্মেল হকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। শ্রমিক নেতা নূরুল হকও ফোন ধরেননি।

বিআরটিসির প্রতিনিধি মো. শোয়াইব বলেন, গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তাৎক্ষণিক জরুরি সভা হয়। সভায় মালিক-শ্রমিকদের সংখ্যাই বেশি ছিল। তারা জোর-জবরদস্তি করে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে বাস বন্ধের আহ্বান জানায়। জরুরিভিত্তিতে আরো বাস দুটি কমানোর আহ্বানও জানায় প্রশাসন। মালিক-শ্রমিকরা এক সপ্তাহের মধ্যে সকল বাস তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই স্বল্প সময়ে আমরা সরকারকে মাসে ১৫ লক্ষ টাকা সুনামগঞ্জ থেকেই রাজস্ব দিচ্ছি। সাম্প্রতিক প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি।

জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাড. এনাম আহমেদ বলেন, আমরা খবর পেয়েছি বিআরটিসির সংশ্লিষ্টদের সবগুলো বাস বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যারা এসব বলছে, সরকারের উন্নয়নে বাধা দিচ্ছে তারা কারা? তিনি বলেন, জনগণের সেবার জন্য সরকার বিআরটিসি বাস দিয়েছে। পরিবহন মালিক শ্রমিকরা সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা না করে নিজেদের সেবার মান বাড়ালে জনগণের প্রশংসা পাবে।

সুনামগঞ্জ যাত্রী অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা মালেক হুসেন পীর বলেন, জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে, আন্দোলনের মুখে সীমিত সংখ্যক বাস দিয়ে বিআরটিসির যাত্রা শুরু হয়েছে। এখনো স্বাভাবিক সেবা দিতে পারছেনা তারা। এই অবস্থায় বাস কমিয়ে দেয়া মানে সরকার পরিবহন মালিক শ্রমিকদের কাছে ভয় পাওয়া। আমরা বিআরটিসির আরো বাস বাড়িয়ে সেবার মানোন্নতিসহ মালিক শ্রমিকদেরও তাদের সেবার মানোন্নয়নের দাবি জানাই।

এ ব্যাপারে জানতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares