ভোরে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা করল বখাটেরা

প্রকাশিত: ৪:১৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০১৯

ভোরে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা করল বখাটেরা

Sharing is caring!

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বখাটের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। সোমবার ভোরে উপজেলার চরমুঘুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জাহেদা আক্তার মিশু ওই গ্রামের মৃত সেলিম মিয়ার মেয়ে।

নিহতের মা জানান, ভোরে গ্রামের বখাটে যুবক সুজন খানের নেতৃত্বে কয়েকজন মিলে তার মেয়ে মিশুকে ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্রে দিয়ে কুপিয়ে চলে যায়। এ সময় মিশুকে রক্তাক্ত দেখে তার মা চিৎকার শুরু করেন। পরে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মিশুকে উদ্ধার করে প্রথমে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে মিশু মারা যান।

নিহতের মা সেলিনা আক্তার ও চাচা আহসান উল্লাহ অভিযোগ করেন, ৩ বছর আগে জাহেদা আক্তার মিশুকে তার বাবা পাশের সন্তোষপুর গ্রামের সালামত ব্যাপারীর ছেলে সোহেলের সঙ্গে বিয়ে দেন। বিয়ের পর স্বামী সোহেল বিদেশ চলে যান। গত ৩ বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর তিনি মায়ের সঙ্গে চরমুঘুয়া বাবার বাড়িতেই থাকতেন। কিন্তু বাবার বাড়িতে মিশুকে পাশের বাড়ির আবুল বাশার খানের ছেলে সুজন বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এর প্রতিবাদ করলে সোমবার ভোরে সুজন তার সহযোগীদের নিয়ে মিশুর ওপর হামলা চালায়। এ সময় তার মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ঘাতকরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

মিশুর চাচা সাবেক ইউপি সদস্য সেকান্দার আলী বলেন, সুজন মাদকসেবী। তার সঙ্গে মিশুর স্বামী সোহেলের যোগাযোগ আছে। যে কারণে সোহেলের প্ররোচনায় সুজন তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে ভাতিজি মিশুকে হত্যা করেছে। তিনি আরো বলেন, তিন বছর আগে ভাতিজিকে বিয়ে দেওয়ার সময় জামাতা সোহেলকে জমি বিক্রি করে বিদেশ পাঠানো হয়। পরে সে আরো টাকার জন্য শাশুড়িকে চাপ দিয়ে থাকে। তিনি দাবি করেন, এ হত্যার পেছনে জামাতা সোহেলের হাত আছে। এ ঘটনায় দায়ীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।

ঘটনার পর সুজন পালিয়ে গেলেও গ্রামবাসীর সহায়তার পুলিশ তার ছোটভাই তৌফিক খানকে আটক করেছে। ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রকিব বলেন, হত্যাকাণ্ডটি বেশ স্পর্শকাতর। পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে মামলার কার্যক্রম শুরু করবে এবং ঘাতকদের দ্রুত আটক করতে সক্ষম হব। তিনি আরো জানান, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মূল অভিযুক্ত সুজনের ভাইকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিহতের লাশের সুরতহাল এবং মামলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপপরিদর্শক উনুমং মারমাকে।

এদিকে, ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের লাশের চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares