কানাইঘাটে বেপরোয়া চোরাকারবারীরা, অবাধে আসছে গরু-মহিষ

প্রকাশিত: ৮:১৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৫, ২০১৯

কানাইঘাটে বেপরোয়া চোরাকারবারীরা, অবাধে আসছে গরু-মহিষ

Sharing is caring!

দীর্ঘদিন থেকে কানাইঘাট সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ভাবে ভারত থেকে গরু-মহিষ নিয়ে আসা হলেও কুরবানীর ঈদকে সামনে রেখে কানাইঘাটে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন চোরাকারবারীরা। তারা কোন ধরনের সরকারী নির্দেশ বা কাগজ পত্র ছাড়াই প্রতিদিন লক্ষীপ্রসাদ পুর্ব ইউপি’র দনা, সোনারখেওড়, বড়গ্রাম, ভালুকমারা সহ বিভিন্ন সীমান্তবর্তী গ্রাম দিয়ে হাজার হাজার গরু মহিষ নিয়ে আসছেন। ভারতীয় গরু মহিষ সীমান্ত প্রবেশে সরকারী বাঁধা থাকার পরও চোরাকারবারীরা প্রশাসনকে আতাত করে তা বাংলাদেশে নিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রশাসন নীরব থাকায় সচেতন মহলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে এবারের ঈদে দেশীয় গরু-মহিষের খামারী মালিকরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এ নিয়ে ইতিমধ্যে স্থানীয় বেশ কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসন চিহ্নিত চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। যার কারনে চোরাকারবারীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। প্রতিদিন পুলিশ, ডিবি পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবির নাম ভাঙ্গিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করার নামে চোরাকারবারী সিন্ডিকেট চক্র কয়েক লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করছে। এরমধ্যে বড়গ্রামের সুলতান আহমদ বিজিবি’র কথা বলে চোরাকারবারীদের কাছ থেকে প্রতিদিন চাঁদা আদায় করে। অল্প পুজিতে অধিক লাভের আশায় চোরাকারবারীদের পাশাপাশি এলাকার জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের বেশ কয়েকজন নেতারাও গরু-মহিষের ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। আর এঅবৈধ ব্যবসার সেল্ডার দিচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক একটি সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটটি সিলেটের কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ, বিজিবি, ডিবি পুলিশ ও সাংবাদিকদের উৎকোচ দেওয়ার জন্য গরু প্রতি ১ হাজার ও মহিষ প্রতি ১২’শ টাকা করে প্রতিদিন কয়েক লক্ষ টাকা আদায় করছে চোরাকারবারীদের কাছ থেকে। তার মধ্যে কানাইঘাট থানা পুলিশ, লোভাছড়া বিজিবি ক্যাম্প, দনা বিজিবি ক্যাম্প, জকিগঞ্জ বিওবাইল বিজিবি ক্যাম্পকে বড় অংকের টাকা উৎকোচ দেয়া হয় বলে প্রকাশ্যে চোরাকারবারীরা বলে আসছে। এছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চোরাকারবারী জানান প্রশাসনের সব সেক্টরে টাকা দিয়ে তারা এ ব্যবসা করে যাচ্ছেন। এতে পত্রিকায় এসব লিখে লাভ হবে না বলেও স্থানীয় সাংবাদিকদের হুমকী দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে ভারতীয় অবৈধ গরুর ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছেন লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউপি’র সদস্য শামসুল ইসলাম, সীমান্তবর্তী রাতাছড়া গ্রামের গরু-মহিষ চোরাকারবারী চক্রের সদস্য আবুল কালাম, সাদ্দাম হোসেন, লোকমান হোসেন, আফতাব উদ্দিন, কাচারি পাড়া গ্রামের ফরিদ উদ্দিন, পাতিছড়া গ্রামের সোহাগ উদ্দিন, মাদারপুর গ্রামের হেলাল উদ্দিন, পানি ছড়া গ্রামের সাহাব উদ্দিন, রাতা ছড়া গ্রামের আবু মিয়া, এরালীগুল গ্রামের আবুল কালামের পুত্র রায়হান উদ্দিন, রাতাছড়া গ্রামের আবুল কালাম, সাদ্দাম হোসেন, লোকমান হোসেন, আফতাব উদ্দিন, কাচারিপাড়া গ্রামের ফরিদ উদ্দিন, পাতিছড়া গ্রামের সোহাগ উদ্দিন, মাদারপুর গ্রামের হেলাল উদ্দিন, পানি ছড়া গ্রামের সাহাব উদ্দিন, রাতা ছড়া গ্রামের আবু মিয়া, দনা গ্রামের শুয়াইবুর রহমান, তাজ উদ্দিন, নিজাম উদ্দিন, আইনুল হক, হারিছ উদ্দিন, মাছুম আহমদ, রায়হান উদ্দিন, দিলাল আহমদ, বিলাল আহমদ, ছাদ্দাম হোসেন, রহিম উদ্দিন, হুনা মিয়া, ফখরুল ইসলাম, ফরিদ উদ্দিন, সাদ্দাম হোসেন, ইসলাম উদ্দিন সোনর খেওড় গ্রামের আনিছ উদ্দিন, তাজ উদ্দিন, মুহিবুর রহমান, আতিক উদ্দিন, ভালুকমারা গ্রামের হাছন মিয়া, জামাল উদ্দিন, বিলাল উদ্দিন, উজান বারাপৈত গ্রামের শাহাজাহান, দিঘীরপাড় গ্রামের রুপা মিয়ার পুত্র কামাল উদ্দিন, আনোয়ারের পুত্র মাতাব উদ্দিন, ব্যবসায়ী সুয়াইবুর রহমান সোনা বন্ধু, দর্পনগর পশ্চিম গ্রামের মন্তাজ আলীর পুত্র খলিল আহমদ, মনোহর আলীর পুত্র রাজা মেম্বার, জমসেদ আলীর পুত্র তাজ উদ্দিন, ফরিদ উদ্দিনের পুত্র মুসলিম উদ্দিন, হইয়া আজীর পুত্র বতল আজী, ব্যবসায়ী ফারুক আহমদ, আব্দুস ছালামের পুত্র আবু রায়হান পাবেল, মৌনগর গ্রামের ফয়জুল ইসলামের পুত্র শাহাজাহান, পূর্ব কাপ্তানপুর গ্রামের আব্দুল মনাফের পুত্র শালিক আহমদ, পূর্ব ঠাকুরেরমাটি গ্রামে, আব্দুল মনাফের পুত্র রফিক আহমদ, ব্যবসায়ী বিলাল আহমদ, জয়ফৌদ গ্রামের শরীফ উদ্দিনের পুত্র আব্দুল্লাহ, হরু হুনার পুত্র নাজিম উদ্দিন, আজির উদ্দিনের পুত্র কয়ছর মেম্বার, মজর আলীর পুত্র আব্দুল ওয়াদুদ, আজির উদ্দিনের পুত্র আকলিছ আলী, ব্যবসায়ী সাইদুল, আজির উদ্দিনের পুত্র ফয়ছল, দুয়ারীমাটি গ্রামের আব্দুল মুতলিবের পুত্র শাহাব উদ্দিন, দক্ষিণ কুওরেরমাটি গ্রামের লুৎফুর রহামানের পুত্র বদরুল মেম্বার, ফকির আলীর পুত্র মনি মিয়া। এছাড়াও সড়কের বাজার এলাকার মারুফ, ইকবাল, আলাই, বুরহান, বাদল, গফুর সহ কয়েক শতাধিক অবৈধ ব্যবসায়ী। এব্যাপরে কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল আহাদ জানান সীমান্ত দেখার দায়িত্ব বিজিবির। কারন গরু মহিষ দেশে আসার পর এ গুলো দেশি গরু-মহিষ না বাহিরের তা বুঝা কঠিন। তবুও পুলিশ সাধ্যমতো কাজ করছে। লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউপির চেয়ারম্যান ডা. ফয়াজ আহমদ জানান চোরাকারবারীদের হাতে তারা অসহায় হয়ে পড়েছেন। চোরাকারবারীরা যা ইচ্ছা তাই করছে। সীমান্ত এলাকা দিয়ে নিয়ে আসা গরু-মহিষ তার ইউনিয়নের রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করছে। লোভাছড়া ও দনা বিজিবি ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান অবৈধ গরু-মহিষ সব-সময় তারা আটকের চেষ্টা করেন। অনেক সময় চোরা কারবারীরা তাদের উপর সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালায়। তাদের প্রত্যেকের হাতে ধারালো অস্ত্র থাকে। গত দু’মাসে অনেক গরু-মহিষ আটক করে নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। চোরাকারবারীদের সাথে বিজিবির কোন সম্পর্ক নেই।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares