প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের উপেক্ষা করে চলছে এনজিওর কার্যক্রম

প্রকাশিত: 4:49 PM, July 18, 2019

প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের উপেক্ষা করে চলছে এনজিওর কার্যক্রম

সিলেটের সীমান্তবর্তী জনপদ গোয়াইনঘাট উপজেলায় একটি বেসরকারি সেচ্ছাসেবী সংস্থার কার্যক্রম দেখে উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল হতবাক হয়ে পড়েছেন। ওই বেসরকারি সেচ্ছাসেবী সংস্থার নাম হচ্ছে এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্ক।

উপজেলা পর্যায়ে কোন সরকারি অথবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কোন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হলে সর্বপ্রথম উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সংস্থার দায়িত্বশীল ব্যাক্তি পত্র বা তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে প্রকল্প সম্পর্কে ধারণা দিতে হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সরকারি প্রতিটি দফতরের কর্মকর্তা, সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করে প্রকল্প সম্পর্কে অবহিত করতে হয়।

কিন্তু গোয়াইনঘাট উপজেলায় এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্ক ‘ক্রিয়েটিন আর্সেনিক সেইফ ইউনিয়ন উইথ সাসটেইনেবল ইম্প্রুভমেন্ট অব ওয়াস প্রজেক্ট’ নামে একটি প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করছে যেটি প্রজেক্ট সম্পর্কে বিন্দু মাত্র ধারণা নেই উপজেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সংবাদকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের।

এই এনজিওটি বিগত ২৫ জুন এ প্রজেক্ট পরিচালনার জন্য সুকৌশলে গোপনে কর্মী নিয়োগ করে। স্থানীয় অথবা জাতীয় পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞাপ্তী না দেয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এসব পদে গোয়াইনঘাট তথা সিলেট জেলার কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ পাননি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই প্রজেক্ট পরিচালনার জন্য একজন প্রজেক্ট ম্যানেজার নিয়োগ করা হয়েছে। যার বেতন ৯০ হাজার টাকা। উপজেলা ম্যানেজার একজন যার বেতন ৫০ হাজার টাকা। একাউন্টেট একজন বেতন ৪০ হাজার। মনিটরিং অফিসার একজন ৪০ হাজার টাকা। ইঞ্জিনিয়ার একজন বেতন ৪০ হাজার টাকা। কনস্ট্রাকশন সুপার ভাইজার একজন বেতন ৪০ হাজার টাকা। সুপারভাইজার ৩ জন বেতন জনপ্রতি ৩০ হাজার টাকা করে। এছাড়া গোয়াইনঘাট উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৯ জন কর্মী বেতন ১২ হাজার টাকা করে।

কর্মীদের মধ্যে রুস্তমপুর ইউনিয়নে ২ জন, ফতেহপুর ইউনিয়নে ৩ জন, আলীরগাওঁ ইউনিয়নে ৩ জন, পূর্ব জাফলং ইউনিয়নে ৩ জন, ডৌবাড়ী ইউনিয়নে ৩ জন, পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নে ২ জন, লেঙ্গুড়া ইউনিয়নে ২ জন, তোয়াকুল ইউনিয়নে ২ জন এবং নন্দীরগাঁও ইউনিয়নে ২ জন কর্মী নিয়োগ পেয়েছেন।

প্রজেক্টের দাতা সংস্থা হলো ইউনিসেফ ও প্র্যাক্টিক্যাল একশন। ১ জুলাই থেকে সংস্থাটি প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ এবং গণমাধ্যম কর্মীদের না জানিয়ে গোপনীয়ভাবে গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সার্ভে ও সিএসএ গঠনের কাজ করছে। এ প্রজেক্টে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা ও কর্মীদের বেতন ভাতা এবং টিএ-ডিএ বাবত প্রতি মাসে ব্যায় ধরা হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টাকা। প্রজেক্টটি চলবে ২ বছর। সে হিসেবে প্রজেক্ট থেকে বেতন ও ভাতা বাবত ব্যায় হবে প্রায় দুই কোটি টাকা।

এখন উপজেলাবাসী জানতে চায় দুই কোটি টাকা বেতন ও ভাতা বাবত ব্যায় হলে গোয়াইনঘাট উপজেলায় সংস্থাটি কত কোটি টাকার কাজ বাস্তবায়ন করবে? সচেতন মহল জানতে চায় নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ে চলে যাওয়ার পরও স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধির সাথে সংস্থাটির কর্মকর্তা ও দায়িত্বশীলরা লুকোচুরি করছেন কেন?

এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিত কুমার পাল বলেন- এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্ক নামের একটি এনজিও গোয়াইনঘাট উপজেলায় ইতিপূর্বে নিরাপদ পানি, স্যানিটেসন এবং স্বাস্থ্য বিধি নিয়ে কাজ করেছে। চলমান প্রজেক্ট নিয়ে এখনও কোন সভা বা সেমিনার করেননি।

এ ব্যাপারে এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্কের ক্রিয়েটিন আর্সেনিক সেইফ ইউনিয়ন উইথ সাসটেইনেবল ইম্প্রুভমেন্ট অব ওয়াস প্রজেক্টের এরিয়া একাউন্টেন্ট অফিসার মধুসূদন দে বলেন- প্রজেক্টের কার্যক্রম চলছে তা ঠিক। দুই এক মাসের মধ্যে সবাইকে অবগত করবো।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..