প্রচ্ছদ

বিশ্বানাথে সম্পত্তির লোভে গর্ভের সন্তান হত্যা, তোলপাড়

১৬ জুলাই ২০১৯, ২০:১৭

স্টাফ রিপোর্টার ::

Sharing is caring!

সম্পত্তির জন্য মানুষরূপি কিছু অমানুষ এই যুগে কত কী না করে। সম্পত্তির জন্য ভাইয়ে-ভাইয়ে দন্দ্ব, পিতা-পুত্রের দন্দ্ব, মা-ছেলের দন্দ্ব, পরিবারে-পরিবারে দন্দ্ব। সম্পত্তির লোভে এসকল দন্দ্ব এক পর্যায়ে হত্যায় পরিনত হচ্ছে। প্রতিদিন টিভি চ্যানেলে, পত্রিকায়, অনলাইন নিউজ পোর্টাল পড়লেই চোঁখে পড়ে এরকম ঘটনা। আমরা শুনেছি, দেখেছি এরকম অহরহ ঘটনা। তবে শুনিনি মায়ের গর্ভে থাকা ৬ মাসের নিষ্পাপ শিশুকে সম্পত্তির জন্য হত্যা!
এমনি ঘটনা ঘটেছে সিলেটের বিশ্বনাথ থানার দেওকলস ইউনিয়নের কোনারাই গ্রামের এক পরিবারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে সম্পত্তির লোভে মা’কে ঔষধ খাইয়ে গর্ভের সন্তানকে হত্যা করার। এনিয়ে মামলারও প্রস্তুতি চলছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের বিশ্বনাথ থানার দেওকলস ইউনিয়নের কোনারাই গ্রামের মৃত বসির আহমদের ছেলে তৌফিকুল ইসলাম (৩৪) ও শফিকুল ইসলাম (২৮)। মৃত বসির আহমদের স্ত্রী মারা যান ছেলেদের ছোট রেখেই। অবুঝ সন্তানরা সেই সময়ে শুধু মাকেই খোঁজে। মা’য়ের কমতির জন্য বসির আহমদের ২য় বিয়ে করেন। প্রথম কয়েক বছর ভালো চলে বসির আহমদের সংসার। পরে এক সুখবর তার সংসারে ফাটল ধরায়। বসির আহমদের ২য় স্ত্রী ফাতেহা বেগম যখন গর্ভবতি হন। কারণ বসির আহমদের বিশাল সম্পত্তি রয়েছে। সৎ মা ফাতেহাও সেই সময়ে আড় চোঁখে দেখেন মা হারা সেই তৌফিকুল ও শফিকুলকে। বিষয়টি বসির আহমদ বুঝতে পেরে তার দুই সন্তানদের বাড়ির তার বোনদের কাছে দিয়ে দেন। সৎ মা ফাতেহাও খুশি হন। সৎ মা ফাতেহাও এক মেয়ে সন্তান জন্মদেন। মেয়ের নাম রাখেন ফাহিমা আক্তার। এদিকে ফুফুদের লালন-পালনে তারা বড় হয় তৌফিকুল ও শফিকুল। সৎ মায়ের কারণে বাবার মায়াও তেমন পায়নি তৌফিকুল ও শফিকুল। এক পর্যায়ে তাদের ঢাকার ফুফুর কাছে তারা চলে যায়। সৎ মা তাতে অনেক খুশি হন কারণ এখন এই সম্পত্তির মালিক একা তার মেয়ে ফাহিমা আক্তার।

কয়েক বছর থাকার পর বসির আহমদ মারা যান। তাই নিজের ভিটে বাড়িতে ফিরে আসে শফিকুল আর তৌফিকুল ঢাকায় থেকে ব্যবসা করে। সিলেটে এসে শফিকুলও নিজের ব্যবসা শুরু করে। ব্যবসার পাশাপাশি শফিকুল ২০১৬ সালের ৩০মে বিয়ে করে ফুফুতো বোন ইতিকে। পারিবারিক ভাবেও তাদের বিয়ে হয়। বছর খানিক যাবার পর শফিকুলও এক খুশির সংবাদ পান। তার স্ত্রী ইতির গর্ভবতী। স্ত্রীকে ডাক্তার দেখানোর পর ডাক্তার পরীক্ষার করে জানায় তার স্ত্রীর গর্ভে পুত্র সন্তান এবং সে সুস্থ। খবরটি শুনে শফিকুলও অনেক খুশি হয়। সে মিষ্টি বিতরণ করে আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে বাড়িতে। কিন্তু সেই খুশি সহ্য হয়নি সৎ মা ফাতেহা বেগম ও সৎ বোন ফাহিমার। কারন বংশের -তারা পরিকল্পনা করে এই সন্তানটিকে গর্ভে নষ্ট করার জন্য। সেই পরিকল্পনায় সৎ বোন ফাহিমা যোগ করে তার প্রেমিক সামিয়াল চৌধুরী ও সামিয়াল চৌধুরীর বন্ধু মান্না হোসেনকে। সামিয়াল চৌধুরী সিলেট নগরীর উপশহরের জি ব্লক ১নং রোডের ২১নং বাসার বিলাস ভবনের বাসিন্দা ও মান্না হোসেন আহমদ পুর তেমুখি ডিয়ার ফোম ফ্যাক্টরির মালিক মকবুল হোসেনের ছোট ছেলে।

গর্ভে সন্তান নষ্টের পরিকল্পনা : শফিকুলও এক খুশির সংবাদ শুনে সম্পত্তির লোভে পরে সৎ মা ফাতেহা বেগম ও সৎ বোন ফাহিমার তারা ধীরে ধীরে পরিকল্পনা করে এই সন্তানটিকে গর্ভে নষ্ট করার। মূল পরিকল্পনাকারী ফাহিমা। চতুর ফাহিমা ভাব জমায় ইতির সাথে। খোজঁ খবর নেয়, খাবারো খাইয়ে দেয় মুখে তুলে। তখন তার সেই পরিকল্পনায় যোগ করে সামিয়াল চৌধুরী ও মান্না হোসেনকে। ফাহিমার প্লান অনুযায়ী সামিয়াল চৌধুরী ও মান্না হোসেন সিলেট থেকে গর্ভপাত করার জন্য ঔষধ কিনে নেয়। এখানেই সামিয়াল চৌধুরী ও মান্না হোসেনের কাজ শেষ। ২৩ জুন রবিবার বিকেলে শফিকুল যখন বাড়িতে ছিলোনা। তখন সময় বুঝে ফাহিমা ইতিকে দুধের সাথে সেই ঔষধ মিশিয়ে খাইয়ে দেয় ইতিকে। প্রায় ২৪ ঘন্টা পর মঙ্লবার দিবাগত রাত ২টায় ইতির পেটে ব্যাথা অনুভব করে। ব্যাথার বিষয়টি শফিকুলকে জানালে শফিকুল তাৎক্ষনিক ইতিকে নিয়ে সিলেটের ইবনে সিনায় ভর্তি করেন। সেখানেই মূল জট খুলে। ডাক্তার জানায় গর্ভের সন্তান পেটে মারা গেছে। মৃত সন্তান প্রসব করে ইতি। ডাক্তার কারণ দেখিয়েছে অতিরিক্ত ঔষদ সেবন কারণে সন্তানটি পেটে মারা গেছে। আকাশ ভেঙ্গে পরে শফিকুলের মাথায়! বিষয়টি মানতে পারে নি শফিকুল তবে কিভাবে এই ঘটনা?

দু’দিন পরে ইবনে সিনায় সুস্থ হবার পর ইতি শফিকুলকে জানায় ২৩ জুন রবিবার বিকেলে শফিকুল যখন বাড়িতে ছিলো না। তখন ফাহিমা ইতিকে দুধের খাওয়ায়। দুধ খাবার পর কিছুটা ব্যাথা অনুভব হয়। কিছুক্ষন পর তা আবার ঠিক হয়ে যায়। তাই সে এই বিষয়টি শফিকুলকে বলেনি।

ইতির স্বামী শফিকুল কে বলেন, ফাহিমাকে আমি নিজের বোনের মতো দেখি, কিন্তু সে কখনোই ভাই ভাবে না। সব সময়ই আমার সাথে খারাপ আচরন করে। ফেসবুকে, ইট্রাগ্রামে ছবি দেয়া ঠিক না এসব কাজে ফাহিমাকে বাঁধা দেয়া আমার অপরাধ। এই সম্পত্তি আমার বাবার। তিনি সম্পত্তি বাটবটুরা করেননি। তাই পথের কাটা আমি। আমার বড় ভাই তৌফিকুল ঢাকায় চাকরি করেন। তিনি ওখানেই সেটেল। আমার সন্তান নষ্ট করার পর আমরা সিলেটে এক আত্মীয়ের বাসায় থাকি। এখন আমার মা ফাতেহা বেগম ও বোন ফাহিমা আমাদের সম্পত্তি বিক্রি করার জন্য লোক নিয়োগ করেছেন। তারাই আমাকে জমি জমা বিক্রি করবো কেনো জিঞ্জেস করায় আমি বিষয়টি জেনেছি। আমার সন্তান নষ্ট করায় ডাক্তারের সব পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে আমি আইনের আশ্রয় নিচ্ছ

বিষয়টি জানতে ফাতেহা বেগম ও ফাহিমা আক্তারের মোবাইল ফোন (০১৭৪৫xxxx৪১) নাম্বারে কল করলে তারা কল রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অতিরিক্ত ঔষদ সেবন কারণে সন্তানটি পেটে মারা গেছে বলে কে জানিয়েছেন ইবনে সিনার গাইনি/স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জামিলা আলম।

  •  
  •  
  •  

আর্কাইভ

shares