সুরমাপাড়ের সৌন্দর্য্য অবৈধ স্ট্যান্ড ও চটপটির দখলে : টাকা নিচ্ছে থানা পুলিশ 

প্রকাশিত: ৮:০১ অপরাহ্ণ, জুন ১৬, ২০১৯

সুরমাপাড়ের সৌন্দর্য্য অবৈধ স্ট্যান্ড ও চটপটির দখলে :  টাকা নিচ্ছে থানা পুলিশ 

Sharing is caring!

এক সময় নগরীর সুরমার পাড় সংলগ্ন সৌন্দর্য্য প্রতিদিনই আকৃষ্ট করতো দর্শনার্থীদের। যান্ত্রিক নগরীর বিনোদন প্রিয় সিলেটবাসীর সাথে এই স্থানটি যুক্ত হওয়ার পর থেকে প্রতিদিনই ভিড় ছিলো দর্শনার্থীদের। পড়ন্ত বিকেলে নগরীর এই স্থানটি হয়ে উঠতো সকল নগরবাসীর বিনোদনের প্রাণকেন্দ্র। বিশেষ করে যেকোনো উৎসবকে কেন্দ্র করে এই স্থানটিতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ছিলো। কিন্তু এখন আর আগের সুন্দর্য্য নেই।

সুরমাপাড়ের সেই সৌন্দর্য এখন দর্শনার্থীদের কাছে টানেনা। পাল্টে গেছে সুরমার চিরচেনা সেই রূপ। নগরীর প্রাণ কেন্দ্রের অবকাশ যাপনের এই স্থানটি এখন ধারণ করেছে ভিন্নরূপ। প্রশস্থ খোলা জায়গায় গড়ে উঠেছে চায়ের দোকান। রয়েছে সারি সারি চটপটির দোকান। নগরবাসী হাটা-চলার জায়গায় বসানো হয়েছে চেয়ার টেবিল। এই স্থানটিতে চটপটি বিক্রেতা ফারুকের নেতৃত্বে বসানো হয়েছে ২১ টি চটপটি ও চায়ের দোকান।

অভিযোগ উঠেছে এসএমপির কোতোয়ালি থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। কোতোয়ালি থানা পুলিশ এই সব দোকান থেকে দৈনিক টাকা নিচ্ছে। প্রতিদিন কতোয়ালীর থানাকে দোকান প্রতি ৩০০ টাকা করে দেন ২১ টি চটপটির দোকান মালিক। দোকান মালিক বলেন, চটপটি বিক্রেতা ফারুকের মাধ্যমে এই টাকাটি থানা পুলিশের কাছে পোঁছে দেন।

শাহজালাল চটপটিসহ মোট চাঁরটি অবৈধ দোকানের মালিক ফারুক আহমেদ জানান, প্রতিদিন কোতোয়ালি থানা পলিশকে দোকান প্রতি ৩০০ টাকা করে দেওয়ার শর্তে এখানে দোকান বসানো হয়েছে। বিদায় প্রতিদিন ২১ টি দোকান থেকে এই টাকা পুলিশকে দেওয়া হয়।

যার ফলে গত (৭ জুন) শুক্রবার রাতে পুলিশের অভিযানে এই অবৈধ ৫টি চটপটি গাড়ি থানায় নেওয়া হয়। পরে ফারুক থানায় গিয়ে ওসির কাছ থেকে গাড়ি ছাড়িয়ে আনেন। শুধু তাই নয় এই অবৈধ চটপটির দোকানদারা সিটি কপোরেশনের লাইটপোষ্ঠ থেকে তার টেনে অবৈধ বিদ্ৎু সংযোগ নিয়ে ব্যবসা করেন। এমনকি তারা ব্যবসা শেষে দোকান গুলো সুরমারপাড়ে রেখে যান। কিন্তুু রহস্যজনক কারণে সিসিক কর্তৃপক্ষ নিরব ভ‚মিকা পালন করছেন।
তাছাড়া, অবকাশ যাপনের মুল রাস্তার এক অংশে শোভা পাচ্ছে সিলেট সিটি করপোরেশনের ট্র্যাক ও লরি। প্রায় ১৫/২০ টি ট্র্যাাক লরি এই স্থানে থাকার দৃশ্যটি নতুন নয়। দর্শনার্থীরা এই নিয়ে ক্ষোভ দেখালেও সিসিক বিষয়টি না দেখার ভান করছে।

নগরীর সচেতন বাসিন্ধারা বলেন, সিলেটে লোকজন বাড়ছে সাবেক অর্থমন্ত্রী উন্নয়নের জন্য প্রচুর অর্থ বরাদ্ধ দিয়েছিলেন কিন্তু এত টাকা গেল কই। বর্তমান সংসদ সদস্য ও পররাষ্টামন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সহজ সরল ভাল মানুষ তিনি সিলেটের উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন। আর আমাদের মেয়র আরিফুল হক চৌধরী হকার উচ্ছেদে ব্যস্ত। মিডিয়ায় আরিফকে ভাল কাভারেজ দেয়। কিন্তু আরিফ নিজেই সিটি কপোরেশনের অবৈধ গাড়ির পাকিং করেছেন এখন আমরা কার কাছে দাবী জানাবো।

নগরবাসীর বিনোদনের প্রাণকেন্দ্র সুরমাপাড়ের আগের সৌন্দর্য্যকে ফিরিয়ে দিতে মেয়রের কাছে হস্থক্ষেপ কামনা করেন নগরীর সচেতন মহল।

জানাগেছে, ২০০৬ সালে নগরবাসীর অবকাশ যাপনে তৈরী হয় সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ। সিসিকের তত্বাবধানে ২০০৮ সালে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মোহিত এটিকে আরো সংস্কার করেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares