সিলেটে বিএনপিতে নতুনদের ‘চমক’ পুরাতন মুখ হাতেগোনা

প্রকাশিত: ৮:১৮ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০১৯

সিলেটে বিএনপিতে নতুনদের ‘চমক’ পুরাতন মুখ হাতেগোনা

সিলেট বিএনপিতে মনোনয়ন যুদ্ধে চমক দেখালেন নতুনরা। পুরাতন মুখ হাতেগোনা দু-একজন। বাকি সবাই নতুন। নতুন প্রার্থীদের নিয়ে এবারের চ্যালেঞ্জিং ভোটযুদ্ধে নামছে সিলেট বিএনপি। আশার কথা হলো- এবারই প্রথম মনোনয়ন প্রার্থী ঘোষণা দেয়া হলেও নেই দলাদলি। কেউ কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি। আর মনোনয়ন পাওয়ার পর এখন নির্বাচনী প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন সবাই। তাদের ঘিরে আলাদা আমেজ তৈরি হয়েছে সিলেট বিএনপির রাজনীতিতে।বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এমন উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়নি।

তবে সিলেট জেলার ৬টি নির্বাচনী আসনের মধ্যে ৪টিতে দু’জন করে প্রার্থী দেয়া হয়েছে। বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন- পরবর্তীতে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক একজন প্রত্যাহার করে নেবেন। সিলেট-৫ আসনের প্রার্থী মামুনুর রশীদ মামুন সোমবার দলীয় কার্যালয় থেকে ডাক পেয়েছিলেন। কিন্তু রাতেই সিদ্ধান্ত বদল করা হয়। এ আসনটি শরিক জামায়াতে ইসলামীকে ছাড় দেয়া হতে পারে বলে জানান তারা।

সিলেট-১ আসনে এবার মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও সিনিয়র নেতা ইনাম আহমদ চৌধুরী। গতকাল দুপুরে দলীয় কার্যালয় থেকে তারা মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন। মনোনয়ন পাওয়ার পর গতকাল দুপুরে বিমানের ফ্লাইটে সিলেট এসে পৌঁছেছেন খন্দকার মুক্তাদির। রাতে তিনি মানবজমিনকে জানিয়েছেন- আজ (বুধবার) সকালে তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। তিনি বলেন- কৌশলগত কারণে সিলেটের কয়েকটি আসনে দুইজন করে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। শেষে একজন প্রত্যাহার করবেন। সিলেট-১ আসনে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও ইনাম আহমদ চৌধুরী দুইজনই হচ্ছেন নতুন মুখ। এ আসনে ২০০৮ সালে বিএনপি থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন প্রয়াত নেতা এম সাইফুর রহমান।

সিলেট-২ আসনে নেই ইলিয়াস আলী। ৭ বছর ধরে নিখোঁজ তিনি। বিএনপির তরফ থেকে গতকাল ইলিয়াস আলীর স্ত্রী বেগম তাহসিনা রুশদীর লুনাকে এ আসনে প্রার্থী দেয়া হয়েছে। ‘ব্যাকআপ’ হিসেবে এ আসনে প্রার্থী রাখা হয়েছে ইলিয়াস আলীর ছেলে আবরার ইলিয়াসকে। তাকেও গতকাল মনোনয়ন পত্র দেয়া হয়। সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ময়নুল হক জানিয়েছেন- মনোনয়ন পাওয়ার পর গতকাল রাতে তাহসিনা ও আবরার সিলেটে এসে পৌঁছেছেন। আজ সকালে তারা মনোনয়নপত্র জমা দিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়ন জমা দেবেন। এ আসনে মা ও ছেলে দুইজনই হচ্ছেন প্রার্থিতায় চমক।

সিলেট-৩ আসনে পুরাতন মুখ ও সাবেক এমপি শফি আহমদ চৌধুরী পেয়েছেন মনোনয়ন। তার সঙ্গে মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এ সালাম। গতকাল দুপুরে ব্যারিস্টার সালাম নিজে গিয়ে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন। এ আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন যুবদলের সাবেক সহসভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীও। নতুন মুখ হিসেবে এ আসনে চমক দেখালেন ব্যারিস্টার সালাম। শফি ও সালামের মধ্যে দুই জনের মধ্য থেকে যেকোনো একজনকে মনোনয়ন দেয়া হবে।

সিলেট-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী পুরাতন মুখ ও সাবেক এমপি দিলদার হোসেন সেলিম। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক। এ আসনে আরো মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির সহস্বেচ্ছা বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সামসুজ্জামান জামান। মনোনয়ন পাওয়ার পর সিলেটের জামান অনুসারীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।

সিলেট-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়নের জন্য ডাক পেয়েছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক ছাত্র নেতা মামুনুর রশীদ মামুন। সোমবার তাকে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়টি জানানো হয়। কিন্তু মধ্যরাতে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়। জোটের শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর চাপের মুখে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত মনোনয়নপত্র হাতে পাননি মামুন। মামুনুর রশীদ মামুন মানবজমিনকে জানিয়েছেন- ‘আমাকে মনোনয়ন দিয়ে প্রত্যাহার করার অপসন রাখা যেত। কিন্তু মনোনয়নপত্রও দেয়া হয়নি। এতে করে সিলেট-৫ আসনে বিএনপি আরেকবার আত্মহত্যা করলো।’

সিলেট-৬ আসনে এবার চমক দেখালেন সিলেট ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফয়সল আহমদ চৌধুরী। দলের ভেতরে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে অবশেষে গতকাল বিকালে তিনি দলীয় মনোনয়ন হাতে পেয়েছেন। এ আসনে বিএনপির আরেক প্রার্থী হেলাল খানকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে- সেটি গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফয়সল আহমদ চৌধুরী মানবজমিনকে জানিয়েছেন- ‘বার বার এক আসন শরিকদের ছাড় দেয়া উচিত নয়। আমি মনোনয়ন পাওয়ার কারণে এলাকার নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বসিত হয়েছে। দীর্ঘ দিন পর গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারে বিএনপি নির্বাচনী রাজনীতি শুরু হলো। এবার এই আসনটিতে বিএনপি চমক দেখাবে বলে জানান তিনি।

সূত্র-মানবজমিন

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..