প্রচ্ছদ

সিলেটের আলোচিত পকেটমার কমলাকে নিয়ে তোলপাড়

০৭ জুন ২০১৯, ০০:৪৬

নিজস্ব প্রতিবেদক ::

Sharing is caring!

সিলেটের নগরীতে নারী পকেটমারদের একটি শক্তিশালী চক্র রয়েছে। ঈদের আগে গত রোববার ০৩ জুন বিকাল ৩টায় এক নারী পকেটমারকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে দিয়েছিলো জনতা। কিন্তু থানায় রাখা, তার বিরুদ্ধে মামলা দেয়া কিংবা প্রসিকিউশনে আদালতে পাঠানো কিছুই করা হয়নি। গত ০১ জুন কতোয়ালীর থানার মামলা নং ০১.০৬.১৯ কমলা,স্বপ্না পপিসহ আরো ১৫ ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ে করা হয়।

আটক ও মামলার পর ক্রাইম সিলেট  ও সিল নিউজ বিডি অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় কমলা দিশেহারা। এরপর কমলা পুলিশের পরামর্শে একটি অনলাইন পোর্টালে প্রতিবাদ প্রকাশ করায়। এই প্রতিবাদ প্রকাশের পর সিলেটজুড়ে  তোলপাড় বিরাজ করছে।

মামলা হওয়ার পরও কমলা বাসায় থাকছে ঈদের আগে ও পরে নগরীর বিভিন্ন মাকেট ও বাসায় এবং অফিসে যাচ্ছে । পুলিশের সোর্স শাহেদের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছে পুলিশের সাথে । একটি সুত্র জানায় সাংবাদিকদের ম্যানেজ করতে ধরণা দিচ্ছে বিভিন্ন সংবাদ কর্মীর সাথে ।

আটককৃত পকেটমারের নাম কমলা। কতোয়ালী থানা ও বন্দরবাজার ফাঁড়ির পুলিশের সাথে রয়েছে তার সখ্যতা। যার ফলে জনগনের হাত থেকে নারী ছিনতাইকারী কমলাকে আদালতে পাঠানোর কথা বলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ঠিকই তাকে ছেড়ে দেওয়া।

একটি সূত্র জানিয়েছে, ঈদের দিন কমলার বাসায় পুলিশের সোর্স শাহেদ যায় কমলার বাসায় । এই শাহেদ কমলার প্রতিনিধি , তার মাধ্যমে পুলিশে একটি অসাধু চক্রকে কমলাকে না ধরার জন্য দেওয়া হয় মোট অংকের টাকা ।

কমলার বিরুদ্ধে এই পর্যন্ত ২০টির অধিক মামলা চলমান রয়েছে। পুলিশের কিছু অসাধু সদস্যরা এই কমলাকে সেল্টার দিয়ে নিজেদের ফায়দা হাসিল করে থাকে ।

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার রাণীগঞ্জের নাসির উদ্দিনের স্ত্রী কমলা বেগম ফাতেমা। এয়ারপোর্ট থানাধীন এলাকা উমদারপাড়ায় কমলার পিত্রালয়। বর্তমানে সিলেট নগরীর কানিশাইলে তার নিজস্ব বাসায় বসবাস করে।

সিলেট নগরীতে দীর্ঘদিন থেকে নারীর পকেটমাররা বেপোরোয়া হয়ে ছিনতাই করে যাচ্ছে। আর এই সকল ছিনতাইকারীদের সেল্টারদাতা কমলা। কমলার এই শক্তিশালী ছিনতাই চক্র তারা সকল ধরণের অপরাধের সাথে জড়িত। সারা বছরই এদের তৎপরতা থাকলেও ঈদ, পূজা কিংবা পহেলা বৈশাখের উৎসবে এরা সবচেয়ে বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। মানুষের ভিড়ে মিশে কৌশলে হাতিয়ে নেয় টাকা, মোবাইল ফোন কিংবা মূল্যবান অন্য কোনোও জিনিস। নারী হওয়ায় এদের দিকে সন্দেহের তীর থাকে না, যার ফলে এরা সহজেই অন্য নারীদের কাছাকাছি যেতে পারে।

কমলা সারসরি মাদকের ও বড় বড় ডাকাতির সাথে জড়িত। ইতি মধ্যে ক্রইম সিলেটের অনুসন্ধানের কমলার সকল তথ্য বেরিয়ে আসছে। যে ভাবে কমলা জিরো থেকে হিরো হয়ে এখন ছিনতায়ের শীর্ষ স্থানে। কমলা কিছু সংখ্যক মামলার বিবরণ তোলে ধরা হলো।

সিলেটের বিমানবন্দর থানাধী এলাকায় একটি বাসায় ৪ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় কমলার উপর একটি মামলা হয়। যার মামলা নম্বর (এয়াপোর্ট থনা মামলা (নং ৩- তারিখ ০৫/০৩/২০১৫) জিআর ৪৫/১৫, ধারা ৩৯৪ দন্ড বিধি।
শাহপরান থানাধীন এলাকা উত্তর বালুচরের পুকাশ-১২ নম্বার বাসা ২লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় কমলা ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। যার মামলা নম্বর (শাহপরান থানা মামলা (নং ৬ তারিখ ০৭/০৮/২০১৫) জিআর ১৩৩/১৫ ধারা ৩৯৫/৩৯৭ দন্ড রবিধি)।

নগরীর জল্লারপার ৬০-বি বাসার বান্ধিার ট্রেন মোবাইল ফোন ছিনতাইকালে উপস্থিত জনতা তাকে আটক করে এ বিষয়ে রেলওয়ে থানায় একটি মামলা হয়। যার মামলা নম্বর (সিলেট রেলওয়ে থনার মামলা (নং ১ তারিখ ০৩/০৯/২০১৫, জিআর ১১/১৫, ৩৭৯ দন্ড বিধি)।

নগরীর জিন্দাবাজার ব্লু-ওয়াটার মার্কেটে ঝরণার পাড়ের ফয়ছল আহমদের মোবাইল ছিনতাইয়ে ঘটনায় ফয়ছল আহমদ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। যার নম্বর(কোতয়ালী থানা মামলা নং ৭৪ তারিখ ২৭/১০/২০১০ জি আর ১০৬৭/১০ ধারা ৩৯৭/৪১১)।

আম্বরখানা বড়বাজার রাস্তার মুখ পয়েন্টে একটি বড় ডাকাতির ঘটনা ঘটে এঘটনার ১নং আসামী মোহাম্মদ আলী সে সম্প্রতি ছিনতাইকারীদে আগাতে নিহত হয় ওই মামলার ৬ নং আসামী কমলা। মামলা নম্বর(এয়ারপোর্ট থানার মামলা নং-৩ তারিখ ০৪/০৬/২০১৫ জিআর ৯৫/১৫ ধারা ৩৯৯/৪০২)।

এয়ারপোর্ট থানাধীন বাদাম বাগিচা এলাকার ১৭৩ নং বাসায় ২লাখ ৭৩ হাজার টাকার ডাকাতির ঘটনায় একটি মামলা হয়। যার নম্বর (দায়রা মামলা নং-১৯/২০১৬ ধারা ৩৯৫/৩৯৭ দন্ড বিধি)।

ঢাকা কমাপুর রেলওয়ে গাজাসহ কমলাকে আটক করা হয়। যার মামলা নম্বর (ঢাকা রেলওয়ে থানার মামলা নং-১৭ তারিখ ৩০/০৯/২০১৪ জিআর ১২৭/১৪ধারা ১৯৯০ মাদক দব্র আইনের ১৯(১)এর ৭(ক))।

বিয়ানীবাজার উপজেলার আদিনাবাদ গ্রামের এক আমেরিকা প্রবাসী আব্দল আজিজের মোবাইল ফোন নগরীর নয়াসড়ক মাহা থেকে ছিনতাই করে এসময় তাকে হাতে নাতে আটক করা হয়। যার মামলা নং(কোতোয়ালী থানার মামলা নং-২৭ তারিখ ২০/০৮/২০১৮ জিআর ৩৯৭/১৮ ধারা ৩৮৯/৪১১)।

বহুরুপি কমলার বিরুব্ধে এছাড়া আরও অনেক মামলা রয়েছে। এত কিছুর পরও বন্দরবাজার ফাঁড়ির এসআই কামাল তাকে সেল্টার দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগে প্রকাশ। গত রোববার কমলা ফাঁড়ি থেকে ছাড়া পেয়ে সে নিজে সাংবাদিককে ফোন দিয়ে সবই শিকার করছে। এমনকি কামালকে প্রতি মাসে বড় অংকের একটি টাকা দেন। যার ফলে কামাল কমলাকে সকল বিপদ থেকে রক্ষা করেন।

  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ ২৪ খবর

আর্কাইভ

June 2019
S S M T W T F
« May    
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  
shares