প্রচ্ছদ

অবশেষে কারামুক্ত ৬৩ মামলার ভুল আসামি বিয়ানীবাজারের ব্যাংকার রাজ্জাক

০৪ জুন ২০১৯, ০০:৪৬

স্টাফ রিপোর্টার ::

Sharing is caring!

ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ৬৩টি মামলা মাথায় নিয়ে ভুল আসামি হিসেবে কারাভোগের পর অবশেষে জামিনে মুক্ত হলেন ব্যাংকার আবদুর রাজ্জাক। তিনি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার উত্তর আকাখাজনা গ্রামের আব্দুল মুক্তাদিরের ছেলে। পেশায় ইসলামী ব্যাংক নবীগঞ্জ শাখার কর্মকর্তা। কিন্তু তাকে ৬৩ মামলার পলাতক আসামি সিলেট নগর শিবিরের সাবেক সভাপতি আবদুর রাজ্জাক ভেবে জেলে পাঠায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সর্বশেষ ৫টি মামলায় জামিন পাওয়ার পর শনিবার দুপুরে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন জেলার আবু সায়েম। জেলার বলেন, রাজ্জাক জেলে আসার পর আমাদের বলেছেন তিনি সেই রাজ্জাক নন। তিনি একজন নিরীহ মানুষ।

শিবির নেতা আবদুর রাজ্জাকের নামে দায়ের করা মামলায় ছয় মাসের বেশি সময় কারাগারে ছিলেন ব্যাংকার রাজ্জাক। গত ডিসেম্বরে গ্রেফতারের পর শিবির নেতার নামে দায়ের করা মামলায় ব্যাংকার রাজ্জাককে জড়ানো হয়।

কোনো অপরাধ না করেও শুধু নামের মিল থাকায় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। অথচ শিবির নেতা আবদুর রাজ্জাক বিদেশে পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে আবদুর রাজ্জাক বলেন, আমি কখনোই কোনো ধরনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। কিন্তু আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমি একজন নিরীহ মানুষ। আমি ব্যাংকে চাকরি করি। এর বাইরে আমি কোনো কিছুর সঙ্গে জড়িত নই।

কারা আপনাকে ফাঁসিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কারা জড়িত আমি কিছুই বলতে পারবো না। আর আমার তেমন কোনো শত্রুও নেই। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর এখন আমি আতঙ্কে আছি। আর জামিনে মুক্তি পাওয়া তো আর স্থায়ী কোনো সমাধান না। আমি চাই এ ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আমাকে যেন মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এছাড়া আমার সঙ্গে যারা এমন অবিচার করেছেন তাদের শাস্তি চাই আমি।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ১২টায় ইসলামী ব্যাংকের হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ শাখা থেকে গ্রেফতার করা হয় ব্যাংকার আবদুর রাজ্জাককে। তাকে গ্রেফতার করা হয় সিলেট মহানগর ছাত্রশিবির সভাপতি পরিচয়ে।

গ্রেফতারের সময় বলা হয় তার নামে ৩৭টি মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। তবে রাজ্জাকের পরিবার, গ্রামবাসী এবং সহপাঠীরা জানান, ব্যাংকার রাজ্জাক একজন নিরীহ প্রকৃতির লোক। তিনি কখনই শিবিরের রাজনীতি করেননি।

  •  
  •  
  •  

আর্কাইভ

shares