প্রচ্ছদ

কুশিয়ারা নদীতে থামছে না অবৈধ বালু উত্তোলন

৩০ মে ২০১৯, ১৭:৪৫

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক :

Sharing is caring!

ওসমানীনগরের কুশিয়ারা নদীর অংশের বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে নিজেদের পকেট ভারী করছে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র।

অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রশাসন ওই প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে নিরব ভূমিকা পালন করে আসছে।

মঙ্গলবার বালু উত্তোলন ড্রেজার মেশিনের আঘাতে এক জনের প্রাণহানিও ঘটছে। এঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়েরের পর চার জনকে আটক দেখিয়ে বুধবার বিকেলে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত তিন বছর ধরে শেরপুর-সাদীপুর এলাকার আওয়ামী লীগ-বিএনপির প্রভাবশালী নেতা, সাবেক বর্তমান জনপ্রতিনিধিরা ঐক্যজোট হয়ে কুশিয়ারা নদীকে বিলিন করে নিজেরা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। ওই এলাকায় সবক্ষেত্রে নানা রাজনৈতিক বিভাজন দেখা গেলেও বালু চুরিতে রাজনৈতিক কোনো মতানৈক্য নেই। বালু চুরিতে নিজেদের স্বার্থে সবাই এক জোট হয়ে লুটপাটের বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।

ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির শীর্ষ পদে থাকা স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি ও সাবেক জনপ্রতিনিধিরা মিলে আওয়ামী লীগ নেতাদের সহযোগীতায় উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দির্ঘ দিন ধরে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছেন।

তবে মঙ্গলবার ওসমানীনগরের আলীপুর নামক স্থানের কুশিয়ারা নদীর এ অংশ থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনকালে ড্রেজার মেশিনে পেচিয়ে আব্দুর রশিদ (৫২) নামের এক ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় বুধবার ওসমানীনগর থানার এস আই মুমিনুল ইসলাম পিপিএম বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলায় আটককৃত ৪ জন সহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ১৫-২০ জনকে আসামী করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলো- ইমরান মিয়া, রাসেল মিয়া, লিটন মিয়া ও আকবর আলী। আটককৃতদের বুধবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা কাইয়ুম উদ্দিন, মানিক মিয়া, আওলাদ হোসেনসহ অনেকেই জানান, বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে প্রশাসন লোক দেখানো অভিযানে নামেন। কিন্তু থেমে থাকেনা ওই প্রভাবশালীদের বালু উত্তোলন। এছাড়া বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত প্রভাবশালীরা প্রতিবাদী ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রশাসনকে ব্যবহার করে নানা ভাবে হয়রানি করে থাকেন। এতে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে রাজি হয়না। মঙ্গলবার ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনকালে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় বালু উত্তোলনকারী প্রভাবশালী চক্র সাথে-সাথে নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ম্যানেজ করে নেয়ায় তারা থানায় মামলা দায়ের করেনি। তাই এঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে আমরা শুনেছি। আমরা অবৈধ্য বালু উত্তোলনকারী মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনর্চাজ এসএম আল মামুন বলেন, বালু উত্তোলনকালে ড্রেজার মেশিনে আব্দুর রশিদ নিহতের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

  •  
  •  
  •  

আর্কাইভ

shares