প্রচ্ছদ

সুনামগঞ্জে যাদুকাটা নদীতে চলছে অবাধে চাদাঁবাজি

১৯ মে ২০১৯, ২১:২৫

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ::

Sharing is caring!

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের যাদুকাটা নদীর তীরবর্তী ফাজিলপুর এলাকার আনোায়ারপুর ব্রীজের উজান দিকে ছোট বড় বলগেট(নৌকা) থেকে সরকারের নিধার্রিত হারে রয়েলিটি (ঢোল) আদায়ের কথা থাকলে ও ইজারাদারগণ টোল আদায়ের নামে চালাচ্ছেন ব্যাপক চাদাঁবাজি এমন অভিযোগ নৌকার মাঝিদের। এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ছোটবড় ৬ থেকে ২০ হাজার ফুটের অধিক বহনকারী ২ শতাধিক নৌকা বালু ও পাথর বোঝাই করে এ নদী দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করে থাকে। বাংলা সনের চৈত্র মাসের শেষের দিকে প্রশাসন থেকে ৪৮ লাখ টাকায় এই ফাজিলুর ঘাটটি এক বছরের জন্য ইজারা নেন ফাজিলুপুর গ্রামের মুতুর্জ আলীল ) ছেলে মোঃ কাশেম মিয়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় এই ঘাটে সরকারের নিধার্রিত টোল আদায়ে প্রতি বলগেট থেকে ৫০ থেকে ৮০ টাকা মধ্যে রয়েলিটি(টোল) আদায়ের শর্ত থাকলেও ফাজিলুপুর হতে আনোয়ারপুর পর্যন্ত এই এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ইজারদার মোঃ কাশেম মিয়া,তার সহোদর মোঃ ফয়সল আহমেদ,রহম মিয়া,সেলিম মিয়া ও দক্ষিণকূল গ্রামের নবার মিয়ার ছেলে সারোয়ার মিয়ার ও তার সহোদর জাকারিন মিয়া গংরা প্রতিদিন এই ঢোল আদায়কারী চক্রটি বেশ কিছুদিন ধরে সরকারের নির্দেশ অমান্য করে ফাজিরুপুর এলাকায় নদীতে প্রতিদিন বালু ও পাথর বোঝাই নৌকা ও বলগেটগুলো আটকিয়ে সরকারের নিধার্রিত ঢোল আদায়ের চেয়ে প্রতি নৌকা হতে (কয়েকগুন) বেশী আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা আদায় করে নিচ্ছেন বলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

প্রশাসনের কঠোর নজরদারী ও তদারকি না থাকার কারণে এই টোল আাদয়ের নামে প্রতিদিন এই চক্রটি হতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। প্রায় সময় টোল আদায়ের নামে নৌকার মাঝিদের নৌকা কিংবা বলগেট আটকিয়ে তাদের শারীরিকভাবে লাহি।চত করার ঘটনাও প্রতিনিয়ত ঘটছে।

এ ব্যাপারে বলগেট নৌকার মাঝি জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজার ইউনিয়নের লম্বাবাক গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে মোঃ মন্নান মিয়া তার ৬ হাজার ফুটের ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন বালু বোঝাই নৌকায় বালু বোঝাই করে কুমিল্লার দাউদকান্তি যাওয়ার সময় রয়েলিটি ঘাটে আসামাত্র ফাজিলপুরের ইজারাদার বালিজুরী ইউনিয়নের ফাজিলপুর গ্রামের রাজাহাসের ছেলে মোঃ কাশেম মিয়ার লোকজন তার বলগেট আটকিয়ে করে ৩ হাজার টাকা ঢোল দাবী করেন। কিন্তু মাঝি ৮০ টাকার পরিবর্তে এত টাকা চাদা দাবী পূরণ করতে অপরাগতা করলে কাশেম মিয়ার নেতৃত্বে ১০/১২ জন মিলে তাকে ৩ হাজার টাকা দিতে চাপ প্রয়োগ করে। তা না হলে নৌকা আটক রেখে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করার হুমকি দেয়া হয়। তিনি প্রাণের ভয়ে এক হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে মুক্তি নেন বলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের জানান।

এ ব্যাপারে ইজারাাদারের ছোটভাই মোঃ ফয়সল আহমদ এর সাথে মোবাইল ফোনে কয়েকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় জেনে লাইনটি কেটে দেয়া তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে তাহিরপুর উপজেলা নিবার্হী অফিসার মোঃ আসিফ ইনতেয়াজের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান প্রতিটি বলগেট নৌকা হতে আড়াই থেকে তিন টাকা টোল আদায়ের নির্দেশ দেয়া আছে। তবে যারা অতিরিক্ত টোল আদায় করছেন তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ ২৪ খবর

আর্কাইভ

shares