প্রচ্ছদ

বানিয়াচংয়ে মেম্বার ময়না মিয়ার হত্যাকারীরা এখনো ধরাছোয়া বাহিরে।

১৪ মে ২০১৯, ১৬:২৮

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ::

Sharing is caring!

হবিগঞ্জের বানিয়াচং এলাকায় রায়ের পাড়ায় অবস্থিত ময়না মেম্বারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঘাতকেরা। গত ২২/০৩/২০১৯ইং তারিখে রাত্র ৭:৩০ মিনিটে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ৪ নং দক্ষিণ ইউনিয়নের মেম্বার ময়না মিয়াকে, রায়ের পাড়া একটি পুকুরে নির্মমভাবে হত্যা করে কচুরিপানার নিছে ফেলে রাখে ময়না মিয়ার মৃতদেহ।

পরে ময়না মিয়ার বাড়ির লোকজন থাকে প্রতিদিনের ন্যায় বাড়ি না ফিরাতে অনেক খোজাখুজি করেন। কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না ময়না মিয়াকে। পরে তারা পুকুরে উত্তর পাড়ে গেলে দেখতে পান ছোপ ছোপ রক্ত মাকা পা পুকুরে পানার উপরে দেখা যাচ্ছে। সুর চিৎকার করিলে আশপাশ হইতে লোকজন ছোটে আস পুকুর পাড়ে। রক্ত এবং পুকুরের কচুরিপানার ফাঁকা দিয়ে একজন মানুষের পা দেখিতে পানএলাকার কয়েকজন লোক তাৎক্ষণিক স্থানীয় চেয়ারম্যান সাহেবকে সংবাদ প্রদান করেন। পরে চেয়ারম্যান সাহেব মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বানিয়াচং থানাকে অবগত করিলে তাৎক্ষণিক পুলিশ এসে স্থানীয় লোকজনের সহায়তা কচুরিপানার নিচ থেকে জখমী অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে মেম্বার ময়না মিয়াকে তাৎক্ষনিক বানিয়াচং উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার তাহাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত ময়না মিয়ার কপালে সামনে চুলের গোড়ায় একটি মারাত্বক কাটা জখম, নাকের উপরিভাগে মারাত্বক আরোও একটি কাটা জখম, বাম ভ্রæর উপরে একটি ও ভ্রæর বাম পাশের্^ আরোও একটি কাটা জখম দেখা যায়। ডান চোখ থেতলানো বাম হাতের কবজিতে ও বাহুতে একটি থেতলানো জখম একই হাতের কুনুইর নিচে ছিদ্রযুক্ত জখম, গলার সামনে থেতলানো, থুতুনির নিচে কাটা জখম, উপরে ঠোটে কাটা যখম করে ফেলে রাখে দুর্বৃত্তরা। ধারালো অস্ত্র দ্বারা আঘাত করে মৃত দেহটি পুকুরে ফেলে কচুরিপানা দিয়া ঢাকিয়া রাখে ঘাতকেরা। পরে ময়না মিয়ার মৃত- দেহটি বানিয়াচং থানার পুলিশ দেহের সুরতহাল প্রস্তুত করতে ময়না তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। ময়না তদন্ত শেষে লাশ দাফন করে পরিবার বর্গ। জানা যায়, নিহত ময়না মিয়া দীর্ঘ ২৩ বৎসর যাবৎ নির্বাচিত মেম্বার হিসেবে সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ময়না মিয়া একজন গ্রামের মাথা ছিলেন তিনি অন্যায়কে কখনো প্রশ্রয় দিতেন না। একি গ্রামের মন্নান মিয়া (৪৬), পিতা-মৃত গরীব উল্লাহ মন্নান মিয়া গ্রামের অনেক গরীব অসহায় মসুলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষদের অত্যাচার ও নারী নির্যাতন করে আসছে । শুধূ তাই নয় মন্নান নাকি এলাকার একজন দাঙ্গাবাজ খুনি, মন্নান একাদিক খুনের আসামীও সে অসহায় নারীদের বিপদে ফেলে তাদের বিয়ে করে বর্তমানে তার ৭ জন স্ত্রী রয়েছে কারো বয়স ৩৫-৪০ আবার কারো বয়স ১৮ তার প্রত্যেক স্ত্রীর ঘরে ২-৩ জন সন্তানও রয়েছে আবার কোন স্ত্রীর ছেলে ও মেয়ে বিবাহর উপযুক্ত। গ্রামে এইসব কর্মকান্ড মেম্বার ময়না মিয়া কাছে নালিশ আসে এ নিয়ে গ্রামে একটি মিটিং করেন মেম্বার ময়না মিয়া। পরে মন্নানকে এ নিয়ে অনেক কঠোর শাস্তি প্রদান করেন মেম্বার। এর পর থেকে মন্নান ময়না মিয়াকে খুন করে ফেলবে বলে হুমকি দামকি দিয়ে তাকে প্রাইয় সময়। কিন্তু মেম্বার ময়না মিয়া এ নিয়ে কখনো ভাবেনি যে, এভাবেই মরতে হবে মন্নানসহ আরো প্রায় ১০ জন মিলে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মেম্বার ময়না মিয়াকে। উপরে বাম থেকে শুরু ১নং আসামী মন্নান মিয়া (৪৬), পিতা মৃত গরীব উল্লাহ ২। ডালিম মিয়া (২৫) , পিতা-আবুল কালাম ৩। জুবায়ের মিয়া (২৬) ৪। মনির মিয়া (২২), পিতা- মন্নান মিয়া। ৫। মোবাশি^র (৩৪), পিতা-মদরিছ মিয়া, ৬। মাহমুদ মিয়া (২২) ৭। মামমুন মিয়া (২৭) উভয় পিতা-মত গরীব উল্লাহ, ৮। এমদাদুল (৩২) , পিতা –উমর আলী, ৯। মোশারফ মিয়া (২৫) পিতা- আমির আলী, ১০। আরজ মিয়া (৪৫) , পিতা-মৃত গরীব উল্লা, গং- আরো অনেকে। বর্তমানে এই কয়েকজন দাঙ্গাবাজ ঘাতকদের কারনে এলাকার সবাই আতংকের মধ্যে আছেন। গ্রামের মানুষজন নাকি এদের ভয়ে সন্ধার আগেই বাড়ি ফেরে দরজা জানালা লাগিয়ে রাখেন। ভয়ে ঘর হতে বের হতে সাহস পান না কেউ। গ্রামটি তাদের দখলে আছে বলে জানিয়েছেন এলাকার ব্যক্তিবর্গগণ। আবার কেউ কেউ বলছেন গ্রামটিতে নাকি পুলিশ পর্যন্ত ভয়ে যেতে চায় না। কয়েকবার নাকি ঘাতক মন্নানকে ধরতে গিয়ে মন্নানসহ কয়েকজন দাঙ্গাবাজের হাতে পুলিশ আহত হয়েছে।

উজ্জল/১৪মে/এস এইচ

  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ ২৪ খবর

আর্কাইভ

May 2019
S S M T W T F
« Apr    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
shares