প্রচ্ছদ

প্রশ্নফাঁসে অভিযুক্ত ইডেনের সেই বিবাহিত নেত্রী ছাত্রলীগের সহসম্পাদক!

১৪ মে ২০১৯, ১৬:০০

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক :

Sharing is caring!

দুই বছর আগে ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে তার, বিয়েও করেছেন। তবু ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পেয়েছেন সহসম্পাদকের পদ। সদ্যঘোষিত ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহসম্পাদকের পদ পাওয়া এই নেত্রীর নাম আঞ্জুমান আরা অনু। তিনি ইডেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

অনুর বিরুদ্ধে নিয়োগ পরীক্ষা ও ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ রয়েছে। এটা নিয়ে গতবছর ‘ছাত্রত্ব নেই, হলে থাকছেন প্রশ্নফাঁসে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেত্রী’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ৫-এর ‘গ’ ধারা অনুযায়ী বিবাহিত ব্যক্তি ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান পাবেন না। যদিও সদ্যঘোষিত ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পাওয়া অনেকের ক্ষেত্রেই এই ধারা অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বিবাহিত ও নিষ্ক্রিয়রা পদ পাওয়ায় গতকাল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের একটি অংশ বিক্ষোভও করেছে। তাদের ওপর হামলার ঘটনায় কমপক্ষে সাত জন আহত হন।

ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ৫-এর ‘গ’ ধারার ব্যত্যয় ঘটিয়ে কমিটিতে স্থান পাওয়া আঞ্জুমান আরা অনু ইডেন কলেজের গণিত বিভাগের ২০০৮-০৯ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০১৬ সালে তার ছাত্রত্ব শেষ হয়। তারপরও ওই বছরের ১ নভেম্বর কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটিতে তিনি যুগ্ম-আহ্বায়কের পদ পান। প্রায় দুই বছর আগে এই নেত্রী সংসার জীবন শুরু করেছেন।

বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আঞ্জুমান আরা অনু এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমার বিয়েটা তো উন্মুক্ত, আমি তো গোপন করে বিয়ে করিনি। আমাদের পার্টিতে মেয়েদের রাজনীতির সুবিধার্থে অনেক নিয়মই শিথিলযোগ্য। তার ভেতর মেয়েদের বিয়ের বিষয়টিও শিথিলযোগ্য। কিছু কিছু বিশেষ বিষয়, একটা মেয়ে যদি রাজনীতি অনেক ভালোবাসে, অনেক পরিশ্রম করে, সেক্ষেত্রে কিছু কিছু নিয়ম ওভারলুক করা হয়।’ এ বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

একাধিক অভিযোগ থাকার পরও অনু ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহসম্পাদকের পদ পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শাখার একাধিক নেত্রী। তারা বলেন, আঞ্জুমান আরা অনু বিবাহিত। তিনি মাদকের সঙ্গে যুক্ত— এমন অভিযোগের কথাও ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা জানেন। তবুও তাকে পদ দেওয়া হলো।

ইডেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক তাসলিমা আক্তার ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, আমি কলেজের আহ্বায়ক, ৪০ হাজার ছাত্রীর নেতৃত্ব দিই। আমি কেন পদ পেলাম না? আমার অযোগ্যতা কোথায়?

বিবাহিত সত্ত্বেও পদ পাওয়ার বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে ফোন দেওয়া হলেও তারা রিসিভড করেননি।

  •  
  •  
  •  

আর্কাইভ

shares