প্রচ্ছদ

দেশে রোগীর তুলনায় নার্সের স্বল্পতা প্রকট

১২ মে ২০১৯, ১৫:০১

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক :

Sharing is caring!

আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে একজন চিকিৎসকের সঙ্গে অন্তত ৩ জন নার্স থাকতে হয়। সেই হিসাবে দেশে প্রায় ৩ লাখ নার্সের প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশে বর্তমানে সরকারিভাবে কর্মরত আছেন মাত্র ৩৪ হাজার। আর সারা দেশে নিবন্ধিত নার্স রয়েছেন ৪৮ হাজার। যার কারণে জনসাধারণ প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট নার্সিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেবেল ডি রোজারিও বলেন, আমাদের দেশে রোগীর তুলনায় নার্সের স্বল্পতা প্রকট। এইজন্য আমাদের নার্সদের মধ্যে আচরণগত কিছু সমস্যা দেখা দেয়। উন্নত বিশ্বের নার্সরা একটা মেথড বা প্রসেস ব্যবহার করে চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে নার্স স্বল্পতার কারণে সেটা সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বে রোগীদের নার্সরা আগে সেবা দিয়ে থাকে তারপর ডাক্তার দেখে। কিন্তু আমাদের দেশে ঠিক উল্টোটা হয়ে থাকে। রেশিও অনুয়ায়ী একজন নার্স চারজন রোগীকে সেবা দেবে। কিন্তু আমাদের দেশে তা সম্ভব নয়।

অধ্যাপক মেবেল ডি রোজারিও বলেন, এই সমস্যার সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয়। এটার জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তবে আমাদের নার্সিং ইন্সস্টিটিউট, মানসম্মত শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। অর্থাৎ পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে নার্স সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নার্সিং পেশার উন্নয়নের স্বার্থে বর্তমান সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও রোগীরা সঠিক সেবা পাচ্ছেন না। এমনকি সাধারণ নার্সরাও হচ্ছেন অধিকার বঞ্চিত। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং প্রকৃত মেধাবী নার্সিং অফিসারদের অবমূল্যায়ন করা, ঘুষ ও দুর্নীতির কারণে নার্সিং পেশা দুর্বল হয়ে পড়ছে।

যাদের হাত ধরে নার্সিং পেশার যাত্রা শুরু

আধুনিক নার্সিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের জন্মদিন বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক নার্স দিবস হিসাবে পালন করা হয়। তিনি ১৮২০ সালের ১২ মে ইতালির ফ্লোরেন্স শহরে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি মানবসেবায় বিশেষভাবে উৎসাহী ছিলেন। ২য় বিশ্বযুদ্ধে আহত সৈনিকদের মানবেতর জীবন অনুভব করে নিজের সর্বশক্তি দিয়ে তাদের সেবা করে সুস্থ করে তোলেন। প্রদীপ হাতে তাদের সেবা করে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করার কারণে তাকে তখন থেকেই ‘লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা গেছে, স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে রহিমা খাতুন, সাহাজাদী হারুন, জোহরা বানু, আক্তার বানুর মতো কয়েকজনের হাত ধরে নার্সিং পেশার যাত্রা শুরু হয়।

ওই সময় নার্সিং পেশাকে বিশেষ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নার্সিংয়ের জন্য পৃথক প্রশাসন কাঠামো তৈরি করেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৯৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় ৬ হাজার নার্স নিয়োগ দেন।

২০০৯ সালে পুনরায় ১৬ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর পদসৃষ্টিসহ ২০১০ সালে প্রায় ২০০০ জন নার্স, ২০১৩ সালে ৪১০০ জন নার্স এবং ২০১৬ সালে ইতিহাসের রেকর্ড সংখ্যক প্রায় ১০ হাজার নার্সকে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর আরও ৫ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়। এত নিয়োগের পরেও বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার নার্সের পদ শূন্য রয়েছে।

বর্তমানে দেশে সরকারি ৬২টি নার্সিং প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ২১৬টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বাংলাদেশে প্রতি বছর সরকারি

  •  
  •  
  •  

আর্কাইভ

shares