| logo

৭ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২০শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং

গোয়াইনঘাটে অবাধে নামছে ভারতীয় গরু, পাচারের নিরাপদ রোড গ্রামের মেঠোপথ

প্রকাশিত : এপ্রিল ১৪, ২০১৯, ১৫:৩০

গোয়াইনঘাটে অবাধে নামছে ভারতীয় গরু, পাচারের নিরাপদ রোড গ্রামের মেঠোপথ

গোয়াইনঘাট প্রতিনধি :: সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলা দিয়ে অবাদে নামছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ভারতীয় গরু। আর নিরাপদ রোড হিসেবে ব্যাবহার হচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মেঠোপথ। উপজেলার আলীরগাঁও ইউনিয়নের বুক চিরে বয়ে যাওয়া সারী নদীর ওপার পার্শ্ববর্তী উপজেলা জৈন্তাপুরের বিড়াখাই গ্রাম দিয়ে সারী নদী পার হয়ে গোয়াইনঘাটের মনঞ্জিলতলা,কাকুনাখাই,বারহাল খাসঁমৌজা,হাজরাই,ফুলের গ্রাম এবং লাফনাউট গ্রামের আংশিক অংশ দিয়ে প্রতনিয়ত রাতের অধাঁরে কিংবা ভোঁর সকালে এসব গুরু আনা হয় পাশ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে। এরপর চোরাকারবারিরা ঐসব গরু দেশের বিভিন্ন স্থানে নিতে নিরাপদ রোড হিসেবে বেচে নিয়েছে এসব গ্রাম গুলিকে । অপর দিকে রাতের আধাঁর ঘনিয়ে এলে ঐসকল গরু গুলিকে জড়ো করে রাখে বিভিন্ন হাওরে। বাংলাদেশে প্রবেশের পর সময়ক্ষন বুজে দেশের বিভিন্ন হাটবাজারে সরবরাহ করে স্থানীয় চোরা কারবারিরা। প্রতিনিয়ত সম্পূর্ণ নিরাপদ ভাবে ভারতীয় গরু পাচারে সহজ হওয়ায় দিনে দিনে বিষয়টি ওপেন সেক্রেট হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে ঐলাকা গুলি।

বাংলা নববর্ষের সূচনালগ্নে সারী-গোয়াইনঘাট সড়ক দিয়ে উপজেলা সদরে আসার পথে আলীরগাঁও ইউনিয়নের আটলিহাই গ্রামে পৌছালে এনম চিত্র দেখা যায়। উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও ঠিকাদার মস্তফা মিয়ার বাড়ির পাশে প্রায় আড়াই শতাধিক ভারতীয় গরু খন্ড খন্ড ভাবে রাস্থা পার করছেন স্থানীয় চোরা কারবারিরা। চোখের সামনে এতসব গরুর বহর দেখে তড়িগড়ি করে ছবি তুলতে গেলে ধমক দিয়ে গরুর রাখাল বলেন ছবি তুলে কোন লাভ নেই ভাই। গরু গুলির করিডোর করিয়েছেন কিনা জবাবে গরুর রাখাল জানান ভারতীয় গরু আমদানি করতে বাংলাদেশ সরকারের বাধাঁ নিষেধ রয়েছে। তাই ঐভাবে নিয়ে আসি।

এর পর নামপ্রকাশে অনিচ্চুক একজন জানান, আলীরগাঁও ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড সদস্য জালাল উদ্দিন, জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর গ্রামের লোদাই হাজ্বী,বিলাল উদ্দিন এবং জৈন্তাপুর উপজেলার ৫নং ফতেহপুর ইউনিয়নের সদ্য বহিস্কৃত চেয়রম্যান ( চোরা কারবারের দায়ে অভিযুক্ত হয়ে আদালত ৬মাসের কারাদন্ড প্রদানের কারনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের ইউনিয়ন পরিষদ বিভাগ কর্তৃক স্থায়ীভাবে বহিস্কৃত ) আব্দুর রশিদ চেয়ারম্যান’র নেতৃত্বে এসব গরু প্রতিনিয়ত ভারত থেকে এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে থাকেন।

এব্যপারে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ওয়ার্ড সদস্য জালাল উদ্দিন প্রতিবেদককে জানান, আড়াই শতাধিক গরুর মধ্যে তার নিজ মালিকানাধীন ১২টি গরু রয়েছে। অপর গরু গুলির মালিক জৈন্তাপুর উপজেলার মোশাহীদ চেয়ারম্যান ও অন্যান্যে মালিকদের রয়েছে।

এ দিকে বৈধ ভাবে এসব গরু বন্দুপ্রতিম দেশ ভারত থেকে আমদানি করলে গরু প্রতি ৭০০/৮০০টাকা বাংলাদেশ সরকার রাজস্ব পেত। কিন্ত চোরা কারবারিদের কারনে সরকার প্রতিমাসে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব হরালেও এ বিষয়টি নিয়ে কখনও মাথা ঘামায়নি স্থানীয় প্রশাসন। উপজেলা চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাব সভাপতি এম.এ মতিন বিস্থও আলোচনা করা সত্বেও সংলিষ্টরা নিরব ভূমিকা পালন করছেন করেই যাচ্ছে।

স্থানীয় একাধিক বিশ্বস্থ সূত্রমতে বিজিবি ও পুলিশ বিভাগকে যে কোন ভাবে নিজেদের অনুকুলে চোরাকারবারিরা নিয়ে যাওয়ার কারনেই একাধিক ভারতীয় গরুর বহর দেশে প্রতিনিনিয়ত প্রবেশ করে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা গুলির হাটবাজারে সরবরাহ করা হয়। যার কারনে চোরাকারবারিদের এখনও পর্যন্ত আইনের আওতাধীন আনতে পারছেনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মানুষের মাঝে দীর্ঘ দিন থেকে গুঞ্জন চলছে। স্থানীয়রা মনে করেন জরুরী ভিত্তিতে চোরাকারবারিদের বিরোদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা না হলে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে। এছাড়াও ভারতীয় গরুর চালানের সাথে আসছে মাদক কিংবা দেশ ধ্বংস করার কোন অস্ত্র।

এ ব্যাপারে বিজিবি সংগ্রাম ক্যাম্পের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন নববর্ষের দিন ভোরে ভারতীয় ৪টি গরু আটক করতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু আলীরগাঁও ইউনিয়নের হাজরাই হাওরে দুই /আড়াই শতাধিক ভারতীয় গরুর বহর কিভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করলো জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।



সংবাদটি 473 বার পঠিত.
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  • 491
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    491
    Shares
  • 491
    Shares




Contact Us

crimesylhet.com

Address: অফিস : সুরমা মার্কেট তৃতীয় তলা বন্দরবাজার সিলেট।

Tel : +অফিস -০১৭১১-৭০৭২৩২
Mail : crimesylhet2017@gmail.com

Follow Us

Site Map
Show site map

ক্রাইম সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েভ সাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।