| logo

৯ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৩শে মার্চ, ২০১৯ ইং

হিজড়াদের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ মানুষ

প্রকাশিত : মার্চ ১৪, ২০১৯, ২০:২৫

হিজড়াদের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ মানুষ

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : লাকসাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হিজড়াদের চাঁদাবাজিতে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। লাকসাম পৌর শহরের দৌলতগঞ্জ বাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে তারা মানুষজনকে বিড়ম্বনায় ফেলেন।

আজ বৃহস্পতিবার ১০-১২ জন হিজড়া কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে পৌর শহরের দৌলতগঞ্জ বাজারে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে চাঁদা আদায় করতে দেখা গেছে। এ সময় কোনো ব্যবসায়ী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বিভিন্নভাবে অশালীন অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে।

দৌলতগঞ্জ বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী আবুল মুনসুর জানান, আগে হাটবারে এলেও এখন নানা উপলক্ষে টাকা নিতে হিজড়ারা আসা শুরু করেছে। তারা পাঁচ-ছয়জন দলবেঁধে দোকানে এসে হানা দেয়। ওরা দোকানে এলে ক্রেতাদের কথা চিন্তা করে যত তাড়াতাড়ি পারি বিদায় করি। ওদের টাকাও দিতে হয়, আবার তরিতরকারিও দিতে হয়।

মুদি ব্যবসায়ী শঙ্কর সাহা বলেন, হিজড়াদের দোকানের দিকে আসতে দেখলেই টাকা ঠিক করে রাখি, কারণ দোকানে ঢুকেই তারা উল্টাপাল্টা বলা শুরু করে। শুধু দোকানে নয় রাস্তার পাশে বা ফুটপাতের কোনো ধরনের দোকান-পাট বাদ যায় না ওদের হাত থেকে। এমনকি তাদের হাত থেকে পথচারীরাও রেহাই পায় না।

উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামের গৃহবধূ নাজমা বেগম বলেন, হিজড়ারা শহরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা আদায় করছে। তারা দলবেঁধে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কিশোর-কিশোরীদের সামনে উল্টাপাল্টা কাণ্ড ঘটায়। ফলে লাজ-লজ্জার ভয়ে তাড়াতাড়ি টাকা-পয়সা ও চাল দিয়ে বিদায় করি।

উপজেলার বেতিহাটি গ্রামের চা দোকানদার আবুল বাশার মোল্লা জানান, এলাকায় কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান হলে আচমকা তারা এসে হাজির হয়। তাদের কাছে গরিব-ধনীর কোনো বালাই নেই। দু-তিন হাজার টাকা দাবি করে বসে। ওই সময় বাড়িতে মেহমান থাকে। তাদের উল্টাপাল্টা আচরণের ফলে মানসম্মানের ভয়ে এক-দেড় হাজার টাকা দিয়ে বিদায় করতে হয়।

চুমকি নামের এক হিজড়া বলেন, পরিবার ও সমাজ থেকে আলাদা থাকতে থাকতে তাদের এই অবস্থা। কাজ করতে চাইলেও কেউ কাজ দেয় না বরং নানা রকম উপহাস করে। সাবিনা নামের আরেকজন বলেন, সমাজ আমাদের ভালো হতে দেয় না। আমাদের তো জীবন আছে। খেয়ে পরে বেঁচে থাকতে হবে। তাই পেটের দায়ে যখন যেভাবে পারি লোকজনের কাছ থেকে টাকা আদায় করি।

লাকসাম উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা উপন্যাস চন্দ্র দাস বলেন, উপজেলার আটটি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভায় আটজন হিজড়া রয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজনকে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। এ ছাড়া পিংকি আক্তার নামে একজন হিজড়া শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পাচ্ছেন। তবে অন্যান্য হিজড়ারা বাহির থেকে এসে মানুষজনকে বিড়ম্বনায় ফেলছেন।

এলাকাবাসী জানান, কুমিল্লা রেল স্টেশন ও আশপাশে এদের মূল আড্ডা। দিনের শুরুতে তারা বাইরে থেকে এসে এখানে একত্রিত হয় এবং দলে দলে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।



সংবাদটি 1166 বার পঠিত.
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  • 885
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    885
    Shares
  • 885
    Shares




Contact Us

crimesylhet.com

Address: অফিস : সুরমা মার্কেট তৃতীয় তলা বন্দরবাজার সিলেট।

Tel : +অফিস -০১৭১১-৭০৭২৩২
Mail : crimesylhet2017@gmail.com

Follow Us

Site Map
Show site map

ক্রাইম সিলেট ডটকম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েভ সাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।