প্রচ্ছদ

সিলেটে অনিয়ম-দূর্নীতির কিং স্বাস্থ্য কর্মচারী নূর মোহাম্মদ

১১ মার্চ ২০১৯, ১৯:২১

crimesylhet.com

Sharing is caring!

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : সিলেটে উড়ে এসে জুড়ে বসা স্বাস্থ্যকর্মচারী এখন কোটি টাকার মালিক। মাত্র ৮ বছরের ব্যবধানে নগরে করেছেন একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি ও গাড়ি। কম্পিউটার অপারেটর কাম অফিস সহকারী পদে চাকরি করে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া নিয়ে জনমনে নানা কৌতুহলের সৃষ্টি করেছে। তার জ্ঞাতআয় বড়ির্ভুত সম্পদের তথ্য ফাঁস করায় একজন সাংবাদিককে হামলা ও মামলা দিয়ে হয়রানী করছেন। আলাদিনের এই চেরাগ আর কেউ নন,তিনিই হচ্ছেন সিলেট সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের বর্তমান কম্পিউটার অপারেটর কাম অফিস সহকারী নূর মোহাম্মদ।

জানা গেছে, যুব বয়েসী নূর মোহাম্মদ পরিবারের মূল বাড়ি বরিশালে। বাবা মোহাম্মদ মুসলিম খলিফা ছিলেন সিলেট ওসমানী হাসপাতালের একজন ওয়ার্ড বয়। আর এই সুবাদেই নূর মোহাম্মদ ২০১০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর নূর মোহাম্মদের সিলেট পাড়ি। এসময় একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেকেস অফিস সহকারী পদে সরকারি চাকরি পান তিনি। এর পর থেকে সিলেটর জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমেপ্লেক্সে এখনো এই পদেই তিনি কর্মরত। বর্তমানে তার সরকারী বেতন ১৮হাজার ৭শ ৪৫ টাকা মাত্র। সামান্য এই বেতনে চাকরি করে সিলেটে অঢেল সম্পত্তির মালিক তিনি। বিভাগীয় সদর সিলেট মহানগরে শামীমাবাদে বিলাসবহুল বহুতল একটি বাড়িসহ নির্মিয়মান কয়েকটি বহুতল বাড়ি ও গাড়ির মালিক তিনি। সিলেটের স্বাস্থ্য বিভাগে অনিয়ম দূর্নীীত ও অপরাধের কিং বরে পরিচিত নূর মোহাম্মদ উপজেলা থেকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন। এখানে ওষুদ ও চিকিৎসা সামগ্রী চুরি ও গায়েব করা এবং বিভিন্ন ফার্মেসীর দালালীসহ নানা অনিয়ম দূনীতি ও অপরাধে জড়িত থাকায় তাকে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বদলি করা হয়। পরবর্তীতে শহীদ শামসুদ্দীন হাসপাতালে নিয়োজিত হয়েও দূর্নীতির বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি তিনি। দূর্নীতি যেন তার শিরা-উপশিরায় মিশে আছে। বিভিন্ন সময়ে নানান অপরাধমূলক কর্মকান্ডের ফলে সেখান থেকেও তাকে বদলি করা হয়। তাতেও ক্ষান্ত হননি নূর মোহাম্মদ। বর্তমানে সিলেট সরকারি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালও স্বীয় সুনাম অক্ষন্ন রাখতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন এই নূর মোহাম্মদ।

তাকে নিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এই সকল সংবাদে তার বিভিন্ন অনিয়ম-দূর্নীতির থলেল বিড়াল বেরিয়ে আসে। গণমাধ্যম-সহ সোস্যাল মিডিয়ায় তার দূর্নীতির সংবাদ ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন তিনি। এরপর থেকে গণমাধ্যমের বিভিন্ন সংবাদকর্মীকে মামলা-হামলার ভয়-ভীতি পদর্শন করতে থাকেন। এর ধারাবাহিকতায় নূর মোহাম্মদ সিলেটের একটি স্থানীয় দৈনিক ও একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল’র সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলাও টুকে দেন। এরপর থেকে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনুসন্ধানী নিউজ প্রকাশ করা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অপ্রেিরাধ্য হয়ে ওঠেন সরকারী কর্মচারী নূর মোহাম্মদ। অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হাসপাতালের চিকিৎসা সামগ্রী-সহ ঔসধ পাচার এবং অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমেই অফিস সহকারী নূর মোহাম্মদ এ বিশাল বিত্ত-বৈভব গড়ে তুলেছেন শাহজালালের পুণ্যভ’মি সিলেটে। মাত্র ৮বছরের ব্যবধানে জ্ঞাতআয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনে তার কাছে হার মেনেছেন সরকারের উচ্চপদস্থ ও উচ্চ বেতন-ভাতার অধিকারী অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী। তাই অবাক সিলেটবাসী।

অভিযোগের ব্যাপারে স্বাস্থ্য সহকারী নূর মোহাম্মদের সাথে সোমবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, সিলেট নগরে তার কোন বাসা-বাড়ি নেই। পিতৃগৃহে তিনি ও তার ভাইবোনরা একত্রে থাকে। পূর্বপুরুষ থেকে তিনি ও তার পিতৃপরিবার সিলেট নগরের বাসিন্দা বলে জানান তিনি। সূত্র-সিলেট টাইমস . নেট

  •  
  •  
  •  

আর্কাইভ

shares