ওসমানী মেডিকেলে অঙ্গ পুন:সংযোজন চিকিৎসা দেয়া সম্ভব : মাহবুবুল হক

প্রকাশিত: ৩:৩৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০১৮

ওসমানী মেডিকেলে অঙ্গ পুন:সংযোজন চিকিৎসা দেয়া সম্ভব : মাহবুবুল হক

Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার :: সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথম বারের মত বিচ্ছিন্ন অঙ্গ সংযোজন উপলক্ষে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ওসমানীর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একে মাহবুবুল হক। তিনি বলেন, বিচ্ছিন্ন অঙ্গ সংযোজ এর চিকিৎসার জন্য এখন আর ঢাকা কিংবা বিদেশে যাবার প্রয়োজন নেই। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ ধরণের চিকিৎসা দেয়া সম্ভব বলে জানান তিনি। ঢাকার বাইরে সিলেটে প্রথম এ অঙ্গ পুন:সংযোজন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিচ্ছিন্ন অঙ্গ সংযোজন উপলক্ষে (২৬ নভেম্বর) মেডিকেলের সেমিনার কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত হয়।
ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রথমবারের মতো কর্তিত অঙ্গ সংযোজন (পুনঃসংযোজন) সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে চিকিৎসকরা দাবি করেছেন। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে একটি টিম গত ৯ সেপ্টেম্বর সফলভাবে আঙ্গুলটি সংযোজন করেন। অপারেশনের পর আঙ্গুলটির কর্মক্ষমতা পুরোপুরি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন ওই চিকিৎসক।

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ইয়াছিন আলীর (২১) বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি (বুড়ো আঙ্গুল) হাত থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গুরুতর আহত ইয়াছিন আলীকে সাথে সাথে তাঁর কর্তিত আঙ্গুলটি ফ্রিজে রেখে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারী বিভাগে ভর্তি করা হয়। ভর্তির ১১ ঘন্টা পর সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে তার হাতে অস্ত্রোপচার শুরু হয়। গত ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দীর্ঘ ৮ ঘন্টা তার অপারেশন চলে। অপারেশনের পর ওই দিন রাত ৩টায় আঙ্গুলের কর্মক্ষমতা পুরোপুরি ফিরে আসে বলে দাবি ওই চিকিৎসকের। অপারেশনের পর ওই রোগী বর্তমানে হাসপাতালের সার্জারী বিভাগের প্লাস্টিক এন্ড বার্ণ ইউনিটে অবস্থান করছেন।

অস্ত্রোপচারকারী প্লাস্টিক সার্জন সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আব্দুল মান্নান সাংবাদিকদের জানান, এ ধরণের কর্তিত অঙ্গ নিয়ে সংশ্লিষ্ট রোগী যদি ৬ ঘণ্টা থেকে ১২ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হয়, তবে তা পুন:সংযোজন সম্ভব।

হাসপাতালের বার্ন অ্য্ন্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. হাসিব আহমদ বলেন, মারামারির ঘটনায় কোনো মানুষের অঙ্গহানির ঘটনা ঘটলে তা ১২ ঘণ্টার মধ্যে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন সম্ভব। এক্ষেত্রে রোগীর বিচ্ছিন্ন অঙ্গটি তাৎক্ষণিক পরিষ্কার করে একটি পলিথিন ব্যাগে রাখতে হবে। এরপর আরেকটি ব্যাগে বরফ নিয়ে অঙ্গ রাখা ব্যাগটি ওই ব্যাগে রেখে যত দ্রুত সম্ভব নিয়ে হাসপাতালে নিয়ে এলে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, উপ-পরিচালক দেবপদ রায়,সহকারী পরিচালক(প্রশাসন) আবুল কালাম আজাদ, বিভাগীয় প্রধান(মেডিসিন) অধ্যাপক এ এসএম নাজমুল ইসলাম,বিভাগীয় প্রধান অথোপেডিক অধ্যাপক ইস্তেয়াকুল ফাত্তা,অধ্যাপক মুসা চৌধুরি,ন্যাফলজি বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আলমগীর চৌধুরি,আবাসিক চিকিৎসক আবু নাঈম মোহাম্মদ,অবাসিক সার্জন অরুন কুমার, ক্যাজুয়ালেটি বিভাগের আবাসিক সার্জন শ্যামল চন্দ্র বর্মন,সহকারী অধ্যাপক প্লাস্টিক সার্জন ডাঃ মোঃ আব্দুল মান্নানের সাথে অপারেশনে সহযোগিতা করেন ডাঃ নাহিদ, ডাঃ জহিরুল ইসলাম, ডাঃ সাজিদ, ডাঃ সজীব, ডাঃ সাদিয়া, ডাঃ আবিদ। সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট প্রেসক্লাব এর সভাপতি একরামুল কবির,টেলিভিশন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওয়েস খসরু,এশিয়ান টেলিভিশন সিলেট ব্যুরো প্রধান আবু তাহের চৌধুরী, সিল নিউজ বিডির সম্পাদক পাভেল, সাংবাদিক আজিজুর রহমান,ক্রাইম সিলেট পত্রিকার সম্পাদক আবুল হোসেন,দৈনিক কাজির বাজারের ফটো সাংবাদিক রেজা রুবেল,সাংবাদিক পাপ্পু তালুকদার,আজমল আলী,জামাল আহমদ।
এ্যানেস্থেসিস্ট ছিলেন ডাঃ রিয়াদ ও ডাঃ নিজাম, ওয়ার্ড মাস্টার হাবিব। নার্সেস এসোসিয়েনের সিওমেক শাখার উপদেষ্টা পরিমল বণিক, সেবা তত্ত্বাবধায়ক শিউলী আক্তার,নার্সেস এসোসিয়েনের সিওমেক শাখার সভাপতি শামিমা নাছরিন, সাধারণ সম্পাদক ইসরাইল আলী সাদেক,সহ-সভাপতি ভ্রান্তিবালা দেবী,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলেমান আহমদ,সাংগঠনিক সম্পাদক অরবিন্দ চন্দ্র দাস,সুমন আহমদ আনসার নাছির উদ্দিন প্রমূখ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares