বিশ্বনাথে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ওপর হামলা : ৬জনকে অভিযুক্ত করে মামলা

প্রকাশিত: ৭:৪৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৩, ২০১৮

বিশ্বনাথে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ওপর হামলা : ৬জনকে অভিযুক্ত করে মামলা

Sharing is caring!

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :: সিলেটের বিশ্বনাথে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও তাঁর পরিবারের ওপর হামলা এবং ভাংচুরের ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের দূর্যাকাপন গ্রামের মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হায়দারের ছেলে আবুল বাশার তুহিন বাদী হয়ে ৬জনকে অভিযুক্ত করে সিলেট সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ৩য় আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতে মামলা দায়েরের সত্যতা স্বীকার করেছেন মামলার বাদীর আইনজীবি জামালউদ্দিন।
মামলার অভিযুক্তরা হলেন-উপজেলার দূর্যাকাপন গ্রামের আখলুছ আলীর ছেলে রুপাই মিয়া (৩০), একই গ্রামের মৃত শরিয়ত উল্লার ছেলে চন্দন মিয়া (৪০), নূর মিয়ার ছেলে রশিদ মিয়া (৪২), মৃত সুরুজ আলীর ছেলে দুলাল মিয়া (২৯), শারং উল্লার ছেলে বশির মিয়া (৩২), মৃত আজিম উল্লার ছেলে আশিক আলী (৩৮)।
আদালতে দায়েরকৃত মামলার এজাহার সূত্রে জানাগেছে, অভিযুক্তদের সঙ্গে মামলার বাদীর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। গত ২ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০টায় বাদীর সৎ ছেলেসহ এক নিকট আত্বীয়কে নিয়ে সিলেট শহর থেকে পারিবারিক কাজ শেষে বাড়িতে আসার পথে দূর্যাকাপন গ্রামের উত্তর পার্শ্বের কাঁচা রাস্তায় আসামাত্রই মামলার অভিযুক্ত চন্দন মিয়া তাদের পথ গতিরোধ করে। এসময় তাহার হাতে থাকা চাকু দিয়ে বাদীর ছেলের গলায় ধরে তার সঙ্গে থাকা যা আছে তাড়াতাড়ি দিয়ে দিতে বলে এবং প্রাণে হত্যায় ভয় দেখানো হয়। এসময় বাদীর ছেলে সঙ্গে থাকা একটি মোবাইল সেট ও নগদ ১২হাজার টাকা এবং হাতে ও গলায় থাকা রুপা একটি আংটি এবং চেইন নিয়ে যায় অভিযুক্ত চন্দন মিয়ার ছেলে। এসময় অভিযুক্তরা বাদীর ছেলেকে এঘটনা কাউকে বললে বা মামলা দিলে প্রাণে হত্যা করবে বলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
গত ৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় বাদীর বসত বাড়িতে মামলার অভিযুক্ত রুপাই মিয়ার নেতৃত্বে অপর অভিযুক্তরা দেশীয়-অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে ডাকাডাকি ও অশ্লীনভাষায় গালিগালাজ করে। এসময় গালিগাজ না করার জন্য নিষেধ করলে অভিযুক্তরা উত্তেজিত হয়ে বাদীর ঘর ভাংচুর করে। এসময় বাদীর ওপর ও তার পরিবারের ওপর দারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করে। এতে বাদী আবুল বাশার তুহিন, তার মা সাহিদা বেগম ও স্ত্রী ছমিরুন বেগম গুরুতর আহত হন। পরে তাদের ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বিষয়টি বাদীর আত্বীয় স্বজনকে অবহিত করে বিশ্বনাথ থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে অভিযুক্তরা প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক দলের গোপন হস্তক্ষেপে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা গ্রহন না করে আদালতে মামলা করার পরার্মশ দেয় বলে বাদীর এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
এব্যাপারে অভিযুক্ত রশিদ মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ সঠিক নয়। মিথ্যা তথ্য দিয়ে আদালতে মামলা করা হয়েছে। হায়দার আলী তার পরিবারের সঙ্গে মাদক নিয়ে মারামারি করেছে বলে আমরা শুনেছি।
বিশ্বনাথ থানার ওসি শামসুদ্দোহা বলেন, এবিষয়ে আমাকে কেউ অবহিত করেননি। পুলিশ মামলা নেয়নি বিষয়টি সঠিক নয়। তবে আদালতে দায়েরকৃত মামলাটি গতকাল শুক্রবার থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares