কানাইঘাটে কম্পিউটার পারদর্শী প্রতিবন্ধী বাহারের চিকিৎসার জন্য সাহায্যের আবেদন

প্রকাশিত: ৯:১৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৭, ২০১৮

কানাইঘাটে কম্পিউটার পারদর্শী প্রতিবন্ধী বাহারের চিকিৎসার জন্য সাহায্যের আবেদন

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : কানাইঘাটে কম্পিউটার পারদর্শী শারীরিক প্রতিবন্ধী ৩ সন্তানের জনক বাহার উদ্দিন বর্তমানে বিছানায় পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ১৯৮৯ সালে অজ্ঞাত একটি রোগে তিনি দুটি পা চিরতরে হারালেও হাত দু’টি দিয়ে কাজ করতে পারতেন। কিন্তু দীর্ঘ এই সময়ের ব্যবধানে জীবন সংগ্রামের শেষ সম্বল টুকু হাত দু’টিও তিনি আজ চিকিৎসার অভাবে প্রায় হারাতে চলছেন। বাহার উদ্দিন উপজেলার ৭নং ইউপির দক্ষিণ বাণী গ্রামের মৃত আব্দুল গণির পুত্র।

জানা যায়, বাবার আর্থিক অসচ্ছলতা থাকায় অনেক কষ্ট করে ১৯৯৯ সালে গাছবাড়ী মর্ডাণ একাডেমী থেকে তিনি এসএসসি পাশ করেন। এর পর থেকে অজ্ঞাত একটি রোগে তার দুটি পা চিরতরে অচল হলে শুরু হয় পঙ্গুত্বের জীবন। তার দৃঢ় মনোবল থাকায় তিনি নতুন করে জীবন শুরু করতে ২০০৪ সালে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিতে ভর্তি হন ঢাকা মিরপুরের সিআরপিতে। সেখানে তিনি গ্রাফিক্স ও অফিস কোর্সের উপর প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজ বাড়িতে চলে আসেন। এর পর থেকে বাড়িতে একটি কম্পিউটার কিনে মস্তফা জব্বার ও বাপ্পী আশরাফের বইয়ের উপর ৪ বছরের ডিপ্লোমা কোর্স করেন। পর্যায় ক্রর্মে তিনি যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে মোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স, কম্পিউটার হার্ডওয়ারের কাজ, ভিডিও এডিটিং এবং ইন্টারনেটের অনেকটা কাজ আয়ত্ব করেন। কিন্তু এর ২ বছর যেতে না যেতেই ২০০১ সালে পায়ের সেই পঙ্গুত্ব রোগটি এবার দেখা দেয় তার দু’টি হাতে। এতে অচল হতে থাকে তার দু’টি হাত। জীবন সংগ্রামের এক মাত্র সম্বল হাত দু’টি অজ্ঞাত এ রোগ থেকে রক্ষা করতে আবারো দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে দৌড় শুরু হয় বাহারের। চলতে থাকে টানা কয়েক মাস চিকিৎসা। এতে সমাজের অনেকের দয়ায় সে দিন তিনি দু’টি হাত কোনোমতে সুস্থ করে পুর্ণরায় বাড়িতে আসেন। শুরু হয় তার এক নতুন জীবন সংগ্রাম।

স্থানীয় কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্টানে তার টুকাটুকি নিখুত কাজ দেখে এলাকার শিক্ষিত কিছু বেকার যুবকরা তার কাছে এসব শিখতে আগ্রহী হয়ে উঠে। যার কারনে তিনি ২০০৮ সালে নিজ বাড়িতে কুইক লাইক কম্পিউটার একাডেমী নামে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলেন। কিন্তু পঙ্গুত্বের সেই অজ্ঞাত রোগটি যেন তার পিছনে তাড়া করছে।

২০১২ সালে পূর্ণরায় তার উভয় হাত অচল হয়ে গেলে সমাজের বৃত্তবানদের সহযোগীতায় তিনি ভারতের চেন্নাই শহরের এপোলো হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে প্রায় সাড়ে ৩ মাস চিকিৎসার পর দেশে ফিরে আসলে পর্যায় ক্রমে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল ও রাষ্ট্রপতির তহবিল থেকে আর্থিক অনুদান পেলে কোনোমতে তার চিকিৎসার ব্যায়ভার হয়। কিন্তু বর্তমানে কম্পিউটারে পারদর্শী শারীরিক প্রতিবন্ধী বাহার উদ্দিন স্ত্রী, দু’টি শিশু মেয়ে ও ৫ বছরের একটি ছেলেকে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। কারন পুর্ণরায় সেই অজ্ঞাত রোগটি তার দুটি হাত অচল করে দিয়েছে। তার সাথে কথা হলে কান্না জড়িত কন্ঠে জানান আজ যেন তিনি পরিবারের বোঝা হয়ে গেছেন। বিছানায় পড়ে থাকা বাহার বর্তমানে মেডিসিনের উপর জীবন যাপন করছেন। উর্পাজনহীন পরিবারে প্রতি মাসে তার ৪ হাজার ৬০ টাকার ঔষধের প্রয়োজন হয়। তার একটি মাত্র আকুতি তিনি দুটি হাত সচল করতে চান। এতে প্রয়োজন চেন্নাইয়ের সেই এপোলো হাসপাতাল। কারন তখনকার চিকিৎসকগণ তাকে দুটি হাত অপারেশন করতে বলেছিলেন। এতে হাসপাতালে থাকতে হয় তার দীর্ঘ ৯টি মাস। প্রয়োজন হয় বাংলার প্রায় ৩২ লক্ষ টাকার।

এ ছাড়াও তিনি জানান শুধু চেন্নাইয়ের চিকিৎসকগণ নয় প্রধান মন্ত্রীর ব্যাক্তিগত চিকিৎসক ডা. জুলফিকার লেলিন তাকে বলেছিলেন তা না হলে অদুর ভবিষ্যৎ তার অবশ হয়ে যেতে পারে। এমন চিন্তায় প্রতিবন্ধী বাহারের সামনে এখন ঘোর অন্ধকার নেমে এসেছে। তার শেষ সম্পদ দুটি হাত রক্ষা করতে সমাজের বৃত্তবান, সরকারের উচ্চ পর্যায় ও মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছে। উল্লেখ্য তিনি জিবন সংগ্রামের এই ফাকে দুটি সফটওয়ারের কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু দরিদ্র আর অসুস্থায় তার সেই কাজটি আজও সমাপ্ত হয়নি। তিনি বলেন বড় আশা করেই সফটওয়ার ২টি তার মেয়েদের নামে তৈরী করতে চেয়েছিলেন।

যদি কোন ব্যাক্তি বাহারকে সাহায্যের হাত বাড়াতে চান সঞ্চয়ী হিসাব নং – ৩৮৪২১০১০০৯৬১০ , পূবালী ব্যাংক গাছবাড়ী বাজার শাখা,উপজেলা কানাইঘাট জেলা সিলেট। বাহারের মোবাইল নং : ০১৭১৫১৩৭৪০০

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..