বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শারমিনকে হত্যা

প্রকাশিত: 2:54 PM, November 12, 2018

বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শারমিনকে হত্যা

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের রুমখাঁ চরপাড়া গ্রামের কলেজছাত্রী শারমিন আক্তারকে (১৮) গলা কেটে হত্যা করেছে সন্ত্রাসী নুরুল কবির। দিনের আলোতে ঘরে ঢুকে কলেজছাত্রীকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় চলছে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শারমিনকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল বখাটে নুরুল কবির। এতে রাজি না হওয়ায় ঘরে ঢুকে লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত কলেজছাত্রী স্থানীয় চরপাড়া গ্রামের মৃত আবু তাহেরের কন্যা। সে চলতি বছর রত্নপালং ইউনিয়নের পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে উখিয়া বঙ্গমাতা মুজিব মহিলা কলেজের বাণিজ্য বিভাগের ছাত্রী ছিলেন।

নিহতের মা জাহানারা বেগম জানান, কক্সবাজার এলাকার টেকনাফাইপ্পা পাহাড়ের বাসিন্দা আব্দুল করিমের ছেলে নুরুল কবির (২৮) নামের এক দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী দীর্ঘদিন ধরে আমার মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। সে ডাকাত প্রকৃতির ছেলে। মেয়ে কিছুতেই রাজি ছিল না, মেয়ের ইচ্ছে ছিল পড়ালেখা করবে।

তাছাড়া ছেলেটি সন্ত্রাসী হওয়ায় মেয়ে তাকে এড়িয়ে চলতো। কিন্তু পিছু ছাড়েনি সন্ত্রাসী নুরুল কবির। কলেজে যাওয়া আসার পথে প্রায় শারমিনকে উত্ত্যক্ত করতো। কিন্তু মেয়ে পাত্তা দিতো না তাকে। এতে নুরুল কবির ক্ষুব্ধ ছিল। কিন্তু এভাবে মেয়েকে ঘরে ঢুকে গলাকেটে হত্যা করবে তা জানা ছিল না বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি তার মেয়ে হত্যাকারী নুরুল কবিরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এদিকে, কলেজছাত্রীকে জবাই করে হত্যা করার খবর শুনে এলাকার শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমান। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী হত্যাকারীকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কলেজছাত্রী শারমিন প্রতিদিনের মতো কলেজ ও প্রাইভেট শেষে বাড়িতে ফিরে। ওই সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। খুনি পরিকল্পিতভাবে একা পেয়ে তাকে ঠাণ্ডা মাথায় গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায় বলে তাদের ধারণা। কলেজছাত্রীর লাশ গলাকাটা অবস্থায় ঘরের মেঝেতে পড়ে ছিল। নিহতের মামা হাছান আহমদ সওদাগর জানান, শারমিনের ৩ বোন, ১ ভাইয়ের মধ্যে ২ বোনের বিয়ে হয়েছে। ছোট ছেলে ও ছোট মেয়েকে নিয়ে মা জাহানারা বেগম বাড়িতে একাই থাকতো। অনেক কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করে মেয়ে শারমিনকে উচ্চশিক্ষা দেয়ার জন্য কলেজে ভর্তি করেন। পার্শ্ববর্তী কয়েকজন মহিলা জানান, হত্যাকাণ্ডের সময় শারমিনের মা বাড়িতে ছিল না। অসুস্থ পিতা হাবিবুর রহমানকে দেখতে তার বাপের বাড়িতে যান। এ সুযোগে সন্ত্রাসী কলেজছাত্রী শারমিনকে খুন করে পালিয়ে যায়।  জানা যায়, হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত সন্ত্রাসী নুরুল কবিরের এক বোনের বিয়ে হয় চরপাড়া এলাকায়। এর সুবাদে চরপাড়ায় বোনের বাড়িতে যাতায়াত ছিল নুরুল কবিরের। বোনের বাড়ির কিছু দূরেই শারমিনদের বাড়ি। এ সুযোগকেই কাজে লাগিয়েছে সন্ত্রাসী নুরুল কবির।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল খায়ের বলেন, পরিকল্পিতভাবে কলেজছাত্রী শারমিনকে পৈশাচিকভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..