সিলেট ১৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৯শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১২:২০ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৮
কবিরাজি চিকিৎসায় বাবলীর অবস্থার উন্নতির পরিবর্তে অবনতি হলে রোগাক্রান্ত শিশুকে নিয়ে স্থানীয় ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার তার রোগটি শনাক্ত করতে পারেননি। এমতাবস্থায় শিশু বাবলীর পা ফুলে মারাত্মক আকার ধারণ করে। এতে যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে বাবলী। তা দেখে ২০১৬ সালে স্থানীয় লোকজন চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকাকালে শিশুটির রোগ শনাক্ত করতে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হলেও শিশুটির রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে চিকিৎসকরা রোগাক্রান্ত বাবলীর রোগ নির্ণয়ের জন্য তার পায়ের কিছু অংশ কেটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে আসা রিপোর্টে কি ধরা পড়েছিল তা জানাতে পারেননি শিশুটির মা। তবে, চিকিৎসকরা শিশুটিকে সুস্থ করতে পা কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু তাতে তিনি রাজি না হওয়ায় হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকরা শিশুটিকে ভারতের মাদ্রাজ নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলে তিনি তার শিশু সন্তান বাবলীকে নিয়ে বাড়িতে চলে আসেন। বর্তমানে বাড়িতে রেখে তার মা কবিরাজি ও পল্লী চিকিৎসা করাচ্ছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুটির মা খাতুন বেগম বলেন, জ্বালানি লাকড়ি সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে ভাত খাই। কেমনে আমার বুকের ধনকে ভারত নিয়া চিকিৎসা করাইতাম। রোগাক্রান্ত শিশু বাবলীর চিকিৎসার প্রধান বাধা পরিবারের অসচ্ছলতা। এর ফলে বিরল রোগের যন্ত্রণায় বিছানায় ছটফট করছে। তা দেখে হাউমাউ করে কান্নাকাটি করতে করতে বাবলীর মাও আজ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। রোগ যন্ত্রণায় একদিকে শিশু বাবলী ছটফট করছে অন্যদিকে সন্তানের জন্য মায়ের আর্তনাদ ভারি করছে পরিবেশ। পিতাহারা অসহায় এই শিশুটির চিকিৎসায় সরকার বা ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসলে হয়তো নতুন জীবন ফিরে পাবে শিশু বাবলী।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd