কমলগঞ্জে বিরল রোগে আক্রান্ত শিশু বাবলী

প্রকাশিত: ১২:২০ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৮

কমলগঞ্জে বিরল রোগে আক্রান্ত শিশু বাবলী
মোঃ মালিক মিয়া, কমলগঞ্জ থেকে :: কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছতিয়া গ্রামে বাবলী বেগম নামের সাত বছরের এক শিশু বিরল রোগে আক্রান্ত হয়েছে। দুই বছর বয়সে শিশুটি বিরল রোগে আক্রান্ত হয়। কিন্তু পরিবারের অসচ্ছলতার কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। ফলে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে বিরল রোগে আক্রান্ত শিশু বাবলী যন্ত্রণায় ছটফট করছে।
কমলগঞ্জের ছতিয়া গ্রামের মকরম আলীর কন্যা খাতুন বেগমকে বিয়ে করেন সিলেটের বিয়ানীবাজারের প্রেম গ্রামের চান্দু মিয়ার পুত্র সফর মিয়া। তাদের সংসারে এক পুত্র ও চার কন্যা সন্তানের মধ্যে শিশু বাবলী বোনদের মধ্যে ছোট। শিশু বাবলী বিরল রোগে আক্রান্ত হলে স্ত্রী-সন্তানদের রেখে সফর চলে গেলে পাঁচ সন্তান নিয়ে কমলগঞ্জের ছতিয়া গ্রামে বাপের বাড়িতে উঠেন। শিশুটির মা খাতুন বেগম জানান, বাবলীর বয়স যখন দুই বছর তখন তার ডান পায়ে প্রথমে ব্যথা হয়। পরে ধীরে ধীরে পা ফুলে গেলে তিনি শিশু কন্যা বাবলীকে নিয়ে প্রথমে কবিরাজের দ্বারস্থ হন।

কবিরাজি চিকিৎসায় বাবলীর অবস্থার উন্নতির পরিবর্তে অবনতি হলে রোগাক্রান্ত শিশুকে নিয়ে স্থানীয় ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার তার রোগটি শনাক্ত করতে পারেননি। এমতাবস্থায় শিশু বাবলীর পা ফুলে মারাত্মক আকার ধারণ করে। এতে যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে বাবলী। তা দেখে ২০১৬ সালে স্থানীয় লোকজন চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকাকালে শিশুটির রোগ শনাক্ত করতে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হলেও শিশুটির রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে চিকিৎসকরা রোগাক্রান্ত বাবলীর রোগ নির্ণয়ের জন্য তার পায়ের কিছু অংশ কেটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে আসা রিপোর্টে কি ধরা পড়েছিল তা জানাতে পারেননি শিশুটির মা। তবে, চিকিৎসকরা শিশুটিকে সুস্থ করতে পা কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু তাতে তিনি রাজি না হওয়ায় হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকরা শিশুটিকে ভারতের মাদ্রাজ নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলে তিনি তার শিশু সন্তান বাবলীকে নিয়ে বাড়িতে চলে আসেন। বর্তমানে বাড়িতে রেখে তার মা কবিরাজি ও পল্লী চিকিৎসা করাচ্ছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুটির মা খাতুন বেগম বলেন, জ্বালানি লাকড়ি সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে ভাত খাই। কেমনে আমার বুকের ধনকে ভারত নিয়া চিকিৎসা করাইতাম। রোগাক্রান্ত শিশু বাবলীর চিকিৎসার প্রধান বাধা পরিবারের অসচ্ছলতা। এর ফলে বিরল রোগের যন্ত্রণায় বিছানায় ছটফট করছে। তা দেখে হাউমাউ করে কান্নাকাটি করতে করতে বাবলীর মাও আজ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। রোগ যন্ত্রণায় একদিকে শিশু বাবলী ছটফট করছে অন্যদিকে সন্তানের জন্য মায়ের আর্তনাদ ভারি করছে পরিবেশ। পিতাহারা অসহায় এই শিশুটির চিকিৎসায় সরকার বা ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসলে হয়তো নতুন জীবন ফিরে পাবে শিশু বাবলী।

Sharing is caring!

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

September 2018
S S M T W T F
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  

সর্বশেষ খবর

………………………..