সিলেটে কোরবানীর পশুর বাজার, পথে পথে চাঁদাবাজি লুটতরাজ

প্রকাশিত: ১২:৫৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৮

সিলেটে কোরবানীর পশুর বাজার, পথে পথে চাঁদাবাজি লুটতরাজ

স্টাফ রিপোর্টার :: ঈদের আর মাত্র দুদিন বাকি। এরই মধ্যে গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ বিক্রেতারা। দিশেহারা ক্রেতারাও। ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজি ও জোরপূর্বক গাড়ি থেকে গরু নামিয়ে দেয়ার ঘটনায় উদ্বিগ্ন ছোট বড় ব্যবসায়ীরা। নগরীর প্রবেশ দ্বারে গড়ে উঠা অস্থায়ী বাজারগুলোতে ঘটছে এসব ঘটনা। ফলে সিলেটের বৃহত্তম পশুর হাট কাজিরবাজারে আশানুরূপ গরু নিয়ে আসতে পারছেন না বিক্রেতারা। অন্যদিকে, গতকাল শনিবার নগরীর শাহী ঈদগাহ দলদলি রাবার এলাকায় অস্থায়ী পশুর হাট ভেঙে দিয়েছে সিলেট সদর উপজেলা প্রশাসন। এবার সিলেট শহরে প্রবেশের পথে বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী গরুর হাট ইজারা দিয়েছে সিলেট সদর উপজেলা প্রশাসন। এসব হাটে গরু নামাতে গিয়ে চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে ইজারাদারের বাহিনী। দূর-দূরান্ত থেকে ট্রাকে করে আসা গরুর গাড়ি আটকে দিচ্ছে তারা। অন্যথায় তারা টাকা নিচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে বাদ পড়ছেন না সাধারণ কৃষকরাও। দুপুরে নগরীর কাজিরবাজারে গরু নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন কান্দিগাঁও ইউনিয়নের তিলকপুর এলাকার আকবর আলী। টুকেরাবাজার পেরিয়ে কুমারগাঁও আসার আগেই তার দুটি গরু ঘিরে ধরে এক দল যুবক। টেনে হেঁচড়ে অস্থায়ীভাবে স্থাপিত বাজারে নিয়ে যায়। পরে তিনি কাকুতি মিনতি করে কোন রকমে ছাড়া পেয়ে কাজিরবাজারে যান। আকবর আলীর অভিযোগ, ঘরের গরু, দুটি টাকা বেশি পাওয়ার আশায় বেরিয়েছেন। ইজারাদারদের আচরণে কষ্ট পেয়েছেন তিনি। এয়ারপোর্ট এলাকায় পিকআপ ভ্যান দিয়ে গরু আনার সময় ছিনতাইর ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন খাদিমনগর ইউনিয়নের চাতলীবন্দ গ্রামের মেহের আলী নামক এক ব্যবসায়ী। তিনি অভিযোগ করেন স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী হেলাল তার কাছ থেকে ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে পুলিশ তার গরু উদ্ধার করে। বড়শালা এলাকায় ইজারাদারদের লোকজন, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ এবং সদর উপজেলার একাংশ থেকে নিয়ে আসা গরু আটকে দিচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষেরও নজরে আনা হয়েছে। এছাড়া, শহরতলীর শাহপরান এলাকা, দক্ষিণ সুরমাসহ আরো কিছু এলাকায় বেপারী-পাইকার এমনকি কৃষকদের গরু প্রবেশে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। কাজিরবাজারের ফয়জুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, এভাবে চলতে থাকলে আমরা ব্যবসায়ীরা হয়তো কৌশল বদলে ফেলব। গরু আনতে যাব না। তবে ঠকবেন সাধারণ ক্রেতারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের যে যেখানে ইচ্ছে যাওয়ার নিশ্চয়তা না দিলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বাজার অস্থির থাকতে পারে। আখালিয়া এলাকার আব্দুর রহমান জানান, তিনি একটু আগে ভাগেই গরু কিনতে এসেছেন। তবে কেন জানি বাজারের তাল মিলছে না। যে যার ইচ্ছেমতো দাম হাঁকছে। দাম একটু বেশি বলেই দাবী করেন তিনি। অপরদিকে, শাহী ঈদগাহ এলাকায় দলদলি চা বাগানের রাবার বাগানের মধ্যে বসানো অবৈধ পশুর হাট উচ্ছেদে ৪ ঘণ্টা অভিযান চালিয়েছে সদর উপজেলা প্রশাসন। গত শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে অভিযান চালিয়ে প্রথমে হাট সরিয়ে নিতে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে হাট না সরানোয় বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে এই হাট উচ্ছেদে নামে উপজেলা প্রশাসন। ৪টা থেকে শুরু করে রাত ৮ টা পর্যন্ত চলে উচ্ছেদ অভিযান। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজাম মুনীরা। এ উচ্ছেদ অভিযানে বিমানবন্দর থানার ওসি গৌছুল হোসেনের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য অংশ নেয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজাম মুনিরা তখন গণমাধ্যমের কর্মীদের জানান, সরকারি এই চা বাগানে পশুর হাট বসাতে জেলা প্রশাসন থেকে কোন অনুমোদন নেয়া হয়নি। ফলে এ হাটের বিষয়টি অবগত হয়ে অভিযান চালায় সদর উপজেলা প্রশাসন। তিনি বলেন, এখানে কোন বাজার বসতে দেয়া হবে না।

Sharing is caring!

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..