আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শাহজালাল (র.)-এর ৬৯৯তম ওরস

প্রকাশিত: ৩:২৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩, ২০১৮

আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শাহজালাল (র.)-এর ৬৯৯তম ওরস

স্টাফ রিপোর্টার :: ওলিকুল শিরোমণি মানব সাধক হযরত শাহজালাল (র.)-এর ৬৯৯তম বার্ষিক ওরস শরীফ বুধবার রাতের প্রথম প্রহর থেকে শুরু হয়। এতে হাজার হাজার ভক্ত-আশেকান অংশ নেন। ভক্তদের মুখে ছিল আল্লাহু, আল্লাহু জিকির ও শাহজালাল, শাহজালাল ধ্বনি। দু‘দিনব্যাপী ওরসের আজ শুক্রবার ভোর রাত ৩টায় আখেরী মোনাজাত ও ফজরের নামাজের পর শিরনী বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ওরস।

প্রতি বছর হিজরি মাসের ১৯ ও ২০ জিলক্বদ হযরত শাহজালাল (র.)-এর ওফাতবার্ষিকী উপলক্ষে মাজারে দু‘দিনব্যাপী ওরস অনুষ্ঠিত হয়। ওরস উপলক্ষে দেশ-বিদেশ থেকে ২০-৩০ সহস্রাধিক লোকের সমাগম ঘটে সিলেট নগরীতে।

ওরস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে সিলেট আওয়ামী লীগের নেতারা বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় মাজারে উপস্থিত হয়ে গিলাফ প্রদান করেন। এসময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদের সাথে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল আনোয়ার আলাওর, মহানগর কৃষকলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হোসাইন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল রকিব বাবলু, সিলেট মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক আলম খান মুক্তি, যুবলীগ নেতা মুশফিক জায়গীরদার, মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি এম রশিদ আহমদসহ স্বেচ্ছাসেবকলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের বিভিন্নস্তরের নেতাকর্মীরা।

ওরস উপলক্ষে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে শাহজালাল (রহ.) এর মাজারে গিলাফ প্রদান করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সদ্য সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ফলাফলে এগিয়ে থাকা সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।বৃহস্পতিবার বিকেলে গিলাফ প্রদানের পর দরগাহ হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে কারাগারে বন্ধি বেগম খালেদা জিয়া’র দীর্ঘায়ু ও মুক্তি কামনা করা হয়।

এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ সভাপতি মাহবুবুল হক চৌধুরী (ভিপি মাহবুব), সিলেট জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক সুরমান আলী, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মুফতি রায়হান উদ্দিন মুন্না, বিএনপি নেতা ফাহিম আহমদ, সাবেক ছাত্রদল নেতা এখলাছুর রহমান মুন্না সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবারের ন্যায় এবারও বিপুলসংখ্যক লোক সমাগম ঘটে। গতকাল আসরের নামাজের পর মাজার এলাকায় ভিড় বাড়তে থাকে। মাগরিবের নামাজের পর তিল ধারণের ঠাই ছিল না মাজার এলাকায়। অনেককেই হোটেলে সিট না পেয়ে মাজার ও হোটেলের বারান্দায়, ট্রাকের উপর পলিথিন টাঙ্গিয়ে রাত কাটাতে দেখা যায়।

রাত যত বাড়ে ভক্তদের ভিড়ও বাড়তে থাকে। রাতভর জিকির-আজকার, কোরআন খতম, মিলাদ ও দোয়া চলে। ভক্তদের অনেকেই গতকাল রাতে নগরীর অদূরে খাদিম এলাকায় আরেক ওলি হযরত শাহ পরান (র.)-এর মাজার জিয়ারত করতে যান। রাতভর খাদিম রাস্তাটি ছিল অত্যন্ত ব্যস্ত।

ওরস উপলক্ষে সিলেটে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। ওরসের শিরনীর জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ৬০টির বেশি গরু-ছাগল জবাই করা হয়।

দু‘দিনব্যাপী ওরসকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লোকজনের পদচারণায় সিলেট উত্সবের নগরীতে পরিণত হয়।

সিলেটে হযরত শাহজালালের আগমন

এই উপমহাদেশে ইসলাম প্রচারের অন্যতম কাণ্ডারি হযরত শাহজালাল (র.) ৭১১ বছর আগে অর্থাত্ ১৩০৩ খ্রিষ্টাব্দে সিলেটে এসেছিলেন। সিলেটে তার আগমনের প্রেক্ষাপট ঐতিহাসিক দিক দিয়ে অনেক গুরুত্ব বহন করে। তিনি সূদূর ইয়েমেন থেকে এসেছিলেন তত্কালীন ভারতবর্ষে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে। সেই আগমনেরও বহু কাহিনী রয়েছে। বলা হয়ে থাকে এই সাধক ৪০-৪১ বছর সিলেটে ইসলাম প্রচার ও মহান আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন ছিলেন। ৭৪৭ হিজরী, ১৩৪৭ খিষ্টাব্দে তিনি ওফাতপ্রাপ্ত হলে তার অবস্থানস্থল বর্তমান দরগা মহল্লা এলাকায় তাকে সমাহিত করা হয়।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..